কাটারি দিয়ে হাতুড়ে ডাক্তারকে তাঁর চেম্বারে কুপিয়ে নিজেই থানা গিয়ে ধরা দেন খুনি। পুলিশের কাছে বলেছিলেন, ভুল চিকিৎসা করে তাঁর ঠাকুমাকে মেরে ফেলেছেন ওই চিকিৎসক। তার প্রতিশোধ নিয়েছেন। বুধবার আদালতেও নিজের অপরাধ স্বীকার করে খুনির নির্ঘোষ, ‘‘আমি খুন করেছি ডাক্তারকে। আর কোনও রোগীর ভুল চিকিৎসায় প্রাণ যাবে না।’’
গত মঙ্গলবার বর্ধমান শহরের বাদামতলায় শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন জনৈক জীবন রুইদাস। তিনি হাতুড়ে ডাক্তার রাজা ভৌমিকের চেম্বারে ঢুকে কুপিয়ে খুন করেন তাঁকে। তার পর সোজা চলে যান থানায়। ঘটনাক্রমে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে এবং গ্রেফতার হন জীবন।
বুধবার ধৃতকে হাজির করানো হয়েছিল বর্ধমান আদালতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত জেরায় বলেছেন, মাসখানেক আগে তাঁর ঠাকুমাকে ভুল চিকিৎসা করে মেরে ফেলেছিলেন রাজা ডাক্তার। এমন ক্ষতি যাতে আরও কোনও না হয় তাই চিকিৎসককে তিনি ‘শাস্তি’ দিয়েছেন। জীবন মনে করেন, অভিযোগ করলেও আইনের ফাঁক গলে ঠিক রেহাই পেয়ে যেতেন ওই চিকিৎসক। তাই তাঁকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবারই ধৃতকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসার। অন্য দিকে, মৃত হাতুড়ে ডাক্তারের স্ত্রী প্রতিমা ভৌমিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ধমান থানায় একটি খুনের মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার আবার আদালতে হাজির করানো হয় জীবনকে। বিচারক তাঁর চার দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, জীবনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার আমড়া গ্রামে। মঙ্গলবার অন্যান্য দিনের মতো সকাল ১০টার সময় বাদামতলায় চেম্বার খোলেন রাজা। সেই সময় আচমকা সেখানে ঢোকেন জীবন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চিকিৎসকের মাথায় কাটারির কোপ দেন তিনি। অকুস্থলেই মারা যান রাজা। বর্ধমান থানায় গিয়ে চিকিৎসককে খুন করার কথা নিজেই জানিয়েছিলেন অভিযুক্ত।