সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: ট্রামের ইতিহাস

Tram

Advertisement

‘দূষণ কাটাতে শহরে ফিরুক ট্রাম’ (২০-৪) শীর্ষক নিবন্ধের প্রেক্ষিতে কিছু বক্তব্য। কলকাতার রাজপথে ১৮৭৩ এর ২৪ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ান ওয়েলার ঘোড়ার সাহায্যে প্রথম মিউনিসিপ্যাল ট্রামওয়ে চলেছিল ইস্টার্ন রেলওয়ের সদর স্টেশন শিয়ালদহ থেকে ইস্টার্ন ইন্ডিয়ান রেলওয়ের টিকিট ঘর আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত। যদিও লোকসানের জেরে ওই বছরেরই ২০ নভেম্বর ট্রাম চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সাময়িক বিরতি কাটিয়ে, ১৮৭৯ সালের ক্যালকাটা ট্রামওয়ে কোম্পানি ও কর্পোরেশনের মধ্যেকার চুক্তি মোতাবেক, পুনরায় ১৮৮০-র ২৭ নভেম্বর রাজপথে অশ্বচালিত ট্রাম চলাচল শুরু হয়। লক্ষণীয় ভাবে, কেবলমাত্র পশুপ্রেমীদের অভিযোগই ঘোড়ায় টানা ট্রাম বন্ধ হওয়ার একমাত্র কারণ ছিল না, এরই সঙ্গে ছিল গ্রীষ্মপ্রধান এ-দেশীয় জলবায়ুর সঙ্গে বিদেশি ঘোড়াগুলির মানিয়ে নিতে পারার অক্ষমতা। যদিও বিদ্যুৎচালিত ট্রাম চালু হওয়া পর্যন্ত কিন্তু এই ট্রামগুলি বন্ধ হয়ে যায়নি। 

প্রসঙ্গত, কলকাতায় প্রথম কলের ট্রাম বা স্টিমচালিত ট্রাম আসে ১৮৮২ সালে। চৌরঙ্গি ও খিদিরপুর রুটে খুব স্বল্প সময়ের জন্যই তা কার্যকর হয়েছিল। রাধাপ্রসাদ গুপ্তের স্মৃতিচারণা থেকে জানতে পারি, ১৯০২ সাল নাগাদ ঘোড়ায় টানা ট্রাম বন্ধ হলে সাহেবপাড়ায় প্রথম বারের জন্য বিদ্যুৎচালিত ট্রাম চলাচল শুরু হয়। বাহ্যিক গঠনের যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটলেও, সেই বিদ্যুৎচালিত ট্রামই আজও রাজপথে দেখা যায়। 

অভিজিৎ সাহা

কলকাতা-২৭

 

দরজায় ছিদ্র

বর্ধমান রেলস্টেশনে পুরুষ শৌচাগারের ভিতরের দিকে প্লাস্টিকের দরজায় অসংখ্য ছিদ্র চোখে পড়ল। সম্ভবত বিড়ি, সিগারেটের ছেঁকা দিয়ে দরজাতে ছিদ্র করেছে কিছু মানুষ। মানুষের নিত্যদিনের ব্যবহার্য শৌচাগারের দরজা নষ্ট করাটা অনুচিত। শৌচাগারের কর্মীদের এগুলোর প্রতি নজর দেওয়া দরকার।

মহম্মদ ওয়েছ

লাভপুর, বীরভূম

 

ট্রেনে তাস

সকাল ৯:১০ শিয়ালদহ-ক্যানিং ডাউন লোকাল ট্রেনটি যখন চম্পাহাটিতে আসে, আমি এক জন নিত্যযাত্রী ট্রেনে বহু কষ্টে উঠলেও, ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারি না। সবার একই অবস্থা। কারণ বেশ কিছু লোক বেশ জমিয়ে তাস খেলেন। কিছু বললে উল্টে দু’চার কথা শুনিয়ে দেন।

সুব্রত মৃধা

বারুইপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

ক’মিনিট অন্তর

গত কয়েক বছর অফিস যাওয়া-আসার জন্য আমি মেট্রো রেলের ওপর নির্ভরশীল। কয়েক মাস আগেও অফিসটাইমে মেট্রো পাওয়া যেত পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো তৈরির সুড়ঙ্গ বানানো হচ্ছে, সেই জন্য এসপ্লানেড স্টেশন সংলগ্ন অংশে ট্রেন আস্তে চলবে, এ রকম কারণ দেখিয়ে মাঝে এক সময় অফিসটাইমে দুটো মেট্রোর ব্যবধান বাড়িয়ে করে দেওয়া হল ছয় মিনিট। তার পর সম্ভবত সেই অংশে সুড়ঙ্গের কাজ শেষও হয়েছে, কারণ এসপ্লানেড স্টেশনে ঢোকা-বেরোনোর সময় ট্রেনের গতি আর পূর্বের মতো কমতে দেখি না। কিন্তু অফিসটাইমে দুটো মেট্রোর ব্যবধান আর ছয় মিনিট থেকে কমে পাঁচ মিনিট হয়নি।

ভাস্কর রায়

কলকাতা-৭৭

 

নোয়াপাড়া মেট্রো

প্রতি দিন প্রচুর মানুষ নোয়াপাড়া মেট্রো স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। স্টেশনের সামনে রেলের অনেক ফাঁকা জায়গা আছে, কিন্তু সেখানে কোনও গাড়ির প্রবেশ নিষেধ। এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। কারণ স্টেশন থেকে অনেকটা হেঁটে বাইরে আসতে হয়, যেখানে অপরিসর রাস্তায় বাইক সাইকেল গাড়ির তীব্র যানজট। রেলের ছোট দুটো আন্ডারপাস, যার একটা আবার একটু বৃষ্টি হলেই জলের তলে চলে যায়। তা ছাড়া মেট্রো স্টেশনের সামনের রাস্তার অর্ধেকটা গৃহহীন মানুষেরা বস্তিবাড়ি বানিয়ে দখল করে জীবন যাপন করছেন, এঁদের অবিলম্বে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে, মেট্রো যাত্রীদের সুবিধের দিকে নজর দেওয়া উচিত। 

বিজন হাজরা

কলকাতা-৭

 

রেলগেট

সম্প্রতি আমরা রাক্সৌল হয়ে নেপাল বেড়াতে গিয়েছিলাম। রাক্সৌলে ট্রেন থেকে নেমে টাঙ্গা করে ভারতের বর্ডার পেরিয়ে নেপালের বীরগঞ্জে যেতে হয়। আর এই রাস্তার মধ্যে রাক্সৌলে পড়ে একটি রেলগেট। সারারাত জার্নি করে নেমে টাঙ্গায় গরম আর ধুলোর মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে ছিলাম ওই রেলগেটে।

ফেরার সময়ে অভিজ্ঞতা আরও ভয়ঙ্কর। সকাল সাড়ে ছ’টায় আমরা কাঠমান্ডু থেকে রওনা দিয়ে সন্ধ্যা ছ’টায় আবার ওই রেলগেটে আটকে গেলাম। গেট আর ওঠে না। 

সাতটার সময় এক বার দশ মিনিটের জন্যে উঠল। কিন্তু গেটের দু’ধারে কয়েক হাজার বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। ওই দশ মিনিটের মধ্যে খুব সামান্য সংখ্যক গাড়িই এ ধার ও ধার করতে পারল। আমাদের বাস কয়েক ফুট এগোল, কিন্তু গেট পেরোতে পারল না। 

সেই গেট আবার উঠল রাত ন’টায়। এ বার আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলতে হবে। তিন ঘণ্টা পরে আমাদের বাস গেট পার করে আমাদের রাক্সৌলের হোটেলে ঢোকাতে ঠিক চার মিনিট সময় নিয়েছিল। বারো ঘণ্টা জার্নি করার পরে ওই তিন ঘণ্টা আমাদের সকলের কাছে প্রাণান্তকর হয়ে পড়েছিল। 

সব থেকে অবাক করার মতন ব্যাপার যেটা, এই যে দু’দিন ধরে দেখলাম এত ক্ষণ ধরে গেট বন্ধ থাকে, এর মধ্যে কিন্তু কোনও থ্রু ট্রেন যায় না। একটা খালি রেক কেবল সামনে-পেছনে যাতায়াত করে। দু’পাশের দোকানদারদের জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, এটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এতটাই গা-সওয়া ব্যাপার যে, আমরা দেখলাম, বাইক আরোহীরা তাঁদের বাইকের মিররগুলো প্যাঁচ মেরে খুলে নিয়ে, গেটের তলা দিয়ে হেঁট হয়ে গলে, অন্য পাশে গিয়ে সেগুলো আবার লাগিয়ে নিচ্ছেন। 

সবচেয়ে খারাপ যেটা, এই লাগামছাড়া অপেক্ষমাণ যানবাহনেরর তালিকায় এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সও বাদ পড়ছে না।

গৌতম মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-১১৭

 

ব্যবস্থা আছে

‘মহিলা শৌচাগার’ (৩০-৩) শীর্ষক চিঠি সম্পর্কে জানাই, ঝোড়হাট ফকিরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের আমি এক জন প্রাক্তন ছাত্র। তা ছাড়া, আমার ছেলের ওই স্কুলে পড়ার সময়, নিজে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসাবে প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করি। সেই সময়ই দু’জন শিক্ষিকা নিযুক্ত হন এবং আমরা সঙ্গে সঙ্গে মহিলা শৌচাগারের নির্মাণকাজ শুরু করি। যথাসময়ে সুসজ্জিত ও স্বাস্থ্যসম্মত মহিলা শৌচাগারের কাজ শেষ হয়। এখন বিদ্যালয়টিতে একাদশ-দ্বাদশ (কো-এডুকেশন) শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, ছাত্রীদের জন্যও পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। 

স্বপন কুমার ঘোষ

মধ্য ঝোড়হাট, হাওড়া

 

পরিবেশ দূষণ

বাঁকুড়ায় ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ চলছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন অঞ্চলে স্পঞ্জ আয়রন কারখানা চালু হওয়ার পর থেকেই এই সমস্যার শুরু। বাঁকুড়া শহর ও সন্নিহিত বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে কালো ছাইয়ের আস্তরণ পড়ে থাকে। গাছপালা, পুকুর, বাড়ি ও বাড়ির ছাদ এই স্পঞ্জ আয়রনের করাল গ্রাসের কবলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বায়ু দূষণ, ফলে অনেকেই শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত। এখন আমাদের ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর’ বলার মতো অবস্থা।

ছন্দা কুণ্ডু

নতুনচটী, বাঁকুড়া

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন