তিন প্রধানের বাইরে ৬১ বছর পরে কলকাতা ফুটবল লিগ জিতেছে অফিস টিম পিয়ারলেস। গত বছরও এই দল লিগে রানার্স হয়েছিল। অঙ্কের সূক্ষ্ম সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে বলতে হয়, ইস্টবেঙ্গল যদি প্রতিপক্ষ কাস্টমস দলকে সাত গোলে পরাজিত করতে পারত, তবে তারাই চ্যাম্পিয়ন হত, কিন্তু ইস্টবেঙ্গল দল না-নামিয়ে প্রতিপক্ষকে ওয়াকওভার দিল। দেশের সবচেয়ে পুরনো ১২১ বছরের কলকাতা ফুটবল লিগের ইতিহাসে এই ঘটনা কলঙ্ক হয়ে রইল।

এমনিতে বর্তমানে সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে কলকাতার দলগুলির উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই। এ বছর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষ উদ্‌যাপন শুরু হয়েছে। ঐতিহ্যশালী এই দল যদি দুর্বল অজুহাতে না-খেলে প্রতিপক্ষকে ওয়াকওভার দেয়, তা ফুটবল স্পিরিটের সঙ্গে কত দূর মানানসই? এই পলায়নপর মনোবৃত্তি শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো দলকে কলঙ্কিত করেছে বলে অনেকেই সরব হয়েছেন।

২০১২ সালে ডার্বি ম্যাচে দর্শকদের ছোড়া ঢিলের আঘাতে রহিম নবি আহত হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান দল নামায়নি। সে সময় কিন্তু ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কর্মকর্তারা স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের অভাব দেখতে পেয়ে প্রতিপক্ষকে ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি। 

হেড কোচ, সহকারী কোচ, ট্রেনার-সহ ছ’জন (পাঁচ জন স্পেন থেকে এবং এক জন সেনেগাল থেকে) বিদেশি এনেও কলকাতা লিগ হাতছাড়া হয়েছে। এর পরও রিক্রুটার, ক্লাব কর্মকর্তারা ওয়াকওভার দিয়ে লক্ষ লক্ষ সমর্থকের আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করার সাহস দেখাতে পারেন? দেশি কোচ থাকলে ইতিমধ্যে হয়তো তাঁকে বরখাস্তের চিঠি ধরিয়ে দিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমন করার চেষ্টা হত।

ফুটবল নিয়ে বাঙালিদের মধ্যে উন্মাদনায় এখন ভাটার টান স্পষ্ট। কর্পোরেট পুঁজির আইএসএল ফিফা স্বীকৃত টুর্নামেন্টের স্বীকৃতি পেতে চলেছে। মাহিন্দ্রা, জেসিটি, চার্চিল, সালগাঁওকর পাততাড়ি গুটিয়েছে। মোহন-ইস্টের মতো সভ্য-সমর্থকদের আবেগনির্ভর দল, অপেশাদার কর্মকর্তাদের অপরিণামদর্শিতার উপর নির্ভর করে আর কত দিন স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

সরিৎশেখর দাস

চন্দনপুকুর, ব্যারাকপুর

অগ্নীশ্বর...

‘অগ্নীশ্বররা কোথায় গেলেন’ (৮-১০) লেখায় চিকিৎসকদের হোম ভিজ়িটে না যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। লেখিকা কিন্তু এই ঘটনার কারণ বিষয়ে তেমন কিছু লিখলেন না! তিনি হয়তো জানেন না, কিছু দিন আগেই এক চিকিৎসককে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছিল, যার বিস্তারিত বিবরণ এই সংবাদপত্রেই প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি যে-সময়ের বাংলা ছবির কথা লিখেছেন, তখন কি এই জাতীয় ঘটনা ঘটত? এখন তো প্রায় রোজই সংবাদপত্রগুলিতে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে, যেখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের দোষ থাকে না। অন্তিম মুহূর্তে রোগীকে কিছু জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন দিয়ে বাঁচাতে অসমর্থ হওয়ার পর চিকিৎসকদের শুনতে হয় ‘ডাক্তার ইঞ্জেকশন দিয়ে রোগীকে মেরে ফেলল’ এবং তার পর চলে হাসপাতাল ভাঙচুর, চিকিৎসক নিগ্রহ ইত্যাদি। এর পরেও কি হোম ভিজ়িটে যাওয়ার ব্যাপারে কোনও ডাক্তার আগ্রহী হবেন?

এ বার আসি ফ্যামিলি ফিজ়িশিয়ানের কথায়। সে সময় এমবিবিএস করার পরে চিকিৎসকেরা অনেকেই ফ্যামিলি ফিজ়িশিয়ান হওয়ার দিকে ঝুঁকতেন। কিন্তু এখন রোগীরা প্রথমেই খোঁজ করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের, অর্থাৎ যাঁদের এমডি, এমএস, ডিএনবি, ডিএম, এমসিএইচ আছে। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের সম্বন্ধে অধিকাংশ মানুষ বলেন, ‘‘ওই ডাক্তারবাবু তো পাতি এমবিবিএস।’’ এই লেখায় বর্ণিত যে কেরিয়ারের কারণে বৃদ্ধ বাবা-মা’কে ছেড়ে ছেলেমেয়েদের বাইরে থাকতে হয়, সেই কারণেই এমবিবিএস করার পরেও চিকিৎসকদের এখন শামিল হতে হয় ওই সব ডিগ্রির দৌড়ে। ফ্যামিলি ফিজ়িশিয়ানদের সংখ্যা যে কমছে, তাতে আর আশ্চর্যের কী?

আগেকার সময়ের সঙ্গে এখনকার সময়ের আর একটি পার্থক্য: এখন চিকিৎসা হল পরিষেবা। তাই চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে আপনি অভিযোগ জানাতে পারেন, ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। চিকিৎসাশাস্ত্র অঙ্কের মতো নয়, এখানে সব সময় দুই আর দুই যোগ করলে চার হয় না। তাই যত অভিজ্ঞই হোন না কেন, ডাক্তারবাবুর অনুমান সব ক্ষেত্রে ঠিক না-ও হতে পারে। এবং পরীক্ষা না করে অনুমানের ভিত্তিতে ওষুধ দিলে যখন আইনি মারপ্যাঁচে পড়তে হতে পারে, তখন পরীক্ষানিরীক্ষার উপায় থাকলে চিকিৎসককে বাধ্য হতে হয় ওই সব পরীক্ষানিরীক্ষার নির্দেশ লিখতে। তাই রোগীর বুকে ব্যথা হলে চিকিৎসক যদি প্রাথমিক ভাবে মনে করেন গ্যাস-অম্বল থেকে হচ্ছে, তবুও নিজেকে বাঁচাতে তিনি বুকে ব্যথা সম্বন্ধীয় বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করাতে বাধ্য।

অরিত্র চক্রবর্তী

বাঁকুড়া

...এবং বিরিয়ানি

ভারতে বা আমাদের রাজ্যে ভাল জেনারেল ফিজ়িশিয়ানের যে দারুণ অভাব এবং হোম ভিজ়িট যে ডাক্তারির একটা অঙ্গ, এটা না মানলে ভুল হবে। বিভিন্ন হেলথ রিপোর্ট স্পষ্ট করে বলছে যে স্পেশালিস্টের চেয়ে ফ্যামিলি ফিজ়িশিয়ান অনেক বেশি দরকার, বিশেষত আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে। এমনকি উন্নত দেশগুলো যেমন ইংল্যান্ড, কানাডা, অনেকটাই নির্ভর করে এই ফ্যামিলি ফিজ়িশিয়ানদের ওপর। 

এঁরা যথাযথ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, এবং বিভিন্ন কার্যসূচির সাহায্যে নিজেদের দক্ষতা উন্নত করে যাচ্ছেন। হোম ভিজ়িট করা বা রোগীর শুধু অসুখের চিকিৎসা না করে সব রকম ভাবে তাঁকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করা, তা তাঁরা নিরন্তর করে যান বিজ্ঞানসম্মত ভাবে। এবং তাঁদেরই কাজের অঙ্গ— বিপদসঙ্কেত বুঝে রোগীকে স্পেশালিস্টদের কাছে পাঠানো, এবং তার পরে তাঁর ঠিক মতো পরিচর্যা করা। আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ফ্যামিলি মেডিসিনের চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে, এবং পশ্চিমবঙ্গ কিন্তু এ ব্যাপারে অন্যতম দিশারি।

ফ্যামিলি ফিজ়িশিয়ান তৈরি করার কথা মেডিক্যাল কাউন্সিলও সোজাসুজি বলছে, এবং সে ভাবেই নতুন কোর্স তৈরি করেছে। এটা নিয়ে তর্কের জায়গা নেই। তেমনই তর্কের জায়গা নেই এটি মানতে যে, কলকাতায় বিভিন্ন কারণে সহায়হীন বয়স্ক লোকেদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে, এবং অন্তত এঁদের জন্য হোম ভিজ়িট ব্যাপারটি খুবই জরুরি। আর কয়েকটি অ্যাপ বা সার্ভিস এখনই আছে, রোগী আর ডাক্তারবাবুর সাক্ষাৎ ঘটানোর জন্য।

কিন্তু হোম ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে আনানো বিরিয়ানির সঙ্গে ডাক্তারদের তুলনা না করলেই পারতেন লেখিকা। আর লেখাটির শিরোনাম আরও বেশি ভুল পথে চালিত করেছে পাঠকের মানসিকতাকে। এটা কাম্য ছিল না। যেখানে একটা সময়োপযোগী লেখা নিয়ে সুস্থ চর্চা চলতে পারত, সেখানে হয়তো লেখিকা তাঁর লেখার বয়ান নিয়ে আর একটু দায়িত্বশীল হলে ভাল হত। সমাজে একটা আলোচনার পরিসর তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি উপযুক্ত শব্দ চয়ন, কেননা একই বক্তব্য বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরলে বিভিন্ন রূপ নেয়।

রিভু বসু

কলকাতা-৮৬

ট্রেন চাই

বরানগর, দক্ষিণেশ্বর, বালি, রাজচন্দ্রপুর এবং ডানকুনি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দিন দিন লোকসংখ্যা বাড়ছে। অফিস টাইমে শিয়ালদহ-ডানকুনি লাইনের প্রতিটি ট্রেনেই অসম্ভব ভিড়। সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে, ডানকুনি থেকে ৩০ মিনিট অন্তর একটি করে শিয়ালদহগামী ১২ বগির ট্রেন এবং বিকেল সাড়ে চারটে থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে শিয়ালদহ থেকে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর ডানকুনিগামী ১২ বগির ট্রেন দেওয়া হোক।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য 

বালি লেক কাউন্টি, হাওড়া