‘ট্রেনের কামরায় মশারি টাঙিয়ে যেতেন’ (পত্রিকা, ৫-১) শীর্ষক প্রমথেশ বড়ুয়ার উপর নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ‘মুক্তি’ই প্রথম ছবি, যেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহার করা হয়েছিল। এই তথ্য ঠিক নয়। ‘মুক্তি’ ছবিটি ১৮-৯-১৯৩৭ তারিখে মুক্তি পেয়েছিল। এর আগে ‘দস্তুরমত টকী’ ছবিটি মুক্তিলাভ করে ১৪-১-১৯৩৭ তারিখে। এখানে দু’টি রবীন্দ্রসঙ্গীত ছিল। ‘আমার বেলা যে যায়’ এবং ‘তোমার মোহনরূপে’। এই ছবিটির বিকল্প নাম ছিল ‘টকি অব টকিজ়’। এর পরিচালক ছিলেন শিশিরকুমার ভাদুড়ি এবং প্রযোজক কালী ফিল্মস। ছবিটিতে শিশির ভাদুড়ি, কঙ্কাবতী, অহীন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ অভিনয় করেন।

‘দস্তুরমত টকী’ ও ‘মুক্তি’ হল অ-রাবীন্দ্রিক কাহিনি, যাতে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এর আগে, দু’টি রবীন্দ্র-কাহিনিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহৃত হয়েছিল। নিউ থিয়েটার্স থেকে ‘নটীর পূজা’ (২২-৩-১৯৩২) ও ‘চিরকুমার সভা’ (২৮-৫-১৯৩২) ছবিগুলি নির্মিত হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের কাহিনি অবলম্বনে। ওই দু’টি ছবিতে অনেকগুলি রবীন্দ্রসঙ্গীত ছিল। ‘নটীর পূজা’ ছবিতে উপালীর চরিত্রে রবীন্দ্রনাথ অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি তিনি পরিচালনাও করেছিলেন।

শ্রীশঙ্কর ভট্টাচার্য

কলকাতা-৩৯

 

বর্ষবরণ

বিশ্ব জুড়ে অজস্র জায়গায় কোটি কোটি টাকার আতসবাজির সমারোহের মধ্য দিয়ে ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করা হল। টিভির সরাসরি সম্প্রচারে সিডনি, রিয়ো, অকল্যান্ডের মতো জায়গাগুলির জমকালো আতসবাজির বর্ণময় ছটা চোখ ধাঁধিয়ে দিল আমাদের। আপ্লুত হয়ে আমরা প্রতি বারের মতো শপথ নিলাম, পৃথিবীকে নির্মলতর, সুন্দরতর, উন্নততর নতুন বছর উপহার দেব। কিন্তু বেমালুম ভুলে গেলাম, বর্ষবরণের নামে টন টন আতসবাজি পুড়িয়ে পৃথিবীর ফুসফুসে গ্যালন গ্যালন বিষাক্ত গ্যাস পুরে দিলাম। অনেকে বলবেন, বর্ষবরণের আনন্দে এটুকু মানতে হয়। কিন্তু, একটু একটু করে মানতে গিয়ে আমাদের সর্বনাশের ঘড়া যে পূর্ণ হতে চলেছে। আমরা কি পারি না, মানসিকতায় বদল ঘটিয়ে পৃথিবীতে দূষণহীন ভাবে নতুন একটি বছরকে স্বাগত জানাতে?

প্রণব কুমার মাটিয়া

রাজরাজেশ্বরপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

বই দিবস

২ জানুয়ারি বই দিবসের দিন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তামাক স্পর্শ না করার শপথ পাঠ করার জন্য সরকারি নির্দেশিকা চলে এল। সরকারি এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন, ২০০৩ সালে আইন অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে বিড়ি সিগারেট-সহ তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বা সেবন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু রাজ্যে বেশির ভাগ বিদ্যালয় সংলগ্ন একশো মিটারের মধ্যে অবাধে প্রকাশ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। সেখানে প্রশাসন উদাসীন কেন? 

দ্বিতীয় প্রশ্ন, শপথে শুধু তামাক কেন? মদ কেন নয়? বর্তমান কিশোর থেকে যুবসমাজ মদ্যপানে আকৃষ্ট হচ্ছে বেশি। শপথবাক্যে মদ রাখলে কি ক্ষতি হত? না কি সরকারি কোষাগারে ভাটা পড়ার আশঙ্কা?

শ্রীমন্ত কুমার দাস

বামনাসাই, পশ্চিম মেদিনীপুর

 

বাংলার দশা

বিশ্বজিৎ রায়ের ‘বাংলা পড়লে ক্লাসে হাজিরা জরুরি নয়’ (৯-১১) প্রবন্ধ সম্বন্ধে কিছু বক্তব্য। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পঠনপাঠন, গবেষণা এবং বাঙালি জীবনে তার প্রতিষ্ঠার প্রসূতিগৃহ হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আধুনিক ভারতীয় ভাষা বিভাগ’। প্রবেশিকা পরীক্ষা থেকে এমএ পরীক্ষা পর্যন্ত বাংলায় যে স্বীকৃতি ঘটেছে, তার প্রধান প্রয়াস এই বিভাগের। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি দানের ব্যবস্থা করেছিলেন মহাপ্রাণ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং পণ্ডিতপ্রবর দীনেশ চন্দ্র সেন। তাঁদের একান্ত আগ্রহ ও প্রয়াসে ১৯২০ সালে বাংলায় এমএ পরীক্ষা গৃহীত এবং ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

তখন কী ভাবে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং কী ভাবে তার বিবর্তন ঘটেছে, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষা গ্রহণ কী ভাবে চলত, তার প্রমাণ পাওয়া যায় অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি প্রবন্ধে। তিনি তাঁর প্রবন্ধে বাংলা এমএ-র প্রথম বছরের পাঠ্যক্রম উদ্ধৃত করেছেন। 

‘‘প্রথম পত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস। প্রাচীন যুগ হতে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত। বিশেষ যুগ ষোড়শ শতাব্দীর সাহিত্য। নির্ধারিত গ্রন্থ (ক) দীনেশ চন্দ্র সেন, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, (খ) ঐ, History of Medieval Vaishnava Literature, (গ) ঐ, Sri Chaitanya and his companions. দ্বিতীয় পত্র: (ক) বঙ্গ সাহিত্য পরিচয় ১ম ভাগ (দীনেশ চন্দ্র সেন সম্পাদিত)। তৃতীয় পত্র: চণ্ডীমঙ্গল, মেঘনাদ বধ কাব্য। চতুর্থ পত্র: (ক) বাংলা গদ্য রীতির বিবর্তন ১৮০০-১৮৫৭, (খ) বাংলা সাহিত্যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব ১৮৫৭-১৮৮০। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পত্রে পাঠ্য গ্রন্থের উপর এক চতুর্থাংশ নম্বর এবং পাঠ্য বহির্ভূত অংশের উপর এক চতুর্থাংশ নম্বর থাকিত। পঞ্চম ও ষষ্ঠ পত্র— বিকল্প ভাষা (Subsidiary Language), সপ্তম পত্র: মৌলিক ভাষা (পালি প্রকৃত), অষ্টম পত্র: ভাষাতত্ত্ব ও ব্যাকরণ।’’

১৯২০ সালে সমগ্র প্রশ্নপত্র ইংরেজিতে মুদ্রিত হয়েছিল এবং প্রশ্নপত্রে পরীক্ষকের নামও মুদ্রিত ছিল। ১৯২০-তে প্রবর্তিত পাঠ্যক্রম ১৯৪০ পর্যন্ত প্রায় এক রূপই ছিল। ১৯৪১-এ ‘পাঠ সংস্কারে কিছু মৌলিক পরিবর্তন’ ঘটে। ১৯৫৩ সাল থেকে সমগ্র প্রশ্নেই বাংলা ভাষা ব্যবহৃত হতে থাকে।

বাংলা ভাষার জন্য স্যর আশুতোষ সারা জীবন অসাধারণ সংগ্রাম করেছিলেন, বাংলা ও বাঙালির কল্যাণের জন্যই তিনি এন্ট্রান্স থেকে এমএ পর্যন্ত বাংলা অভাবিতপূর্ব গুরুত্বদান করেছিলেন। কিন্তু এক শ্রেণির শিক্ষিত বাঙালির বাংলা সম্পর্কে কী মনোভাব ছিল অধ্যাপক প্রমথনাথ বিশী তা বাস্তব ঘটনা থেকে উল্লেখ করেছেন: ‘‘আমি যখন বাংলায় এম এ পাশ করলাম একজন হিতৈষী গুরুজন পরামর্শ দিয়েছিলেন— বাপু হে, যা করেছ করেছ (যেন ঘোর কোন দুষ্কর্ম করেছি) তবে চাকুরির দরখাস্ত করবার সময়ে ওটা আর লিখোনা। ঐ যে ইংরেজীতে অনার্স পেয়েছ, ওটাই লিখো সুফল হতে পারে। আর একজন বাংলায় এম এ পাশ করেছি শুনে প্রথমটা স্তম্ভিত হয়ে গেলেন এবং অট্টহাস্য করে উঠলেন। হাসির ধমক ক্ষান্ত হলে বললেন— আশু মুখুজ্জের কাণ্ড দেখো, অবশেষে বাংলায় এম এ করে বসলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কি!’’

এ ঘটনা ১৯৩২ সালের। এই ছিল বাংলায় এমএ সম্বন্ধে তখন শিক্ষিত বাঙালির মনোভাব।

সানোয়াজ খান

নাকোল, হাওড়া

 

হিন্দু কলেজেও

হিন্দু কলেজেও বাংলা ক্লাসের কোনও গুরুত্ব ছিল না। সেখানে কেমন ছিল বাংলা শিক্ষার হাল? স্বপন বসু তাঁর ‘বাংলার নবচেতনার ইতিহাস’ বইয়ে সে সম্পর্কে লিখেছেন— ‘‘হিন্দু কলেজে বাংলা পড়ানো হত দিনের শেষ ভাগে। এই সময়ে ছাত্রদের প্রায়ই ছুটি দিয়ে দেওয়া হত বাড়িতে পড়ে নেওয়ার জন্য। হিন্দু কলেজের বাংলার শিক্ষক এক সময় রামকমল সেনের রাঁধুনি-বামুন ছিলেন, তিনি চমৎকার রান্না জানলেও বাংলা ভাল জানতেন কি— অন্তত ছাত্রদের আকৃষ্ট করার মতো? রাজনারায়ণ বসুরা যে তাঁর সঙ্গে রান্নার গল্প করে সময় কাটাতেন তা তিনি তাঁর ‘আত্মচরিত’-এই উল্লেখ করেছেন। ১৮৪৪-এ আবগারি বিভাগের কমিশনার দুঃখের সঙ্গে জানান, বাঙালি ছেলেরা মাতৃভাষা চর্চায় একেবারেই আগ্রহী নয়। তাঁর অফিসে রাজেন্দ্রনাথ মিত্র নামে হিন্দু কলেজের একটি ভাল ছাত্র কর্মরত। কিন্তু সে স্বচ্ছন্দে বাংলা পড়তে পর্যন্ত পারে না।’’

উত্তম কুমার পতি

শালডিহা, বাঁকুড়া

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।