E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: নির্বাচনী পূর্বাভাস

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫১

সরকারি নিষেধাজ্ঞার ফলে ‘ওপিনিয়ন পোল’-এর অবাধ প্রচার থেকে দর্শকরা আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন। এই স্বস্তি অমূলক নয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রায়শই এই পূর্বাভাসগুলি চটকদার উপস্থাপনা, মনগড়া তথ্যের মাধ্যমে তৈরি করা হয় দ্রুত টিআরপি অর্জনের লক্ষ্যে।

বাস্তব হল— প্রতিটি নির্বাচনই স্বতন্ত্র। সঠিক পূর্বাভাস দিতে হলে প্রয়োজন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা, স্বাধীন মতামত সংগ্রহ এবং তার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ, শ্রমসাধ্য এবং দক্ষতা-নির্ভর। ফলে চটজলদি ফলাফলের আশ্রয়ে তৈরি পূর্বাভাস কখনওই নির্ভরযোগ্য হতে পারে না।

টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে যখন দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনই মুখ্য, তখন এই গভীর বিশ্লেষণ স্বাভাবিক ভাবেই উপেক্ষিত হয়। তার বদলে আগের নির্বাচনের ফল, সীমিত তথ্য এবং অনুমানের মিশেলে তৈরি হয় একের পর এক পূর্বাভাস, যা অনেক সময় দর্শকদের বিভ্রান্ত করে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা— আমাদের সমাজে রাজনৈতিক মত প্রকাশের ক্ষেত্রে এক ধরনের অস্বস্তি ও ভয় কাজ করে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরে সাধারণ মানুষ অনেক সময় নির্ভয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন না। ফলে সংগৃহীত তথ্যে পক্ষপাত বা অসম্পূর্ণতার সম্ভাবনা থেকেই যায়, যা পূর্বাভাসকে আরও অনির্ভরযোগ্য করে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটে ‘ওপিনিয়ন পোল’ অনেক ক্ষেত্রেই তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের বদলে বিনোদনের উপাদানে পরিণত হয়েছে। উদ্বেগজনক ভাবে, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বা দক্ষতা ছাড়াই বহু সংস্থা এই ক্ষেত্রে প্রবেশ করছে, যা জনমতকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

সুতরাং, এই ধরনের চটুল ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলাই যুক্তিযুক্ত। গণতন্ত্রে তথ্যের স্বচ্ছতা যেমন জরুরি, তেমনই তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তড়িৎ দাস, কলকাতা-৬

অকেজো

পানিহাটি বিধানসভা অঞ্চলে অবস্থিত ঘোলা একটি অত্যন্ত ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে ঘোলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটিমাত্র পোস্ট অফিস রয়েছে। দুঃখের বিষয়, অধিকাংশ সময়েই এখানে স্পিড পোস্ট, পার্সেল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হয় না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর অনুপস্থিতি, কম্পিউটার খারাপ ইত্যাদি বিবিধ কারণের জেরে কাজগুলি সম্পন্ন করা যায় না। এতে সাধারণ মানুষের চরম অসুবিধা হচ্ছে। একটা কাজ সারতে একাধিক দিন লেগে যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অশোক কুমার পাল, কলকাতা-১১১

অপচয়

পূর্ব রেলের শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় প্রতি দিন যাত্রা করার সুবাদে একটা জিনিস হামেশাই চোখে পড়ে— অনেক সময় কামরায় দিনের বেলাতেও আলো জ্বলতে থাকে। এতে বিদ্যুৎ যেমন খরচ হয়, তেমনই বিদ্যুৎ সামগ্রীরও অপচয় হয়। বিষয়টি গার্ড বা ড্রাইভারকে জানালে তাঁরা এসে আলো বন্ধ করে দিয়ে যান। এই ব্যাপারে রেলকর্মীদের একটু খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয় নয় কি?

অতীশ কুমার মণ্ডল, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

কাজের চাপ

এপ্রিলের শুরুতেই পর পর তিন দিন বন্ধ থাকার পর চতুর্থ দিন শনিবার, ‘হাফ ডে’ ডাকঘর খোলা ছিল। ফলে, গ্রাহকদের ভিড় ও হয়রানি ছিল নজরে পড়ার মতো। প্রবীণ নাগরিকরা বসার জায়গা না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। সে দিন ডাকঘরের পাঁচটি কাউন্টারের মধ্যে মাত্র দু’টি খোলা ছিল। একটিতে চিঠি রেজিস্ট্রেশন, পার্সেল, মানি অর্ডার এবং অন্যটিতে এমআইএস, রেকারিং, পিপিএফ, এসসিএসএস প্রভৃতি কাজ হচ্ছিল। ফলে দু’জন কর্মী কাউন্টার সামলাতে নাজেহাল হচ্ছিলেন। একই ছাদের তলায় এত রকম কাজ আর কোনও সরকারি অফিসে বোধ হয় হয় না।

ব্যাঙ্ক ও ডাক পরিষেবার মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। প্রথমত, ব্যাঙ্ক পরিষেবা ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ডাক পরিষেবা ইন্ডিয়া পোস্ট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। দ্বিতীয়ত, ব্যাঙ্ক প্রধানত টাকা লেনদেন করে, কিন্তু ডাকঘর টাকা লেনদেন-সহ চিঠিপত্র রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে আধার কার্ড বানানোর মতো অন্য নানাবিধ কাজ করে। তৃতীয়ত, ব্যাঙ্কের পাসবুক-চেকবুক পুরু ও পাতার সংখ্যা বেশি, কিন্তু ডাকঘরের পাসবুক-চেকবুক তুলনায় পাতলা ও পাতার সংখ্যা কম। ফলে, ডিজিটাল লেনদেনের জন্য অচিরেই পাতা শেষ হয়ে গেলে নতুন পাসবুক-চেকবুক পাওয়ার ক্ষেত্রে সময় লাগে।

তা ছাড়া, ব্যাঙ্কে কোনও এজেন্ট নেই। কিন্তু ডাকঘরে এজেন্টের ছড়াছড়ি! কমিশন কমে যাওয়ায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করলেও কোনও এজেন্টই তাঁদের এজেন্সি ছেড়ে যাননি। তাঁদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ গ্রাহকরা নাজেহাল। গুচ্ছের বই এনে কাউন্টার জুড়ে থাকাই তাঁদের নিত্যদিনের কাজ। প্রশ্ন ওঠে, ই-ব্যাঙ্কিং, নেট-ব্যাঙ্কিং’এর ডিজিটাল জমানায় ডাক-পরিষেবা ও ব্যাঙ্ক-পরিষেবা একই ছাদের তলায় কেন?

ভারতীয় ডাকবিভাগের কাছে আবেদন, কাজের জটিলতা দূর করতে ডাক-পরিষেবা ও ব্যাঙ্ক-পরিষেবা আলাদা করা হোক। আশা করি, এতে ডাককর্মী ও গ্রাহকদের মেলবন্ধন দৃঢ় হবে।

অমরেশ পাল, ব্যান্ডেল, হুগলি

বেদখল

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর বাদুড়িয়া ব্লকের তরণীপুর, বালকী হাই স্কুলের, শাঁড়াপুল ডাকবাংলো-সহ বহু যাত্রী প্রতীক্ষালয় ব্যবসায়ীরা দখল করে কোথাও চায়ের দোকান, কোথাও মাছ বিক্রি, আবার কোথাও তাসের আড্ডায় পরিণত করেছেন। বেশির ভাগ প্রতীক্ষালয় বাম আমলে তৈরি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবেদন, যত শীঘ্র সম্ভব এই সমস্ত যাত্রী-প্রতীক্ষালয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হোক, যাতে সাধারণ যাত্রীরা রোদ বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

সরবত আলি মণ্ডল, বালকী, উত্তর ২৪ পরগনা

প্রাপ্তি কী

আশির দশকে বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা মানে ছিল ব্ল্যাকবোর্ড, খড়ি, আর শিক্ষকের কণ্ঠে পাঠের সুর। বইয়ের বাইরে শেখার সুযোগ ছিল সীমিত, কিন্তু শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। শিক্ষক কেবল পাঠদাতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক, অভিভাবকও। নব্বইয়ের দশকে এসে কিছু পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। টেলিভিশন, নতুন ধরনের বই, এবং ধীরে ধীরে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। তবুও বাংলা মাধ্যম তখনও মধ্যবিত্ত বাঙালির প্রথম পছন্দ। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল বোর্ড, অনলাইন ক্লাস, স্মার্টফোন— সব মিলিয়ে শিক্ষার ধরন অনেক আধুনিক। কিন্তু এই আধুনিকতার মাঝেই কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে আগেকার সেই মানবিক স্পর্শ। শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক অনেকটাই পেশাদার হয়েছে, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমেছে।

তবে এর মধ্যেও আশার আলো আছে। অনেক বাংলা মাধ্যম স্কুল এখন নতুন ভাবে নিজেদের গড়ে তুলছে— উন্নত পরিকাঠামো, আধুনিক পাঠপদ্ধতি, এবং একই সঙ্গে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে। পুরনো দিনের সেই আন্তরিকতা আর এখনকার আধুনিক সুযোগ— দু’টির সমন্বয়েই হয়তো তৈরি হতে পারে আগামী দিনের সঠিক শিক্ষার পথ।

পিয়ালী ঘোষ, শ্রীরামপুর, হুগলি

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy