E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: হয়রানি চিত্র

এ রকম চললে বহু প্রতিবন্ধী মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। আঘাত আসবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপরেই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৭

এই রাজ্যে এসআইআর-এর নামে প্রতিবন্ধী মানুষদের হয়রানি যে অব্যাহত, এই সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় প্রকাশিত গৌতম প্রামাণিকের ছবিটিতে (২৫-১) তা পরিস্ফুট। চলার অসমর্থতার কারণে হাঁটুতে ভর করে রাস্তায় তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে চলেছেন এই বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষটি, ভোটাধিকার প্রয়োগের শুনানিতে হাজির হতে। শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদে নয় এই চিত্র গোটা রাজ্যে। দৃষ্টিহীন, বিশেষ ভাবে সক্ষম, বধির, বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত— কেউই ছাড় পাচ্ছেন না এই চাপ থেকে। যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

এ রাজ্যে মোট জনসংখ্যার শতকরা সাত ভাগ কোনও না কোনও ভাবে প্রতিবন্ধী। আমি নিজেও এক জন দৈহিক প্রতিবন্ধী। গত চার দশক ধরে প্রতিবন্ধীদের সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অনেক আলোকপাত করেছি। এঁদের স্বাধিকার রক্ষায় বহু আন্দোলনেও সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলাম। উচিত ছিল এঁদের এ ভাবে হয়রান না করে যথেষ্ট সময় দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যত্ন সহকারে শুনানি করার। কিন্তু তা আদৌ হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কোনও এক্তিয়ার নেই সমাজের এই দুর্বলতর সম্প্রদায়কে বেআইনি ভাবে দিনের পর দিন হেনস্থা করার। এ রকম চললে বহু প্রতিবন্ধী মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। আঘাত আসবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপরেই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

চৈতন্যময় নন্দ, মুগবেড়িয়া, পূর্ব মেদিনীপুর

আতঙ্ক

অভিরূপ সরকারের ‘বিজেপির আত্মঘাতী তির’ (১৬-১) শীর্ষক প্রবন্ধটি জনবিন্যাসকে ঘিরে চলমান আতঙ্কের রাজনীতির একটি গভীর ও সময়োপযোগী বিশ্লেষণ। জনসংখ্যা পরিবর্তনকে নিছক ধর্মীয় বা সীমান্ত-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র হিসেবে না দেখে, প্রবন্ধকার একে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মূল বক্তব্য— জনবিন্যাস একটি সমাজবিজ্ঞানের বিষয়, যা কোনও একক ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যেই ব্যাখ্যাযোগ্য নয়। মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সরাসরি অনুপ্রবেশের ফল বলে চিহ্নিত করা যেমন তথ্যগত ভাবে দুর্বল, তেমনই এটি সামাজিক সহাবস্থানের পক্ষে ক্ষতিকর। প্রবন্ধকার দেখিয়েছেন, এই সরলীকরণ রাজনৈতিক ভাবে সুবিধাজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সমাজকে বিভক্ত করে এবং রাজনীতিকেই আত্মঘাতী পথে ঠেলে দেয়। ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির প্রয়োজনে ‘জনবিন্যাস’ শব্দটিকে আতঙ্কের প্রতীকে রূপান্তরিত করার প্রবণতা লেখাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ।

তবে একই সঙ্গে এটাও অনস্বীকার্য যে, আতঙ্ক রাজনীতির সমালোচনা করতে গিয়ে যদি বাস্তব উদ্বেগগুলিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়, তবে বিতর্ক অসম্পূর্ণ থেকে যায়। জনবিন্যাস নিয়ে সুস্থ আলোচনা তখনই সম্ভব, যখন তথ্য, সংবেদনশীলতা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এক সঙ্গে উপস্থিত থাকে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, অভিবাসন সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার এবং স্থানীয় স্তরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে ধারাবাহিক বিনিয়োগ— এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমন্বিত ভাবে গুরুত্ব না দিলে সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জনসংখ্যা পরিবর্তনের অভিঘাত সামলানোর দায়িত্ব ধর্মীয় পরিচয়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। এটি মূলত রাষ্ট্রের প্রশাসনিক দক্ষতার পরীক্ষা। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এই প্রসঙ্গে উঠে আসে— এই বিতর্কে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলির অবস্থান কোথায়? জনসংখ্যা পরিবর্তন, অভিবাসন ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে তাদের স্পষ্ট নীতি ও বিকল্প প্রস্তাব খুব একটা দৃশ্যমান নয়। শাসক দলের নীরবতা এবং বিরোধীদের অস্পষ্টতা— উভয়ই জনবিন্যাসকে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধে নামিয়ে এনেছে।

জনসংখ্যা শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, এর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নগর পরিকল্পনা ও সামাজিক ন্যায়। যদি জনবিন্যাস সত্যিই পরিবর্তিত হয়, তবে তার মোকাবিলা ধর্মীয় বিভাজন দিয়ে নয়, বরং দক্ষ প্রশাসন, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং মানবিক রাষ্ট্রনীতির মাধ্যমেই সম্ভব।

অলোক কুমার মুখোপাধ্যায়, সোদপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

সে কাল-এ কাল

অনিতা অগ্নিহোত্রীর ‘হারিয়ে যাওয়া বাণী-আরাধনা’ (রবিবাসরীয়, ১৮-১) পড়ে অপূর্ব তৃপ্তি লাভ করলাম। সেই শৈশবের, কৈশোরের সরস্বতী পুজো আজও বারে বারে মনে পড়ে। থাকত সামান্য উপকরণ, সামান্য আয়োজন, অথচ কী অসামান্য আনন্দ ছিল। এখনকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা খুবই হতভাগ্য, প্রকৃত শৈশব-কৈশোরের আনন্দ উপভোগ করা থেকে তারা বঞ্চিত। তাদের জগৎ মুঠোফোনে বন্দি। আমাদের ছোটবেলায় হাজার লোভ হলেও কুল খাওয়া বারণ ছিল। যদি মা রুষ্ট হন, পরীক্ষা খারাপ হয়। আজ ছাত্রছাত্রীদের জীবনে লেখাপড়ার গুরুত্ব কমছে ক্রমশ, তাই শিক্ষার দেবীর কদর নেই। পাড়ায় কচিকাঁচারা পুজোর নামে চাঁদা তোলে, ঠাকুর আনে, প্যান্ডেলও বানায় বটে, কিন্তু সেখানে ঠাকুরের আরাধনা হয় কই? সকালে কোনও পুরোহিত নমো নমো করে পুজো করার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় তারস্বরে চটুল হিন্দি গান বাজানো। তবু এত হতাশার মধ্যেও যখন দু’এক জন ঠাকুরের কাছে ভক্তি ভরে অঞ্জলি দেয়, পড়াশোনাকে কদর করে, তখন মনে হয় সবটা শেষ হয়নি। কবি কালিদাসের সরস্বতী রূপবর্ণনা বিফলে যাবে না।

সর্বানী গুপ্ত, বড়জোড়া, বাঁকুড়া

নদীর কথা

সরস্বতী শব্দের একটি অর্থ, যেখানে জল রয়েছে। ফলে সরস্বতীর নদী-রূপটি নিয়েও চর্চা হওয়া জরুরি। অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘সর্বশুক্লা জ্যোতিরূপা বাগীশ্বরী’ (রবিবাসরীয়, ১৮-১) প্রবন্ধটিতে এই বলে যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ করেছেন। একই দিনে প্রকাশিত অনিতা অগ্নিহোত্রীর ‘হারিয়ে যাওয়া বাণী-আরাধনা’ প্রবন্ধে প্রশ্ন করেছেন, সরস্বতী কি আছেন আমাদের চেতনার কেন্দ্রে? দুই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এক করলে দাঁড়াচ্ছে— পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে সরস্বতী পুজোর দিনগুলিতে অঞ্জলির সময়ে মানুষের পাশাপাশি নদী বাঁচানোর শুভবুদ্ধিকে জাগানোয় সক্রিয় পদক্ষেপ করতে হবে। বাস্তবে বিদ্যার দেবী হিসেবে মা সরস্বতী উপেক্ষিতা আমাদেরই অবহেলায়। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্গতিতে বাগীশ্বরী অপমানিতা। ঠিক তেমন অবস্থা ভারতের নদীগুলিরও। এক দিকে নানা ভাবে সেগুলি দূষণে আক্রান্ত। অন্য দিকে, মাটি, বালি লুট, অবৈজ্ঞানিক ভাবে খালকাটা, উপযুক্ত সংস্কার না-করা, নিয়মিত নজরদারি না-করা ইত্যাদি নানা কারণে অনেক নদী আজ অকালমৃত্যুর পথে। নদীমাতৃক বাংলা তথা ভারতের সভ্যতা নিদারুণ সঙ্কটে।

পশ্চিমবঙ্গে হুগলি জেলায় গঙ্গার আগে বিখ্যাত সরস্বতী নদী সজীব ছিল। বস্তুত দক্ষিণবঙ্গে বাংলার বাণিজ্যে সরস্বতী নদী একদা অপরিহার্য ছিল। কথিত আছে, ১৫০৫ সালে এক ভূমিকম্পে জলতলের পরিবর্তনে জলস্রোত সরস্বতী ছেড়ে গঙ্গার দিকে যায়। ক্রমে সরস্বতী মজে যায়, গঙ্গা পুষ্ট হয়। ৫০০ বছরের অধিক সময় অতিক্রান্ত। বর্তমানে মানুষের নানা নির্বুদ্ধিতা ও অযত্নে পলি জমে মজে যেতে শুরু করেছে গঙ্গাও। সরস্বতীর পুনরুজ্জীবন নিয়ে প্রায়ই অঞ্জলিতে ফুল ছোড়ার মতো উদ্যোগ করা হয়। তার অনেকটাই খাতায়-কলমে থেকে যায়। হুগলি ও হাওড়া জেলায় কিছু কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই কম।

শুভ্রাংশু কুমার রায়, চন্দননগর, হুগলি

আবর্জনাময়

যশোর রোড মেট্রো স্টেশন থেকে দু’মিনিট হাঁটলেই এক নম্বর এয়ারপোর্ট গেট সংযোগস্থল। এই মেট্রো স্টেশন হওয়ার পর এক নম্বর থেকে মেট্রো ধরে যাত্রীরা কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে যান। কিন্তু মেট্রো হওয়ার পর থেকে এক নম্বর যাওয়ার রাস্তাটি একেবারে নরক হয়ে আছে। রাস্তার পাশে অবৈধ পার্কিং গড়ে উঠেছে, উন্মুক্ত ড্রেনের নোংরা আবর্জনা উপচে যশোর রোডে এসে পড়ছে। নোংরা এড়িয়ে চলতে গেলে যখন তখন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই রাস্তার প্রতি একটু নজর দেওয়া হলে পথচারী এবং মেট্রোর যাত্রীরা উপকৃত হবেন।

সন্দীপ বাপি মণ্ডলকলকাতা-৮১

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission Specially Abled

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy