E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: নারীর ক্ষমতায়ন

এ রাজ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডারকে অনেকেই ‘ভিক্ষার দান’ বলে চিহ্নিত করেন। কিন্তু তাঁরা খোঁজ রাখেন না যে শুধু এই রাজ্যেই নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যও মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প শুরু করেছে।

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:০৪

ঈশা দাশগুপ্তের ‘যত দোষ লক্ষ্মীর ভান্ডারের?’ (৫-১২) প্রবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠির অবতারণা। উন্নয়নের স্বার্থে মহিলাদের হাতে নগদ হস্তান্তর প্রকল্পের গুরুত্ব অর্থশাস্ত্রীরা বারে বারেই চিহ্নিত করেছেন। তবু এ রাজ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডারকে অনেকেই ‘ভিক্ষার দান’ বলে চিহ্নিত করেন। কিন্তু তাঁরা খোঁজ রাখেন না যে শুধু এই রাজ্যেই নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যও মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প শুরু হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এরও আগে ভারতের কয়েকটি রাজ্য মহিলাদের নগদ অর্থ প্রদানের প্রকল্প শুরু করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশে এই প্রকল্পের নাম ‘জগনান্না আম্মাভোডি স্কিম’। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া এই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলাদের বার্ষিক পনেরো হাজার টাকা দেওয়া হয়। অসমে এর নাম ‘অরুণোদয় যোজনা’, ২০২০ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া এই প্রকল্পে ১০০০ টাকা করে প্রতি মাসে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে চলে যায়। তামিলনাড়ুতে এই প্রকল্পের নাম ‘কালাইঙ্গার মাগলির উরিমাই থোগাই’, প্রতি মাসে মহিলাদের দেওয়া হয় ১০০০ টাকা। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ এই ধরনের প্রকল্প শুরু করেছে ২০২৩ সালে, প্রকল্পের নাম ‘মুখ্যমন্ত্রী লাডলি বেহেনা যোজনা’, প্রতি মাসে দেওয়া হয় ১০০০ টাকা। শিবসেনা-বিজেপি-এনসিপি জোট শাসিত মহারাষ্ট্র হল এই তালিকায় নবতম সংযোজন। ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ নামের এই প্রকল্পে প্রতি মাসে মহিলাদের ২১০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে এককালীন দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীর ভান্ডারের হাজার টাকা কিন্তু গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের কাছে অনেকটাই। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকায় তিনি যেমন নিজের শখ পূরণ করতে পারেন, তেমনই স্বামী বা সন্তানের প্রয়োজনেও সাহায্য করতে পারেন। তবে যে সব সচ্ছল পরিবারের মহিলারা এই টাকা নেন, তাঁদের উচিত গরিব মহিলাদের কথা চিন্তা করে এই অনুদান স্বেচ্ছায় ত্যাগ করা। রাষ্ট্রপুঞ্জের মতে, মহিলারা পুরুষদের তুলনায় দরিদ্রতর, অতিমারি নারীদের আরও দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভারতে মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পেনশন প্রদান প্রভৃতি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহিলাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই সব প্রকল্প নারীদের ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভারতে এই ধরনের প্রবণতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সূচনা করেছে— একটি প্রধান নির্বাচনী গোষ্ঠী হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মহিলা ভোটারদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অনেক বেড়েছে। ভারতের দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যে, নির্বাচনে পুরুষদের তুলনায় নারী-ভোটারদের হার বেশি।

তবে রাষ্ট্রের উচিত শুধুমাত্র খয়রাতির দ্বারা নারীদের মুক্তির চেষ্টা না করে, মহিলাদের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের উপর জোর দেওয়া। বেসরকারি ও সরকারি খাতে বেতনে সমতা নিয়ে আসা।

রবীন রায়, শ্যামনগর, উত্তর ২৪ পরগনা

আর্থিক স্বাধীনতা

ঈশা দাশগুপ্ত তাঁর ‘যত দোষ লক্ষ্মীর ভান্ডারের?’ প্রবন্ধে বাঙালির ঘরের কথাটিকেই তুলে ধরেছেন— নারীকে সম্মান করতে হবে। এ কথা ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে আসছি। অথচ, আজও এ দেশের বহু পরিবারে মেয়েকে বোঝা মনে করা হয়। তাদের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে তাদের কম বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। প্রশ্ন হল, লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে এত কথা উঠছে কেন? কারণ, ভয়। আর্থিক সচ্ছলতা নারীর চিন্তার জগতে স্বতন্ত্র মতামতের রসদ জোগায়। রাজনীতির ময়দানেও ইদানীং তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভোটেও নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠছেন মহিলারা। আর এখানেই পুরুষতন্ত্রের আপত্তি। ‘সবলা’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার/ কেন নাহি দিবে অধিকার/ হে বিধাতা?’ অধিকার রক্ষিত হয় শিক্ষার আলোকে। অর্থনৈতিক সহায়তায়। সামান্য হলেও নারীকে সেই সাহায্যটুকু দিয়েছে এই প্রকল্প।

প্রবন্ধকার যথার্থই বলেছেন, বহু সম্পন্ন ঘরের স্ত্রী-কন্যারাও লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা লুকিয়ে নিচ্ছেন। কেন? রাজনৈতিক নেতাদের কাছে এর যে উত্তরই থাকুক না কেন, বহু কাল আগে কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় এর উত্তর দিয়ে গিয়েছেন— স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে/ কে বাঁচিতে চায়? অর্থাৎ, স্বাধীনতা হীনতায় কেউ বাঁচতে চায় না। সে দিক থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প স্বাধীনতা রক্ষায় এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপের নিন্দা করার আগে কেন এ প্রকল্প এতখানি গ্রহণযোগ্য রূপ পেল বরং তা-ই নিয়েই গবেষণা চলুক রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও মাত্র এক হাজার টাকা অনুদান কেন রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখলের নির্ণায়ক হয়ে উঠল? অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন যে ‘ফ্রিডম অব চয়েস’-এর কথা বলেছেন, সকল রাজনৈতিক দল মিলে সেই ‘চয়েস’-এর সুযোগটা অন্তত করে দিন।

দীপায়ন প্রামাণিক, গোবরডাঙা, উত্তর ২৪ পরগনা

ধর্মের আড়ালে

যে ধর্ম একদা ছিল মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে চর্চার বিষয়, সেই ধর্মকে ঘিরে মানুষের আগ্রাসী মনোভাব এখন সমাজ জীবনের প্রতি ক্ষেত্রের দখল নিতে চলেছে। এমনকি, শিক্ষার জগতেও মেধাকে পরাজিত করে পরীক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয়ই তাঁর উচ্চশিক্ষায় নীতি-নির্ধারকের ভূমিকা নিচ্ছে। সম্পাদকীয় ‘বিষবৃক্ষের ফল’ (১-১২) সঠিক ভাবেই বর্তমান ভারতের রাজনীতির অতলস্পর্শী নিম্নগামিতা প্রকাশ করেছে। কাটরার শ্রীমাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এক্সেলেন্স-এর এমবিবিএস কোর্সে পঞ্চাশ জন নির্বাচিত ছাত্রের মধ্যে বিয়াল্লিশ জনই মুসলমান হওয়ায় ভর্তি তালিকা বাতিলের দাবিতে বিজেপির আন্দোলনে নামার সংবাদে রাজনীতির অন্তঃসারশূন্য অবস্থা চোখের সামনে ভেসে উঠল।

ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। অর্থাৎ, দেশের প্রতিটি নাগরিক ধর্ম নির্বিশেষে সমান অধিকার পাওয়ার অধিকারী। ধর্মের কারণে কোনও ব্যক্তি কোনও অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন না কিংবা কোনও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। অথচ, যখন মুসলিম ছাত্ররা তাঁদের মেধার ভিত্তিতে ডাক্তারিতে সুযোগ পেলেন, তখন সে সুযোগ তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য আন্দোলনে নামল বিজেপি। অথচ, ভারতের প্রগতির পথে কোনও ভুল ত্রুটির জন্য তারা যে নেহরুকে সর্বদা দোষী সাব্যস্ত করে, সেই নেহরুই দেশের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন।

বর্তমান ভারতে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হল ধর্ম। হিন্দুত্ববাদী ও ইসলামি মৌলবাদী সংগঠনগুলো এই সহজ রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরে সমগ্র ভারতে তাদের ঘুঁটি সাজাচ্ছে। ভারতের মতো এত বৈচিত্রপূর্ণ দেশে, যেখানে বহু ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি বহু দিন ধরে পাশাপাশি সহাবস্থানে আছে, সেখানে ধর্ম বা ভাষা নিয়ে বিভেদের রাজনীতি দেশকে বিচ্ছিন্নতার পথে নিয়ে যায়। ক্রমাগত অনৈক্যের বার্তা আখেরে দেশের ভিত্তিকেই দুর্বল করে। অবশ্য রাজনীতির কারবারিদের তাতে কিছু যায় আসে না, তাঁরা শুধুমাত্র তাঁদের রাজনৈতিক মুনাফা তুলতে মরিয়া।

সুরজিৎ কুন্ডু, উত্তরপাড়া, হুগলি

বেপরোয়া

কলকাতার মতো জনবহুল রাস্তায় স্কুটি বা বাইক আরোহীদের একাংশ হেলমেটের মধ্যে মোবাইল সেট করে বা সরাসরি এক হাতে ফোন ধরে গাড়ি চালান। এঁদের এই বেপরোয়া মনোভাবের জন্য পথচারীদের বিপদ বেড়েই চলেছে। পুলিশ অনেক সময়ই নিষ্ক্রিয় থাকে। এঁদের উপযুক্ত শাস্তিবিধানের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অরূপরতন আইচ, কোন্নগর, হুগলি

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Women Schemes

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy