সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: শেলবিদ্ধ ‘সেল’

Cell

ইংরেজি cell শব্দটার দ্যোতনা— ভাষাটা যতটুকু বুঝি তাতে— সীমাবদ্ধতা, সঙ্কীর্ণতা, একদেশদর্শিতা জাতীয় বৈশিষ্ট্যাবলি, তা সে মানসিক পরিসর হোক বা ভৌগোলিক, সূচিত করে। ফেলুদাকে তাঁর সিধু জ্যাঠা (ছবিতে) মনের জানালা সব সময় খুলে রাখার যে সুপরামর্শ দিয়েছিলেন ‘সেল’ কথাটা যেন ঠিক তার বিপ্রতীপে অবস্থান করে। তাই বেশ অবাক লাগে যখন দেখি পশ্চিমবঙ্গের কিছু রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সংগঠনের নামের সঙ্গে ‘সেল’ শব্দটি রয়েছে। শিক্ষা তো আলো দেয় বলে শুনেছি। তা হলে শিক্ষক সংগঠনের নামের সঙ্গে ‘সেল’ শব্দটির ব্যবহার কিসের পরিচায়ক? অজ্ঞতার না কি স্বরূপের?

সুশোভন সরকার

কলকাতা-২৫

 

আরও ‘স্তম্ভ’

 ‘‘সাত ‘স্তম্ভ’কে নিয়ে প্রদর্শনী কলাভবনে’’ (২-৯) প্রতিবেদনটির প্রেক্ষিতে কলাভবনের প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে এই চিঠি। যে ‘সাত দিকপাল’কে নিয়ে এই প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে আমার বলার কিছুই নেই। কিন্তু যাঁদের কথা উল্লেখ করা হল না, তাঁরাও এক এক জন ‘স্তম্ভ’ হিসেবেই রবীন্দ্রনাথের কল্পনাকে বাস্তবায়িত করে এক প্রতিষ্ঠানের রূপ দিয়েছিলেন। কিছু বছর আগেও কলাভবন সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল তার আলপনা, ক্রাফটস্‌ বিষয়গুলির জন্য, যার শিক্ষা রবীন্দ্রনাথ নিজে চালু করেছিলেন নন্দলালকে দিয়ে। এই বিভাগকে লালিত করে তাকে এক প্রতিষ্ঠানের রূপ দেন নন্দলালের দুই কন্যা গৌরী ভঞ্জ ও যমুনা সেন এবং নন্দলালের সুযোগ্য ছাত্র ননীগোপাল ঘোষ। তাঁদের কেন ‘স্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল না, আর কেনই বা ক্রাফটস্, ডিজ়াইন বিভাগগুলি আজ এতটাই ব্রাত্য?

ব্যক্তিগত ভাবে আমি ছিলাম সোমনাথ হোরের ছাপাই ছবির বিভাগে আমাদের ব্যাচে একমাত্র ছাত্রী, এবং আমাদের অধ্যক্ষ ছিলেন চিত্রশিল্পী, কলাভবনেরই প্রাক্তন ছাত্র দিনকর কৌশিক। কৌশিকদা নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, এবং যিনি রামকিঙ্কর-বিনোদবিহারী পরবর্তী সময়ে কলাভবনকে পুষ্ট করেছেন সোমনাথ হোর বা শর্বরী রায়চৌধুরীদের মতো শিল্পীদের নিয়ে এসে কলাভবনে নিয়োগ করে। তিনি যে আমাদের কলাভবনের কত বড় ‘স্তম্ভ’ ছিলেন, তা আমাদের মতো অগণিত ছাত্রছাত্রী অবনত মস্তকে স্মরণ করি।

লীনা ঘোষ

কলকাতা-৭৫

 

দ্রুত কার্ড চাই

লোকসভা ভোটের ঠিক আগেই রাজ্য সরকার গ্রামীণ গ্রন্থাগারগুলিকে পুনর্জীবিত করার জন্য সেখানে বিনামূল্যে সদস্য সংগ্রহের কথা ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনেক সদস্য, যাঁরা গ্রন্থাগারে পাঠক হিসেবে বিনামূল্যে গ্রন্থ পাঠ করতে ইচ্ছুক, তাঁরা নির্দিষ্ট আবেদনপত্রে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মার্চ মাস থেকে শুরু করে অগস্ট মাস পর্যন্ত তাঁদের কোনও কার্ড— লেন্ডিং কার্ড বা রেফারেন্স কার্ড ইসু করা হয়নি। মার্চ মাসের শেষে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় জানানো হয়েছিল মে মাসের শেষ সপ্তাহে কার্ড দেওয়া হবে। মে মাসে খোঁজ নিতে যাওয়া হলে জানানো হয় জুন মাসের শেষের দিকে খোঁজ নেওয়ার কথা। জুন মাসের লাস্ট উইকে কার্ড আনতে গেলে বলা হল জুলাই মাসের লাস্ট উইকে খোঁজ নিতে। এই ভাবে ক্রমশ তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং কার্ড দেওয়া হয়নি। তা হলে লোকসভা ভোটের আগে রাজ্য গ্রন্থাগার মন্ত্রী যে ঘোষণা করেছিলেন, গ্রন্থাগারগুলিতে সাধারণ পাঠকরা বিনা শুল্কে/ বিনামূল্যে গ্রন্থ পাঠ করতে পারবেন; সেটা কি লোকসভা ভোটের আগে চটকদার একটি প্রচার ছিল?

বিজয় কুমার দাস

বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

 

উন্নয়ন জরুরি

আমরা সবাই চাই, কাশ্মীরে অচিরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসুক। মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন পরিষেবা চালু হলেও ইন্টারনেট এখনও চালু হয়নি। সম্প্রতি ৫৫ বছর বয়সি এক দোকানিকে মোটরবাইক আরোহী তিন সন্ত্রাসবাদী গুলি করে হত্যা করে। এর আগে অনন্তনাগ জেলার বিজবেহারাতে এক ট্রাকচালককে পাথর ছুড়ে মারা হয়। দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রালে দুই গুজ্জরকে অপহরণ করে সন্ত্রাসবাদীরা হত্যা করে। সম্প্রতি রাতে পাইকারি বাজার খোলা থাকছে, কিন্তু দিনে স্বল্প সময় ছাড়া দোকানপাট বন্ধ রাখা হচ্ছে। এই দু’মুখো কৌশলের সাহায্যে সন্ত্রাসবাদীরা ক্ষমতা প্রদর্শন করছে আবার জনগণকেও হাতে রাখার চেষ্টা করছে। সুতরাং, বোঝা যাচ্ছে কাশ্মীর উপত্যকার অধিবাসীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইছেন সন্ত্রাসবাদীদের অপচেষ্টা সত্ত্বেও।

প্রশাসনকে এই প্রক্রিয়া চালু রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ করতে হবে। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কম সময়ে সম্ভব নয়। তাই, সরকার কর্মসংস্থান না-হওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে এবং ভারতের অন্যান্য প্রদেশে কাশ্মীরিদের চাকরির ক্ষেত্রে স্বল্পকালীন সংরক্ষণের কথাও ভাবতে পারে। সরকারের আন্তরিকতা প্রমাণ করা খুব জরুরি। কাশ্মীরিদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্য বেশি সময় নিলে হবে না। প্রতিবেশী দেশ সক্রিয় আছে এবং উপত্যকার রাজনীতিবিদদের অনির্দিষ্ট কাল অন্তরিন করে রাখা যাবে না।

পঙ্কজ কুমার চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা-১১৬

 

শেষ হল কই?

অবশেষে ডিএলএড ট্রেনিং শেষ হয়েও হইল না শেষ। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে সময় ও শ্রম দিয়েও হতাশা ছাড়া আর কিছুই পেলাম না আমরা। আমরা অর্থাৎ যারা আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা। আমাদের বেশির ভাগেরই শিক্ষকতায় কুড়ি-পঁচিশ বছরের অভিজ্ঞতা। সরকারি চাকরির মতো স্থায়িত্বের প্রতিশ্রুতি আমাদের কেউ দেয়নি। আমরা যদি শিক্ষকতা না করতাম তবে ছাত্রছাত্রীর অপ্রতুলতা আমাদের পেশা পরিবর্তনে বাধ্য করত। জয়েন্ট সেক্রেটারি, ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন, গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া ২০১৭ সালে ডিআই অফিসের মাধ্যমে আমাদের জানায় যে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের পর কোনও আনট্রেন্‌ড টিচার বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে পারবেন না। আশঙ্কা এবং আশার ওপর ভর করে আমরা ট্রেনিংয়ের জন্য ফি জমা করতে থাকলাম। নিয়মিত প্রায় একশো কিলোমিটার দূরে ক্লাস, ওয়ার্কশপ ও আরও দূরে পরীক্ষা দিতে থাকলাম। এই দুই বছরে অনেকেরই প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অজানা কারণে দু’টি পরীক্ষা বাতিলও হয়। অবশেষে বিড়ম্বনার সমাপ্তি ঘটে, রেজ়াল্ট বেরোয়, পাশ করি। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ না থাকার কারণে অনেকেই সার্টিফিকেট হাতে পাচ্ছেন না। রেজ়াল্ট পেয়েছেন। ২৫-৩০ বছর আগের শতাংশ কি আজকে সমমান?

রামমোহন চক্রবর্তী

নবদ্বীপ, নদিয়া

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন

‘সামান্য না পাওয়া নিয়েও বাঁচতে ভুলছে ছোটরা’ শীর্ষক প্রতিবেদন (কলকাতা, পৃ ১২, ১০-৯) এবং ‘ভারতে আত্মহত্যার হার’-এর যে তালিকাটি প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে প্রতি এক লক্ষে আত্মহত্যার হার হিসেবে শতাংশের উল্লেখ করা হয়েছে, যা ঠিক নয়। প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় কত জন আত্মহত্যা করে থাকেন, সেটাই ওই পরিসংখ্যানে তুলে ধরা হয়েছে।

 ‘শুভেন্দু ও শোভনকে ডাক নারদ মামলায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে (পৃ ৫, ১০-৯) রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারীর জায়গায় শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় লেখা হয়েছে।

অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন