সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: প্রতিবাদের ধরন

Letter to the Editor: type of protest

সুগত মারজিৎ-এর ‘ভাগ্যিস এ রাজ্যে জন্মেছি’ (২০-১) নিবন্ধ বিষয়ে বলি, এ রাজ্যের মানুষের সচেতনতা, বা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, বা বৃহত্তর স্বার্থে বিতর্ক করা— এ সব তখনই ‘গ্রহণযোগ্য’ হয়, যখন সে প্রতিবাদ এ রাজ্যের শাসককুলের নীতির সঙ্গে সৌহার্দ্য রেখেই হয়। শুধু আজ নয়, বাম আমলেও এ রাজ্যের শাসকের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ এ রাজ্যের মানুষ করেনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সন্তোষ ভট্টাচার্য, প্রাক্তন পুলিশকর্তা নজরুল ইসলাম, অথবা অম্বিকেশ মহাপাত্র, শিলাদিত্য চৌধুরীর ঘটনা ‘সচেতন’ মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ তৈরি করেনি। নন্দীগ্রামের ঘটনাটা উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। সেটা বাদ দিলে, এ রাজ্যের মানুষের প্রতিবাদ মানেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আর তা গত ৪০ বছরের ঐতিহ্য। এটাও আমাদের মৌলিকত্ব।

আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা-৬৪ 

রাজ্য এগিয়ে?

 ‘ভাগ্যিস এ রাজ্যে জন্মেছি’ নিবন্ধে লেখক লিখেছেন, অবশিষ্ট ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের চেতনার মৌলিক তফাত আছে। কিন্তু, লেখকের এমন ধারণার কোনও সুনির্দিষ্ট সূত্রনির্দেশ বা তথ্যনির্দেশ নেই। তিনি বলেছেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভ জাতীয় স্তরে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে দাগ কাটেনি। এই প্রসঙ্গে হিন্দি বলয়ের থেকে আমাদের রাজ্য পৃথক, তা বলার চেষ্টা করেছেন। আমাদের রাজ্যে কলকাতা ছাড়া কোথায় আন্দোলন-বিক্ষোভ হয়েছে? বরং উত্তরপ্রদেশে, কর্নাটকে এবং অসমে একাধিক শহরে এই আন্দোলন হয়েছে। 

লেখক লিখেছেন, বারাণসীর এক ভাড়া করা গাড়ির চালক এবং অনাবাসী ভারতীয়েরা হিন্দুত্বের ‘রক্ষাকবচ’-এর পক্ষে। গাড়ি থেকে নেমে উনি যদি একটু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন, হয়তো অভিজ্ঞতাটা অন্য হত। লেখকের কি নজরে আসেনি, কেপটাউন থেকে মিউনিখ থেকে ওয়ারশ’তে শত শত অনাবাসী, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভ জানিয়েছেন? সোশ্যাল মিডিয়া এবং ই-মেলের সাহায্যে যোগাযোগ করে তাঁরা প্রায় ৫০টি প্রতিবাদসভা করেছেন। শুধু ‘রক্ষাকবচ’ নিয়ে চিন্তিত থাকলে, হিন্দি বলয়ে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় হত না। হিন্দি বলয় মূলত হিন্দু বলয় হলেও, ওই অংশের মুসলিম নাগরিকেরা কী ভাবছেন, তাও জানা দরকার। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভের উপর পুলিশি অত্যাচারে সর্বাধিক মৃত্যু এই বলয়েই হয়েছে। 

স্বাধীনতোত্তর সময়ে আমাদের রাজ্যে কী এমন মননের বিবর্তন হয়েছে যে লেখক রাজ্যবাসীকে সারা দেশের থেকে এগিয়ে রাখলেন? বিধান রায়ের পরবর্তী সময়ে সিদ্ধার্থ রায়ের জরুরি অবস্থাকালীন শাসন, ৩৪ বছরের বাম শাসন, বর্তমান তৃণমূল শাসন আমাদের রাজ্যকে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে দিয়েছে। 

কয়েকটি ক্ষেত্রে এ রাজ্যের অবস্থান কোথায়, কিছু তথ্য দিয়ে জানাই। ১৯৫১ থেকে ২০১১ সালে এ রাজ্যে সাক্ষরতার হার ২৪.৬১% থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৬.২৬%, আর গুজরাতে ওই সময়ে এই হার ২১.৮২% থেকে হয়েছে ৭৮.০৩%। প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় ৩০টির বেশি কলেজ আছে অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, রাজস্থান এবং তামিলনাড়ুতে, এ রাজ্যে মাত্র ৮টি। এ রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ২৬টি, আর উত্তরপ্রদেশে ৫৮টি, অন্ধ্রপ্রদেশে ৪৭টি, মহারাষ্ট্রে ৪৪টি, কর্নাটকে ৪৩টি। 

রামমোহন-বিদ্যাসাগর-বিবেকানন্দ-রবীন্দ্রনাথের মননশীলতা বাঙালির ডিএনএ-তে ঢুকে গেছে, আর পশ্চাদগামী শিক্ষাব্যবস্থা (উপরের তুলনার ভিত্তিতে) নিয়েও বাঙালির মননশীলতা সারা ভারতকে দিশা দেখাচ্ছে, এই ধারণা পোষণ করলে আমরা মূর্খের স্বর্গে বাস করব। তারই ফলে চেতনাসমৃদ্ধ মাটিতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণপন্থীদের ৪২টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয়লাভ, মোট ভোটের ৪০.২৫% ভোট পেয়ে।

পঙ্কজ কুমার চট্টোপাধ্যায়

খড়দহ, উত্তর ২৪ পরগনা

 

শিক্ষকের বিপদ

 গোটা রাজ্যে, বিশেষত গ্রাম্য এলাকায়, সচেতনতার অভাবে এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে দীর্ঘ দিন ধরে অধিকাংশ মানুষের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, স্কুল সার্টিফিকেট প্রভৃতিতে তথ্যের ভুলভ্রান্তি ছিল সাধারণ ঘটনা। 

এখন এনআরসি আতঙ্ক মানুষকে এমন ভাবে তাড়া করেছে, নাগরিকত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে সকলে সমস্ত ডকুমেন্ট সংশোধন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। ১৯৮০ সালের আগে জন্ম শংসাপত্র বাধ্যতামূলক না থাকায়, যাঁরা তার আগে জন্মেছেন, তাঁদের একমাত্র ভরসা প্রাথমিক স্কুলের শংসাপত্র। নতুন বছরের শুরু থেকে অধিকাংশ প্রাথমিক স্কুলে লম্বা লাইন নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু এলাকায়।

এমনিতে শিক্ষক-সংখ্যার অপ্রতুলতার কারণে অনেক প্রাথমিক স্কুলের পঠনপাঠন বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষকদের এখন বহু কাজ করতে হয়, যার সঙ্গে পাঠদানের প্রাথমিক সম্পর্ক নেই, তার উপরে আবার এই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট সমস্যা! 

৪০-৫০ বছর আগের রেজিস্টারের পৃষ্ঠা এখন হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে। সে-সব রেজিস্টার তন্নতন্ন করে প্রায় খড়ের গাদায় সুঁচ খুঁজতে হচ্ছে। খুঁজে পেতে দেরি হলে এনআরসি-ভাইরাসে আক্রান্ত অধৈর্য মানুষের গালাগালি ও লাল চোখ হজম করতে হয়। তার পর যদি বা পাওয়া যাচ্ছে, রেজিস্টারে নথিভুক্ত তথ্যের সঙ্গে আধার বা ভোটার কার্ডের তথ্য না মিললে, পড়তে হচ্ছে হামলার মুখে। অথচ অনেকে আসছেন, যাঁদের ছাত্রাবস্থায় আজকের শিক্ষকরা জন্মাননি।

জয়ন্ত মণ্ডল

স্বরূপনগর, উত্তর ২৪ পরগনা

 

রাজনীতি বালাই

‘আদালতে বাম কেরল’ (১৫-১) সংবাদ প্রসঙ্গে বলি, কেরল বিধানসভায় সিএএ-বিরোধী প্রস্তাব পাশের সময় যখন ‘‘এই আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ক্ষুণ্ণ করেছে’’ ইত্যাদি মন্তব্য করেন  মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তখন হয়তো তিনি  বিস্মৃত হন, ২০১২ সালের এপ্রিলে এই কেরলের কোজিকোড়ে সিপি আই(এম)-এর বিংশতিতম কংগ্রেসে এ ব্যাপারে গৃহীত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল: "This  party congress calls upon the Central Govt to honour the assurance given by the Prime Minister to sympathetically consider the large number of Bengali refugees to recognize them as citizen of India.  They had fled their country erstwhile East Pakistan and then Bangladesh."

যদিও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এখানে ‘বাঙালি উদ্বাস্তু’ শব্দবন্ধটি হিন্দু শরণার্থীকেই নির্দেশ করে, তবু বর্তমানে ওই দলটি চতুর ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তারা নাকি হিন্দু-মুসলমান উভয়কেই বোঝাতে চেয়েছিল। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের পরের লাইনটি ছিল: "A large number of these refugees belong to the Scheduled Castes, mainly  namashudra communities and are living in different parts of the country."

ঘটনাচক্রে সে সময় কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস, যে-দলের মনমোহন সিংহ ২০০৩-এর ১৮ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় বিরোধী নেতা হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীর কাছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। পরে নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়ে এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি। আবার, তাঁর জমানায় যে-নেত্রী অভিযোগ করেছিলেন, অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত হচ্ছে, আজ তিনিই এই আইনের তীব্র বিরোধিতায় রাজপথে। রাজনীতি বড় বালাই।

শান্তনু রায় 

কলকাতা-৪৭

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন