বৃহস্পতিবার রাজ্যের ডিএ মামলার রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্ট। সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবে বলে বুধবার শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
এই মামলায় রাজ্যকে আগেই বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এ জন্য ছ’সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারেনি। আদালতের কাছ থেকে আরও ছ’মাস সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৪ অগস্ট থেকে ৭ অগস্ট প্রতি দিনই শুনানি চলেছে বিচারপতি কারোল এবং বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চে। এর পরে গত ১২ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছিল। সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, ওই দিন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় ব্যস্ত ছিলেন। তার পরে শুনানি হয়েছিল সেপ্টেম্বরে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের হারে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদেরও ডিএ দেওয়ার দাবিকে সামনে রেখে শুরু হয়েছিল এই মামলা। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (এসএটি), কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট সরকারি কর্মীদের পক্ষে রায় দিয়েছিল। হাই কোর্ট বলেছিল, ডিএ রাজ্য সরকারের কর্মীদের অধিকার। কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে তা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য।
আরও পড়ুন:
এই মামলায় রাজ্যের যুক্তি, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বাধ্যতামূলক নয়। সে জন্য কর্মীদের মৌলিক অধিকারও নয় এটি। তাই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে বাধ্য নয় রাজ্য। কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক কাঠামোও ভিন্ন। তাই কেন্দ্র যে হারে ডিএ দেয়, তার সঙ্গে রাজ্যের তুলনা চলে না। সুপ্রিম কোর্ট এর আগে রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছে, আরও সময় প্রয়োজন। আর্থিক সঙ্কট রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত কোনও বরাদ্দ ছিল না। তারা সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ পুনর্বিবেচনারও আর্জি জানায়। বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের সেই আবেদন সম্পর্কে রায় দেবে দুই বিচারপতির বেঞ্চ।