আপনি ওষুধের দোকানে গিয়ে নামী ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ কিনে খেলেন। কাজ হল না। আপনি ডাক্তার পরিবর্তন করলেন। কিন্তু এর জন্য আপনি দায়ী নন, ওই ডাক্তারও নন। যারা দায়ী, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। আসলে আপনি দোকান থেকে জাল ওষুধ কিনেছেন।

ভারতে ৪০,০০০ কোটি টাকার বিস্তৃত ওষুধের বাজারে, ২০ শতাংশই জাল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সারা পৃথিবীতে জাল ওষুধ ব্যবসার ৩৫ শতাংশই ভারতে চলে। সেই ২০০৪ সালে কেন্দ্রীয় সার ও রাসায়নিক মন্ত্রক সারা দেশে খুবই রমরমিয়ে বিকোচ্ছে এমন ১৩টি জাল জীবনদায়ী ওষুধ সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছিল (এর মধ্যে ছিল জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন, যৌন তেজবর্ধক ওষুধ, হরমোন নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, আয়ুর্বেদিক ট্যাবলেট)। তবে কাদের সতর্ক করা হয়েছিল, ক্রেতা না বিক্রেতা না জাল ওষুধ প্রস্তুতকারী, তা জানা যায়নি। সম্ভবত এই সতর্কবার্তা জারি হয় দেশের নাগরিকদের উদ্দেশেই। কারণ জাল ওষুধ প্রস্তুতকারীকে শায়েস্তা করার চেয়ে, দেশের ক্রেতাসাধারণকে সতর্ক করা অনেক সুবিধাজনক। জাল ওষুধ খেয়ে বা ইঞ্জেকশন নিয়ে মৃত্যু হলে অন্তত বলা যাবে, ‘‘আমরা তো তোমাদের ভাই অনেক আগেই সতর্ক করেছিলাম। দেখেশুনে কিনতে পারোনি কেন?’’ 

এই মুহূর্তে ওই ১৩টি জাল ওষুধ দেশের বাজারে রমরমিয়ে চলছে। ২০০৩ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঘোষণা করেছিলেন, জাল ওষুধ প্রস্তুতকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তিনি এই বিষয়ে একটি বিল আনতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন জাল ওষুধ প্রস্তুতকারীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুপারিশ থাকলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। যদিও জাল ওষুধ চক্রে জড়িত সন্দেহে সে সময় সারা দেশে পুলিশ প্রায় ১৫০ জনকে গ্ৰেফতার করেছিল। কিন্তু অগ্ৰগতি ওই পর্যন্তই।

প্রণব রাহা

দুর্গাপুর

জুতোর মাপ

হুগলি জেলার সিঙ্গুরের পহলামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি নির্দেশ মতো জুতো বিলির সময় অনেকের পায়ের মাপের সঙ্গে জুতোর মাপ ঠিক না হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই সময় এক ব্যক্তি (অভিভাবক) শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে জুতো ছুড়ে যে ভাবে অপমানসূচক আচরণ করেন এবং কথাবার্তা বলেন তাতে শুধু এই স্কুলের শিক্ষক নন, গোটা শিক্ষক সমাজ অপমানিত হয়েছেন বলে আমরা মনে করি। 

আমরা শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে যে ব্যক্তি এই আচরণ করেছেন তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে। আমরা মনে করি, সরকারের অবিবেচক পদক্ষেপই এর জন্য দায়ী। ছাত্রছাত্রীদের পায়ের জুতো, সে যে-মাপেরই হোক, শিক্ষকমশাইরা তো আর তৈরি করেন না, সরকার থেকে তা দেওয়া হয়। তা হলে তার দায় শিক্ষক সমাজের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?

আমরা এও দাবি করছি, বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান বাদ দিয়ে সাইকেল, জুতো, ব্যাগ ইত্যাদি দানের জন্য আলাদা ভাবে ব্যবস্থা করা হোক। শিক্ষাদানের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করে শিক্ষকদের এই সব কাজে কোনও ভাবেই দায়িত্ব দেওয়া চলবে না। 

কিংকর অধিকারী

যুগ্ম সম্পাদক, শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি

কর্মচারীদের দাবি

‘সরব সংগঠন’ (১৯-৬) শীর্ষক প্রতিবেদনের সূত্রে জানাই, রাজ্য সরকারের ষষ্ঠ বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতি দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে সংবাদমাধ্যমের খবর। অথচ রাজ্য সরকার পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মচারীরা পে-কমিশনে অন্তর্ভুক্ত নন এবং এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকার কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করেনি। বিগত বাম আমলে আলাদা ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য পে-কমিটি গঠিত হত। এর ফলে অর্থ ও সময়ের অপচয়ই হত। কারণ কার্যক্ষেত্রে পে-কমিশনের সুপারিশ মাফিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। 

বর্তমান সরকারের কাছে আর্জি জানিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা ইতিপূর্বে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাক্ষর সংবলিত দাবিপত্র ও পোস্টকার্ড প্রেরণ, প্রতীকী বেতন বয়কট এবং গত ৮-১০ অগস্ট ২০১৮ তারিখে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙা ভবনের সামনে অনশন বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন।

এতৎসত্ত্বেও তাঁরা নো-ম্যানস ল্যান্ডেই বিরাজ করছেন। উক্ত চরম বঞ্চনার অবসানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের কর্মীরা আবার গত ১৯ জুন ২০১৯ তারিখে বিক্ষোভে সমবেত হয়েছেন।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কর্মচারীদের আবেদন, সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বতন্ত্র বেতনক্রমকে অক্ষুণ্ণ রেখে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে একই দিন থেকে একই নিয়মে চালু করা হোক।

প্রবীর মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-৭৩

স্কুল পরিদর্শক

বিগত কয়েক বছর ধরে স্কুল পরিদর্শকের (মূলত এসআই/এস) অভাবে স্কুলগুলো পরিদর্শন হচ্ছে না, ফলে প্রাথমিক শিক্ষা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক জন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (এসআই/এস)-এর পক্ষে প্রতি চক্রে ৮০-৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৫-২৫টি উচ্চতর প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়মিত পরিদর্শন অসম্ভব। সঙ্গে বোঝার উপর শাকের আঁটির মতো প্রতিটি উচ্চতর বিদ্যালয়ের ‘প্রশাসক’ হিসাবে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে পরিদর্শনের পথ আরও সঙ্কুচিত। সেই সঙ্গে একাধিক চক্রের দায়িত্ব।

ত্রিশ বছরের উপর শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সরকার শিক্ষাবন্ধুদের পরিদর্শনের কাজে লাগাক। কারণ শিক্ষাবন্ধুরা প্রত্যেকে ন্যূনতম স্নাতক, এঁদের অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চতর, সেই সঙ্গে অনেকের বিএড ডিগ্রিও আছে। তাঁদের যদি ১৫ দিন বা এক মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো যায়, তা হলে প্রাথমিক শিক্ষায় পরিদর্শকের অভাব মিটবে।

প্রভাস হাজরা

নন্দকুমার, পূর্ব মেদিনীপুর

কেরিয়ার পরামর্শ

মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পর, বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে এসে আমাদের কাছে পরামর্শ নেয় কোন স্ট্রিমে পড়বে বা না পড়বে। কিছু বুঝতে না পেরে অনেকেই অসহায় বোধ করে। আমার প্রস্তাব, প্রতিটি ব্লকে সরকারি কেরিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার তৈরি হোক, যেখানে থাকবেন কেরিয়ার কাউন্সেলর এবং নানা বিদ্যালয়ের সম্মাননীয় শিক্ষকশিক্ষিকারা। 

সুজিত কুমার ভৌমিক 

সহ-শিক্ষক (ইংরেজি), বৃন্দাবনচক হরেকৃষ্ণ শিক্ষামন্দির (উ. মা.) 

নন্দীগ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর 

আরও নায়ক

‘বহুমুখী প্রতিভা’ (২৮-৫) চিঠিতে লেখক লিখেছেন, অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায় ‘ছুটি’ এবং ‘আঁধার সূর্য’ ছাড়া আর কোনও ছবিতে নায়ক হননি। তিনি কিন্তু নায়ক হয়েছেন ‘সূর্যসাক্ষী’ (১৯৮১) এবং ‘কাজলাদিদি’ (১৯৮৩) 

ছবি দু’টিতেও।

হীরালাল শীল

কলকাতা-১২

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।