‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’-র নায়িকা বলিউড থেকে শত যোজন দূরে। তবে গ্ল্যামার জগতের বাইরে থাকলেও তাঁর অনুরাগী কম নেই। বরং ৫৬ বছর বয়সে পৌঁছোনোর পরেও তিনি কী ভাবে এত ফিট, তা জানতে আগ্রহী অনেকেই।
ভাগ্যশ্রী জানালেন, গরমের দিনে পেট ঠান্ডা রাখতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে তাঁর পছন্দের খাবার হল রায়তা। তবে তিনি তা বানিয়ে নেন কুমড়ো দিয়ে।উপকরণ হিসাবে থাকে টক দই, সেদ্ধ কুমড়ো, পেঁয়াজ, লঙ্কা, নুন। ফোড়নে সর্ষের তেলে দেন হিং, কারিপাতা, কসৌরি মেথি। ভাগ্যশ্রী বলেছেন, ‘‘পেটের জন্য তৃপ্তিদায়ক খাবার। পেট ঠান্ডা রাখে, অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে।’’
আরও পড়ুন:
কতটা ভাল এই খাবার, কারাই বা খেতে পারেন? পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, টক দই প্রো-বায়োটিক সমৃদ্ধ এবং পেটের জন্য ভাল। এটি হজমে সহায়ক। এতে রয়েছে ক্যালশিয়াম, প্রোটিন।কুমড়োয় থাকে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, জ়িঙ্ক। ক্যালোরির পরিমাণ কম, পুষ্টিগুণ বেশি। পেঁয়াজে রয়েছে কোয়ারসেটিন নামে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট বা অক্সিডেটিভ, যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। কাঁচালঙ্কায় রয়েছে ভিটামিন সি, এটি হজমেও সহায়ক।
ফোড়নে দেওয়া হয় কারিপাতা, কসৌরি মেথি, হিং। তিনটিই উপকারী। কারিপাতা খাবার হজম করাতে সাহায্য করে। হিংও হজম সহায়ক। কারিপাতাতেও রয়েছে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। কসৌরি মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রক্তচাপ বশে রাখতে সাহায্য করে।এই সমস্ত উপাদানের বেশ কয়েকটি প্রদাহনাশকও। ফলে, শুধু পেটের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, এই রায়তা সামগ্রিক ভাবেই স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।
রায়তা সাধারণত সকলেই খেতে পারেন। তবে কুমড়োই খেতে হবে এমন নয়, পছন্দের অন্য সব্জিও যোগ করা যায়। শসা, গাজর দিতে পারেন কেউ। তবে কারও দই সহ্য না হলে রায়তা বাদ দিতে হবে। ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম থাকলে পেঁয়াজ এড়িয়ে চলা ভাল। এ ছাড়া বিশেষ কোনও অসুবিধা বা খাওয়া বারণ না থাকলে রায়তা খাওয়াই যায়।