রোজ বাড়িতে যে খাবারের থালা সাজিয়ে খেতে বসেন তাতে কতটা প্রোটিন থাকে, আর কতটাই বা থাকে শর্করা। বঙ্গে তো বটেই, দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই ভাত-রুটি-পরোটা-পোলাও-বিরিয়ানি—যা-ই খান, তা শর্করাই। সঙ্গে আমিষাশীরা মাছ-ডিম-মাংস খেলে প্রোটিন থাকে। নিরামিষাশীদের ক্ষেত্রে প্রোটিন বলতে ডাল, সয়াবিন আর পনির বা দুগ্ধজাত খাবার। সব্জি আর তরিতরকারি খেলে তা-ও জোটে না। ভারতে যেখানে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে ক্রমশ, সেখানে শর্করায় লাগাম টানা জরুরি। কিন্তু তা করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, সেক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পুরোপুরি বদলে ফেলতে হবে। দিল্লির এক চিকিৎসক আকৃতি গোয়েল জানিয়েছেন, তিনি কী ভাবে গত ১০ বছর ধরে তাঁর খাওয়ার অভ্যাস বদলেছেন আর কাজটা কেন সহজ নয়।
আকৃতি জানিয়েছেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি ভাতের একটি দানাও দাঁতে কাটেননি। খাননি রুটি। তা সত্ত্বেও তাঁর কাজ করতে গিয়ে কখনও মনে হয়নি ক্লান্ত বোধ করছেন। বরং তিনি জানিয়েছেন, সারা দিন ছুটে বেড়াতে কোনও অসুবিধা হয় না তাঁর। আকৃতি ওই দুই খাবারের অভ্যাসে ইতি টানার কারণ হিসাবে বলেছেন, দু’টি খাবারেই বোঝাই করা শর্করা। আকৃতির কথায়, ‘‘আমার পরিবারের সবাই ডায়াবিটিসের রোগী। জিনগত কারণেই আমারও ওই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আমি চেয়েছিলাম রোগকে হারিয়ে দিতে। ঠিক করেছিলাম, এমন কোনও সুযোগ শরীরকে দেব না, যা থেকে ডায়াবিটিস হামলা করতে পারে। তাই এখন সপ্তাহে পাঁচ বার স্ট্রেংথ ট্রেনিং করি আর ভাত রুটির বদলে খাই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।’’
কী খান আকৃতি? তিনি জানিয়েছেন, রুটির বদলে মুগ ডালের চিলা বা যে কোনও ডালের চিলা খান। রুটির মতো করেই চিলা খান তিনি। সঙ্গে থাকে মরসুমি শাকসব্জি। অর্থাৎ প্রোটিনের জন্য প্রাণিজ খাবারে ভরসা করেন না। আস্থা রাখেন উদ্ভিজ্জ খাবারেই। তাতে তাঁর কোনও অসুবিধা হয় না। বরং আকৃতি জানিয়েছেন, তাঁর মেডিক্যাল স্কুলে তাঁর থেকে বয়সে ছোট যাঁরা তাঁদের থেকেও বেশি দ্রুততার সঙ্গে এবং বেশি উৎসাহে কাজ করতে পারেন তিনি।
অবশ্য ইদানীং আটাতেও কৃত্রিম ভাবে প্রোটিন মেশানো হচ্ছে। প্রোটিন ফর্টিফায়েড সেই আটার রুটি খেলে ২-৩টি রুটিতে মিলছে প্রায় ২০ গ্রাম প্রোটিন। তবে সেই কৃত্রিম ভাবে প্রোটিন মেশানো রুটি খাওয়ার চেয়ে প্রাকৃতিক প্রোটিনেই ভরসা রাখার কথা বলেছেন আকৃতি। কারণ ডাল দিয়ে তৈরি ৩টি চিলাতেও ২০ গ্রামের বেশি প্রোটিনই থাকবে।