Advertisement
E-Paper

ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত খাবারের চেয়েও লিভারের জন্য ক্ষতিকর, কোন খাবারটি নিয়ে সতর্ক হবেন

ভাজাভুজি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের চেয়েও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে লিভারের জন্য। তা হল ফ্রুক্টোজ়। কোন খাবারে থাকে ফ্রুক্টোজ়?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩০
Why Fructose Causes More Liver Damage Than Fried Foods

লিভারের ক্ষতি রুখতে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? ছবি: সংগৃহীত।

লিভারের জন্য ক্ষতিকর পানীয়ের তালিকায় সবচেয়ে আগে নাম আসে মদের। তবে চিকিৎসকদের চিন্তার কারণ নন-অ্যাকোহলিক ফ্যাটি লিভার। মদ্যপান না করলেও লিভারে ফ্যাট জমে এ ক্ষেত্রে, আর তা পরবর্তীতে সিরোসিস অফ লিভারের দিকেও গড়াতে পারে।

ধূমপান, মদ্যপান ছাড়াও লিভারের ক্ষতি করে জাঙ্ক ফুড, ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার। চিকিৎসকেরা তাই খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে সতর্ক হতে বলেন। তবে এর বাইরেও রয়েছে এক উপাদান, যা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জুড়ে যায় অজান্তেই। আর তা ভাজাভুজি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের চেয়েও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে লিভারের জন্য। এটি হল ফ্রুক্টোজ়। এটি হল এক ধরনের শর্করা। ফলে থাকে ফ্রুক্টোজ়, তবে তা তেমন ক্ষতি করে না। কিন্তু চকোলেট, ক্যান্ডি, কৃত্রিম ফলের রস, শরবত, ঠান্ডা পানীয়ে যেগুলি মেশানো হয়, তা ক্ষতিকর। এই কৃত্রিম ফ্রুক্টোজ় মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যবহৃত হয় নানা প্যাকেটজাত খাবারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এই উপাদান।

কেন লিভারের জন্য ক্ষতিকর?

প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় থেকে পাওয়া ফ্রুক্টোজ় দ্রুত ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়, এবং লিভারে জমে যাওয়ার ভয় থাকে। মাংস বা অন্যান্যে খাবারে যে যে ফ্যাট থাকে, তা যদি বেশি মাত্রায় খাওয়া হয় তখন লিভারে জমতে থাকে। কিন্তু কৃত্রিম ফ্রুক্টোজ় শরীরে গেলেই তা ফ্যাটে পরিণত হয় এবং শরীরের নানা প্রান্তে তা জমতে থাকে। ফ্রুক্টোজ় থেকে মেলে গ্লুকোজ়, যা শরীরে শক্তি জোগায়। ফ্রুক্টোজ় শরীরে গেলে ‘ডি নোভো লিপনোজেনেসিস’-এর মাধ্যমে লিভার তা ভাঙতে শুরু করে এবং ফ্যাট তৈরি হয়। ক্রমাগত এই ধরনের খাবার খেলে ফ্যাটের মাত্রা বাড়তে থাকে, যা লিভারে জমলে প্রত্যঙ্গটির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

ফ্রুক্টোজ় পরিপাকের সময় শক্তি খরচ হয় বেশি। তা ছাড়া, পরিপাকের সময় বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। লিভার ফ্যাট ভাঙতে সাহায্য করে, কিন্তু ফ্রুক্টোজ়ের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থাকে। ফ্রুক্টোজ় ফ্যাট পরিপাকের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। যার ফলে লিভারে প্রদাহ বাড়ে এবং ফ্যাট জমা শুরু হয়।

ফ্যাটজাতীয় খাবারের চেয়ে ক্ষতিকর কেন

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা খাকলে পাঁঠার মাংস, চর্বিযুক্ত মাংস এবং খাবার খেতে বারণ করা হয়। অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার খেলে তা শরীরে জমতে থাকে। কিন্তু এই ধরনের খাবার পরিমিত খেলে ততটা ক্ষতি হয় না। কিন্তু কার্বনযুক্ত পানীয়, প্যাকেটজাত শরবত, মকটেল খেলে ক্ষতির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সামান্য পরিমাণ পানীয়ই শরীরে ফ্যাটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

প্রদাহ শুরু হলে এবং ফ্যাট জমলে স্বাভাবিক ভাবেই লিভারের কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে হজমে সমস্যা হয়। হরমোনের মাত্রারও হেরফের হয়। রক্তে শর্করার মাত্রাও এতে বেড়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে ওজন।

ফলেও থাকে, কিন্তু তা কি ক্ষতিকর?

ফলে যেমন ফ্রুক্টোজ় থাকে তেমনই এতে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবারও মেলে। তার ফলে ফল খেলেও ফ্রুক্টোজ় থেকে ফ্যাট দ্রুত শরীরে জমতে পারে না বা লিভারের তা অতটা ক্ষতি করে না। কিন্তু কৃত্রিম ভাবে যে ফ্রুক্টোজ় বানানো হয়, তাতে আর কোনও পুষ্টিগুণ মেলে না, উল্টে তা লিভারের ক্ষতি করে অনেক বেশি।

Fatty Liver Fatty Liver Problem Fried Foods
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy