মুখরোচক খাবার মানেই অস্বাস্থ্যকর নয়। অনেকেরই বক্তব্য, জিভে লাগাম পরাতে না পারায় ওজন বাড়ছে। কিংবা ভাজাভুজি খাওয়ায় পেটের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। একটু ভাবনাচিন্তা করলে এমন অনেক খাবারই মিলবে যেগুলি দেখলেই জিভে জল আসে, আবার নিশ্চিন্তে খাওয়াও যায়।
আলু কাবলি: টক, ঝাল স্বাদের আলু কাবলি অরুচির মুখে রুচি ফেরায়। ছোট থেকে বড় সকলের প্রিয় এই খাবার কিন্তু একেবারেই অস্বাস্থ্যকর নয়। ওজন বেড়ে যাবে বলে অনেকে আলু বাদ দেন। তবে আলুকাবলি যেহেতু সেদ্ধ আলু দিয়ে তৈরি, আলু ভাজা বা যে কোনও ভাজাভুজির চেয়ে এর ক্যালোরি কম। আলুকাবলিতে ব্যবহার করা হয় সেদ্ধ বা ভেজানো ছোলা-মটর। ভাজা জিরে গুঁড়ো, তেঁতুলের টক। এগুলি সবকটি শরীরের পক্ষে ভাল। তবে স্বাস্থ্যকর করতে গেলে চানাচুর বা নিমকির ব্যবহারটুকু বাদ দিতে হবে। বাকি, পেঁয়াজ, লঙ্কা, ধনেপাতা, ভাজামশলা সবটাই দেওয়া যাবে।
ঘুগনি চাট: ঘুগনি চাট খাওয়ার চল ভারতের নানা প্রান্তে। এটিও কিন্তু মোটেই অস্বাস্থ্যকর নয় যদি তা পরিচ্ছন্ন ভাবে বানানো হয়। মটরে থাকে ফাইবার এবং প্রোটিন। নুন, হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করা মটর, কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ, লঙ্কা, টম্যাটো দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে মশলা দিয়ে কষিয়ে নিলেই হল। তেঁতুল-গুড়ের টক-মিষ্টি চাটনি, ধনেপাতার চাটনি ছড়িয়ে দিলে জিভে জল আসতে বাধ্য। অনেকে আলু সেদ্ধ করে টিকিয়া বানিয়ে চাটে মেশান।
ঝালমুড়ি: ঝালমুড়ি হালকা খাবার তবে সুস্বাদু। বাদাম, ছোলা, শসা, পেঁয়াজ, টম্যাটো, আচার তেল, ঝুরিভাজা, ভাজা মশলার ব্যবহারে মুড়ির স্বাদ বাড়ে। ঝালমুড়িতে মিষ্টি নারকেলের টুকরো বাড়তি স্বাদ জোগায়।স্বাস্থ্যের দিকে নজর থাকলেও নির্দ্বিধায় খাওয়া যায় এই খাবার।
দই বড়া: দই বড়াও অল্প খিদের জন্য দারুণ ভাল এবং লোভনীয়। বিউলির ডালের বড়া ভেজে, ফেটিয়ে নেওয়া টক দইয়ে ডুবিয়ে, চাটনি, মশলা দিয়ে খাওয়া হয়। ডালে থাকে প্রোটিন এবং ফাইবার। দইও পেটের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
অঙ্কুরিত ছোলা-মুগের চাট: অঙ্কুরিত ছোলা-মুগে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ সবই মেলে। ছোলা-মুগ পাতিলেবুর রস, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, নুন, মশলা দিয়ে মেখে নিলেই তৈরি হয়ে যায় স্বাস্থ্যকর চাট।