সংসদের চলতি অধিবেশনে রাজ্যের এক বর্ষীয়ান সাংসদ সুন্দরবনে বাঘ সাফারি গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী সেই প্রস্তাবে তাঁর সম্মতি প্রকাশ করে, রাজ্যের তরফে প্রকল্পের প্রস্তাব আহ্বান করেছেন এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প রূপায়ণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য, বিদেশি পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণে আগ্রহী করা এবং বিদেশি মুদ্রা রোজগারের সংস্থান। এ প্রসঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাঘ ও সিংহ সাফারির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, প্রস্তাবক এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কি সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত? 

পৃথিবীর, এমনকি ভারতের অন্যান্য ব্যাঘ্রপ্রকল্পের তুলনায় সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুন্দরবন পৃথিবীর একমাত্র ম্যানগ্রোভ বনভূমি, যেখানে বাঘ বিচরণ করে এবং এখনও টিকে আছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই বাদাবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে পর্যটন মরসুমের চার মাসে কয়েক লক্ষ দেশি ও বিদেশি পর্যটক সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাত্র কয়েক শত বর্গ কিমি এলাকায় দাপিয়ে বেড়ান। এ ছাড়াও নানা কারণে সুন্দরবনের নদী-খাঁড়ি— যা ইতিমধ্যে ‘রামসার সাইট’-এর অন্তর্ভুক্ত— তাতে বাড়ছে দূষণের মাত্রা, হারিয়ে যাচ্ছে উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি। 

এর পর যদি সুন্দরবনকে বাঘ সাফারির মাধ্যমে পর্যটনের অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র হিসেবে হাট করে খুলে দেওয়া হয়, তার পরিণতি সুন্দরবনের অতি সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের পক্ষে সুখকর হবে বলে মনে হয় না। কয়েক বছর পূর্বে ‘সহারা ইন্ডিয়া’র সুন্দরবন পর্যটন প্রকল্প তৎকালীন সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বাতিল হয় এবং তাতে সুন্দরবনবাসী, বিশেষত সুন্দরবনের বনজ ও জলজ সম্পদ আহরণকারী কয়েক হাজার পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

বাঘ সাফারির প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হতে পারে। এমনকি পছন্দসই সংস্থা নিয়োগ করে পরিবেশের প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করিয়ে নিতে কোনও অসুবিধা হবে না। ব্যাঘ্র প্রকল্প সন্নিহিত ঝড়খালিতে বিসদৃশ পর্যটন পরিকা‌ঠামো নির্মাণের নিদর্শন এই সম্ভাবনাকে পুষ্ট করে।

জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি, চোরাশিকার এবং মনুষ্যসৃষ্ট দূষণের কারণে সুন্দরবন বদ্বীপ পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম বিপন্ন উপকূল অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বনভূমি, যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিধায় ভূষিত, তার বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান জরুরি। কেবল বিদেশি মুদ্রা রোজগারের লক্ষ্যে সংবেদনশীল ও বিপন্ন সুন্দরবন বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্নতর করে তোলা সঠিক পদক্ষেপ নয়।

সুভাষচন্দ্র আচার্য

প্রাক্তন যুগ্ম অধিকর্তা, সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ

 

চালু কথা

‘ওঁদের জীবন বাঁধা ছিল গোলামির চক্রে’ (১১-৮) শীর্ষক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে ‘বাঁধা মজদুরি (বন্ডেড লেবার)’। বাংলায় শ্রম সংক্রান্ত ব্যাপারে ‘বাঁধা’ শব্দটির প্রয়োগ হয় ‘স্থায়ী’ বোঝাতে। যেমন, ‘বাঁধা মাইনের চাকরি’। এখানে যে ইংরেজি শব্দবন্ধের অনুবাদ করতে চাওয়া হয়েছে, তার অর্থের সঙ্গে এই অর্থ মেলে না। কিন্তু নতুন শব্দ তৈরি করার এখানে কোনও প্রয়োজনই ছিল না। বাংলায় এই অর্থে যা বলা হয়, তা হল ‘বেগার খাটা’। চেনা কথা, চালু কথা, সেটা লিখলেই চলে।

পলাশ বরন পাল

ইমেল মারফত

 

তৃতীয় ভাষা

সম্প্রতি আমাদের রাজ্যের সমস্ত স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই প্রথম সরকারি ভাবে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জন্য প্রগতিপত্র পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণির প্রগতিপত্রে প্রথম এবং দ্বিতীয় ভাষায় নম্বর বসানোর জায়গা থাকলেও, তৃতীয় ভাষার জন্য কোনও জায়গা রাখা হয়নি। অথচ বহু স্কুলে তৃতীয় ভাষা হিসেবে সংস্কৃত, হিন্দি, আরবি ইত্যাদি পড়ানো হয়। তা হলে কি আবার সরকারি ভাবে এর কোনও সংশোধন আসবে, না নিজেদের মতো করে সংশোধন করে নিতে হবে? এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশিকা পেলে সঠিক মার্কশিট তৈরি করতে স্কুলের সুবিধা হবে।

অরুণ মালাকার 

বেড়ামারা রামচন্দ্রপুর হাইস্কুল

 

আত্মসম্মান

আগে আত্মসম্মানবোধ না থাকলে নেতা হওয়া যেত না। আজকাল আত্মসম্মানবোধ থাকলে বোধ হয় নেতা হওয়া যায় না। এই সত্য বর্তমান নেতানেত্রীদের আচরণে প্রকাশ পাচ্ছে। সদ্য হওয়া নেতা, পুরনো অভিজ্ঞ নেতাকে ফ্রিজে রাখা বাজারের আনাজের সঙ্গে তুলনা করে, তাঁকে প্রয়োজনে দল থেকে বার করে দেওয়ার কথাও বলছেন, তা শুনে অভিজ্ঞ নেতা গুড বয়ের মতো তাঁরই দরজায় কড়া নাড়ছেন ক্ষমতার লোভে। বাঃ, ক্ষমতা, তুমি কত মধুর!

আশীষ চক্রবর্তী

ধাড়সা কাঁটাপুকুর, হাওড়া

 

যৌথ তালিকা

আইনশৃঙ্খলাকে সংবিধানের যৌথ তালিকায় নিয়ে আসার দাবির পিছনে যুক্তি রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘‘ক্রমশ বেড়ে চলা আন্তঃরাজ্য অপরাধ মোকাবিলায়, আইনশৃঙ্খলাকে যৌথ তালিকায় নিয়ে আসার পক্ষে যুক্তি দেওয়া যায়।’’

মাননীয় বিচারপতির এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। দু’বছর আগে এনডিএ সরকারের নীতি আয়োগও এর পক্ষে সওয়াল করেছিল। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা সংবিধানে রাজ্যের বিষয়। সেখানে কেন্দ্র নাক গলালে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর একঘেয়ে রেকর্ড বাজিয়ে রাজ্য ফোঁস করে ওঠে। সাধারণত আঞ্চলিক দল শাসিত কোনও রাজ্য সরকার এই সম্ভাবনায় রে-রে করে ওঠে। আসলে তারা মনে করে পুলিশ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাজনিত রাজ্যের মানুষের সমস্যায় অন্য কাউকে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ কেন করে দেওয়া হবে? ভেবে দেখলে বোঝা যায়, যে কোনও রাজ্যের মানুষ আসলে একটি দেশের নাগরিক। রাজ্যের প্রশাসন যদি একটি পর্যায় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর তত্ত্ব মেনেই রাজ্যের মানুষকে, মানে ভারতের এক নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে বা রাজ্য তথা দেশের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধের জন্য রাজ্য সরকারকে সাহায্য করতে তো কেন্দ্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। এখানে ইগো-র লড়াইয়ে মেতে ‘হস্তক্ষেপ’-এর মতো ঝগড়াটে শব্দ আমদানি করার দরকার কী? 

প্রণব রাহা

দুর্গাপুর

 

নীতি বলে কিছু

এটা এখন ফ্যাশন হয়েছে যে, কাউকে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ তোলা হয়, তিনি সুযোগ খোঁজেন এক ঘর ছেড়ে আর এক ঘরে ঠাঁই নিতে। দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তেরা সম্ভবত বুঝে যান, কী অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য। তার পর তাঁরা দোহাই দেন, ‘‘এ-দলে জনগণের ভাল করার সুযোগ নেই, ও-দলে আছে’’, কিন্তু সে-সব হাসির উদ্রেক করে। যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত জারি রয়েছে, সেই সব অভিযুক্তদের দলে নিয়ে জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে দলগুলো? অন্য দলে থাকার সময় যে লোকটার কাজকে দুর্নীতি বললাম, তাকে নিজের সংগঠনের স্বার্থে আর তখত দখলের হিসেব কষে নির্দ্বিধায় হজম করলাম! তা হলে বলতে হয়, যত দুর্নীতি ঘটে গিয়েছে, সব ‘রাজনৈতিক স্পনসরশিপ’-এ মাফ হয়ে যাবে। জনগণ শুধু ভোট উৎসবের নামে হাত তুলে মিছিল করে বুড়ো আঙুল চুষবে! ধন্য রাজনীতি! নীতি বলে আর কিছু রইল কি!

সৌম্যেন্দ্র নাথ জানা

কলকাতা-১৫৪

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।