দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে ইমপিচমেন্ট (বরখাস্ত) প্রস্তাব আনতে চেয়ে মঙ্গলবার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ একাধিক বিরোধী দল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই পদক্ষেপ সমর্থনের বার্তা দিল।
কংগ্রেস নেতা তথা এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল বুধবার বলেন, ‘‘দেশের সব বিরোধী দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (অভিশংসন) প্রস্তাব আনার জন্য একসঙ্গে পদক্ষেপ করবে।’’ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ট এই কংগ্রেস নেতার কথায়, ‘‘তৃণমূল ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, আমার মনে হয় গোটা বিরোধী শিবির তৃণমূলের উত্থাপিত সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা একে ইতিবাচক ভাবেই দেখছি।’’ উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর বিরুদ্ধে মমতার লড়াইয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিশানা করেছেন কমিশনের ‘পক্ষপাতদুষ্টতা’কে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অবশ্য এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃত হন বুধবার। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে তিনি বলেন, ‘‘আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’’ প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লিতে সংসদের দুই কক্ষের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেখানেই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার আগে চাণক্যপুরীর নয়া বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী স্বয়ং ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বার্তা দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, সোমবার সিইসি-র সঙ্গে নির্বাচন সদনে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে প্রায় সওয়া একঘণ্টা বৈঠক করেছিলেন মমতা-সব তৃণমূল প্রতিনিধিরা। সে বৈঠকে যে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন তা সাফ জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। বৈঠক শেষে জ্ঞানেশের উদ্দেশে ‘মিথ্যাবাদী’, ‘উদ্ধত’-সহ একাধিক বিশেষণ প্রয়োগ করে মমতা জানিয়েছিলেন তাঁকে অপমান করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। লোকসভা এবং রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৪১ (মৌসম বেনজির নুর ইস্তফা দেওয়ার পরে) জন। ফলে সম মনোভাপন্ন দলগুলির কাছে তৃণমূলকে গিয়ে স্বাক্ষর চাইতে হবে। সূত্রের খবর, সেখানেও ‘কৌশল’ রয়েছে তৃণমূলের। সাধারণ ভাবে তৃণমূল সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’ভুক্ত দলগুলির টিকিটে নির্বাচিত সাংসদদের দ্বারস্থ হবে। তাঁরা সই করলে সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধিতার রাজনীতিতে তৃণমূলের উচ্চতা প্রতিষ্ঠিত হবে। আর না-করলে সংশ্লিষ্ট দলগুলির বিজেপি-বিরোধিতার ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকবে তৃণমূলের। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-র নেত্রী প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদীও তৃণমূলের আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।