Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: জীবে প্রেম কোথায়

২০ অগস্ট ২০১৮ ০০:০০

‘কুকুরের গায়ে পিচ ঢালার অভিযোগ’ (২০-৮) খবরের প্রেক্ষিতে এই চিঠি। বেহালায় দু’টি নিরপরাধ কুকুরের গায়ে গরম পিচ ঢেলে কে বা কারা পৈশাচিক অানন্দ উপভোগ করেছে। এ নতুন কোনও ঘটনা নয়। আমাদের চার পাশে অনেক মানুষ আছে যারা অবলা জীবদের যন্ত্রণা দিয়ে, তাদের উপর অত্যাচার করে আনন্দ পায়। তারা ভুলে যায়, এ পৃথিবীটা শুধু মানুষের বসবাসের জন্য নয়। এখানে প্রতিটি জীবের বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার আছে। শুধু তা-ই নয়, জীবজগৎ ধ্বংস হলে বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। তখন মানুষের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। এই সত্যকে জানার বা বোঝার ন্যূনতম শিক্ষাও এদের বোধ হয় নেই। তাই কুকুরছানার গায়ে পেট্রল ঢেলে অনায়াসে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। আশার কথা, এদের সম্পূর্ণ বিপরীতে অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা পশুপ্রেমী। এঁরা অসহায় আর্ত পশুদের সাহায্যের জন্য হাত বাড়ান।

মহুয়া মুখোপাধ্যায়, কলকাতা-১০৮

কেন দুর্ঘটনা

Advertisement

পোস্তার পর এ বার শিলিগুড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ফাঁসিদেওয়ার কান্তি ভিটায় ৩১ডি জাতীয় সড়কের উপর কেন্দ্রীয় সংস্থা এনএইচআই-এর অধীনে নির্মীয়মাণ দু’টি টি আকৃতির পোর্টাল বা স্তম্ভের উপর, প্রায় ২৫ মিটার লম্বা রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিটের (আরসিসি) গার্ডারগুলি একই ভাবে ভেঙে পড়েছে। ভাগ্যক্রমে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন, কেন এই বার বার দুর্ঘটনা। শুধু এই রাজ্যেই নয়, অন্য রাজ্যেও এ রকম ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটছে। পোস্তার জন্য অনেক তদন্ত হল, কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। একটি কথা ওই তদন্ত কমিটিগুলো কখনওই বলে না।সেটি হল, মন্ত্রিমহোদয়দের উদ্বোধনের জন্য বেঁধে দেওয়া অবাস্তব সময়সীমা। স্থানীয় মানুষেরা বলেছেন খুবই অল্প দিনে (৩ থেকে ৬ অগস্টের মধ্যে) তাড়াহুড়ো করে এই ঢালাই কাজগুলি হয়েছে, ডিসেম্বরে নাকি উদ্বোধনের কথা।

মন্ত্রী নেতারা টাইম লাইন দিয়েই খালাস, কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, এই রকম স্টিল ও কংক্রিটের কাজগুলি খুবই স্পর্শকাতর। ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, আইএস কোড এব‌ং আইআরসি প্রভৃতি নির্দেশিকা অনুযায়ী বিধিবদ্ধ ধারাগুলি বিভিন্ন সময়ে মানতে হয়। বিশেষত কংক্রিট ঢালাইয়ের পরের সময়টা, যখন ঢালাই হওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তলার কোনও সাপোর্ট (যেমন প্রপ) খোলা যাবে না। যথেষ্ট পরিষ্কার জল দ্বারা বিধিবদ্ধ কিয়োরিং করতে হবে, যাতে ঢালাইয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কংক্রিটের কাজটিতে যে ভয়াবহ তাপের উদ্ভব হবে, সেই প্রভাবকে কমিয়ে দিতে পারে। অন্যথায় ঢালাইটি ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে। সাপোর্ট সিস্টেমটি আগেভাগে খুলে নিলে তো বিপদের শেষ নেই।

সময়সীমা মানতে গিয়ে আর যে যে ভুল হতে পারে: শুরুতে উড়ালপুলটির কাঠামোটির ডিজ়াইন ও নকশা তৈরিতে ঘাটতি (এ ক্ষেত্রে ক্রস গার্ডারের অনুপস্থিতি ভাবার বিষয়)। ২) নকশা অনুযায়ী যথার্থ ইমপ্লিমেনটেশনে ঘাটতি। ৩) নির্মাণসামগ্রী যথা লোহা, সিমেন্ট, বালি ও পাথরগুলির গুণমান পরীক্ষায় ঘাটতি। ৪) সমগ্র কাজটির বিল্ডিং কোড অনুযায়ী কাজ করার প্রণালীতে ঘাটতি। ৫) সাপোর্ট সিস্টেমটির ডিজ়াইনে ক্রটি। ৬) বাইরে থেকে কোনও বড় গাড়ি বা ট্রেলার বা কন্টেনারের ধাক্কা, অবশ্যই কিছু ল্যাটারাল চাপ নেওয়ার ক্ষমতা মূল ডিজ়াইনে ধরা থাকার কথা। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে তা-ও এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে। তাই বিধিবদ্ধ সময়টুকু দিতেই হবে।

মৃণাল মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন চিফ ইঞ্জিনিয়ার, পূর্ত দফতর, প. ব. সরকার

ইঁদুর ও ব্রিজ

ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে বাসে যাওয়ার সময় দেখি, জোকা-মেট্রো রেলের প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড পিলারগুলির নীচে বিরাট বিরাট ইঁদুর মাটি ফুঁড়ে প্লাস্টিক, থার্মোকলের থালা, বাটি, নোংরা আবর্জনা ঘাঁটছে। এর পরিণাম ভয়ঙ্কর হতে পারে। ইঁদুররা ঢাকুরিয়া ব্রিজকে ফোঁপরা করেছিল, তা আমাদের মনে আছে।

ইন্দ্রজিৎ সেন, বেহালা

কিছু পরামর্শ

‘জট মুক্তিতে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা’ (৩১-৭) শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে এই চিঠি। খবরটি পড়ে খানিকটা আশান্বিত হয়েও, তাৎক্ষণিক কিছুটা সুরাহার ব্যবস্থার কথা পরিকল্পনায় না থাকায় বেশ আশাহত হলাম। ঘটনা হচ্ছে, বর্তমানে কলকাতা থেকে ভিআইপি রোড বা যশোর রোড দিয়ে বারাসত বা বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েগামী, তেমনই উল্টো দিক থেকে কলকাতাগামী নিত্যযাত্রীদের দুরবস্থা অবর্ণনীয়। আড়াই নম্বরের এই যানজট একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এ থেকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকার কোনও ত্রুটি রাখবে না, বলার অপেক্ষা রাখে না। তবু দু’চার কথা বলি।

১) এক দিকে উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের সঙ্গে সড়কপথে কলকাতার মুখ্য সংযোগকারী সড়ক এবং অন্য দিকে এক আন্তর্জাতিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের অবস্থানের ফলে দমদমের এই অংশটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিমানবন্দরের সন্নিকটে দৈনন্দিন এই যানজটচিত্র কোনও ভাবেই এক উন্নত ও আধুনিক রাজ্যের বার্তা বহন করে না।

২) বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের উড়ালপুলের ত্রুটিপূর্ণ অংশটি অবিলম্বে সারানো ও ভারী বা পণ্যবাহী গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা করা দরকার।

৪) যশোর রোডের উপর আড়াই নম্বরের ও এয়ারপোর্ট রোডের সংযোগস্থল বন্ধ করা বা একমুখী করা উচিত। এই সংযোগস্থলের ট্র্যাফিক সিগনাল যানজট সৃষ্টির অন্যতম মুখ্য কারণ। বস্তুত এই গেটটি বন্ধ থাকলে কলকাতাগামী গাড়ির চলাচল নিরবচ্ছিন্ন হবে। কলকাতাগামী গাড়িগুলিকে শরৎ কলোনি থেকে কৈখালির আগে কোনও সিগনালের সম্মুখীন হতে হবে না।

৫) এ ক্ষেত্রে তিন নম্বর থেকে এক নম্বর পর্যন্ত যশোর রোডের সম্প্রসারণের জন্য এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার জমি অনুমোদনসাপেক্ষে নেওয়া যেতে পারে।

৬) ওই অংশটি অনতিবিলম্বে সম্প্রসারণ না করা গেলেও, অবিলম্বে মেরামতি ও ভারী বা পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত করা একান্ত প্রয়োজন।

৭) নাগেরবাজারের দিক হয়ে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বা বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েগামী যানবাহন, বা অপর দিক থেকে নাগেরবাজার হয়ে কলকাতাগামী যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের জন্য দু’নম্বর গেট থেকে এইচএমভি বা যশোর রোডের কৈখালি মোড় অবধি উড়ালপুল প্রয়োজন।

৮) ভিআইপি রোড থেকে নাগেরবাজারের দিকে ছোট গাড়ির নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের জন্য হলদিরামের আগে, কৈখালি রাস্তা এবং এক নম্বরের বাঁ দিকের ছোট বাইপাস রাস্তা বহুল ব্যবহৃত। এক নম্বরের কাছের এই ছোট বাইপাসটি সংস্কার ও বিটুমিনাস পিচ দ্বারা তৈরি করা একান্ত দরকার।

৯) যশোর রোডের দু’নম্বর থেকে লেকটাউন অবধি চার লেন হলেও বস্তুত দুই লেনের। এক নম্বর থেকে লেকটাউন পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে বাস ও ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা বহু দিনের অভ্যাস। এই রাস্তায় বাস চললে সেই বাসই নিয়ন্ত্রণ করে পুরো যানব্যবস্থা। বাসের গতি ও তার পুরো পিছনের যানের গতি একই। মার্কিং দিয়ে বাস চলাচলের লেন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত যাতে ওই মার্কিং অংশ ছাড়া অন্য অংশ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে অন্যান্য গাড়ি যাতায়াত করতে পারে।

১০) হলদিরাম থেকে এয়ারপোর্ট উড়ালপুলের নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ওঠার জন্য ভিআইপি রোডের বাঁ দিকে একটি লেন একচেটিয়া ভাবে মার্কিং করা দরকার, যা ট্র্যাফিক সিগনালের বাইরে থাকবে।

কৈলাস পতি মণ্ডল, রিজিয়নাল সেক্রেটারি, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারস’ গিল্ড (ইন্ডিয়া), পূর্বাঞ্চল

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

আরও পড়ুন

Advertisement