সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: মৃত ভাষা আবার?

Sanskrit

Advertisement

উত্তরাখণ্ডে প্ল্যাটফর্মের সাইনবোর্ডে স্টেশনের নাম আর উর্দুতে লেখা হবে না, তার বদলে এ বার দেবনাগরীতে লেখা থাকবে। কারণ, ২০১০ সালের পর থেকে রাজ্যের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা ঘোষণা করা হয়েছে সংস্কৃতকে। খবরটা পড়ে মনে পড়ে গেল, এই সংস্কৃত ভাষাকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, মৃত ভাষা। তাঁর ‘সঙ্গীত ও ভাব’ প্রবন্ধের শুরুতেই তিনি লেখেন, ‘‘আমাদের সংস্কৃত ভাষা যেরূপ মৃত ভাষা, আমাদের সঙ্গীতশাস্ত্র সেইরূপ মৃত শাস্ত্র। ইহাদের প্রাণ বিয়োগ হইয়াছে, কেবল দেহমাত্র অবশিষ্ট আছে।’’ (সঙ্গীতচিন্তা, পৃষ্ঠা ১, ১৪২৫, বিশ্বভারতী)।

রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ বাংলার রেনেসাঁসের প্রধান পথিকরা— সংস্কৃতপ্রধান শিক্ষাধারার প্রবর্তনের— যা ইংরাজ সরকার করতে চাইছিল, বিরোধিতা করেছিলেন। আজকাল অবশ্য ইতিহাসের চাকা উল্টো দিকে ঘোরানোর প্রবল চেষ্টা চলছে।

করুণাপ্রসাদ দে

কলকাতা-১২৫

 

ঝাড়খণ্ডে বাঙালি

২০০০ সালে ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠন হওয়ার পরে সংখ্যাগরিষ্ঠতাহীন রাজনীতির কবলে পড়ে ১১তম মুখ্যমন্ত্রী হলেন হেমন্ত সোরেন। ২০০০ সালে ঝাড়খণ্ডে বাঙালি জনবসতির সংখ্যা ছিল এখানকার সমগ্র জনসংখ্যার ৪২%। ২০১৯ সালে যা কমে ৩৪%-এ এসে দাঁড়িয়েছে। ৮১টি বিধানসভার মধ্যে ২০টিতে বাঙালি জনবসতি ৭০-৮০%। সর্বসাকুল্যে বাঙালি ভোটারেরা নির্ধারক শক্তি এমন বিধানসভাও ৩০টির কম নয়। তা সত্ত্বেও বাংলা-নির্ভর ও বাঙালি অধ্যুষিত স্কুলগুলি ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে। সাঁওতাল পরগনা, পূর্ব সিংভূম, খনি অঞ্চল— সর্বত্রই বাংলা শিক্ষা-সংস্কৃতি ধ্বংসের মুখে।

অবিভক্ত বিহারের সময়ে যে ‘বাংলা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল’ ছিল, যারা বাংলা বই, শিক্ষক ইত্যাদির জোগান দিত, তা সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে দেওয়া হল ঝাড়খণ্ড আলাদা রাজ্য হওয়ার পরে। বাঙালিকে বাংলা ভুলিয়ে দেওয়ার অভিনব চক্রান্ত শুরু হল। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চার-পাঁচ বছর অন্তর গুটিকয়েক বাঙালি শিক্ষক নিয়োগ করা হল। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই যথেষ্ট নয়।

এ সবের মধ্যেও বাংলা ভাষা ও শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মিটিং, মিছিল করা কিংবা বাংলা শিক্ষা-সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সভা সমিতিতে সক্রিয় ভাবে এ সবের পক্ষে কথা বলার মতো কয়েক জনের এক জন হলেন রবীন্দ্রনাথ মাহাতো। তিনি এ বার ঝাড়খণ্ড বিধানসভার অধ্যক্ষ হয়েছেন। তাই তাঁকে নিয়ে আমাদের অনেক আশা। সাঁওতাল পরগনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বাংলা স্কুল খুলবে কি না, চান্ডিলে ক্ষুদিরামের মূর্তি তুলে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা আগামী দিনে ঠেকানো যাবে কি না, গিরিডিতে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর বাড়িতে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ হবে কি না, মধুপুরে বাঙালি মনীষীদের নামে থাকা রাস্তাগুলি তাঁদের নামেই আগামী দিনে থাকবে কি না— এ হেন বহু প্রশ্ন তাঁর কাছে। আশা করি, বাঙালির ভাল হবে।

শিবলাল ঘোষ

দুমকা

 

ওটেন

2 ‘সুভাষের ঘুসি?’ (১০-১) এবং ‘অনঙ্গমোহন’ (১৫-১) প্রসঙ্গে কয়েকটি সংযোজন।

বারিদবরণ ঘোষ প্রণীত ‘সুভাষ কি ওটেনকে মেরে ছিলেন?’ পুস্তক সূত্রে জানা যাচ্ছে ঘটনার পরের দিনই অধ্যক্ষ প্রফেসর জেমস নিজের কক্ষে অভিযুক্ত বেশ কয়েক জন ছাত্রকে পৃথক পৃথক ভাবে জেরা করেছিলেন। এদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র এবং অনঙ্গমোহন দাম ছিলেন। অধ্যক্ষ জেমস ছাত্রদের ডাকার আগে নিজের কক্ষে একটি কোণে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলেজের দারোয়ান বংশীলালকে লুকিয়ে রেখেছিলেন এমন ভাবে, যাতে ছাত্ররা তাঁকে দেখতে না পান, কিন্তু বংশীলাল ছাত্রটিকে দেখতে পান। বংশীলাল, সুভাষচন্দ্র এবং অনঙ্গমোহনকে চিহ্নিত করেন। কৌতুকের বিষয় এই যে, অধ্যক্ষ জেমস নিজেও কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনার দায়স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বরখাস্ত হন।

সুভাষচন্দ্র নিজে কখনও এই ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেননি। ১৯২১ সালের এপ্রিল মাসে কেমব্রিজ থেকে শরৎচন্দ্র বসুকে সুভাষচন্দ্র লিখছেন  "...when I was hauled up for assaulting Oaten, I denied any complicity in the affair." সুভাষচন্দ্র নিজের আত্মকথা "An Indian pilgrim " গ্রন্থেও এই ঘটনায় নিজেকে একজন উইটনেস হিসেবে দাবি করেছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ঘটনার জন্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, সেই কমিটি সুভাষকে ডেকে, জিজ্ঞেস করেনি তিনি ওটেনকে মেরেছিলেন কি না। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি ওটেনকে শারীরিক নিগ্রহ করাটা  ‘জাস্টিফায়েড’ বলে মনে করেন কি না। সুভাষচন্দ্র উত্তরে বলেছিলেন, না, জাস্টিফায়েড নয়, তবে এই ঘটনার পিছনে যথেষ্ট প্ররোচনা ছিল।

সুদীপ বসু

পশ্চিম মেদিনীপুর

 

কং-বাম জোট

2 বিজেপি সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষের পুনরধিষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে বড়সড় শূন্যস্থান সৃষ্টি করল। যে বিপুলসংখ্যক মানুষ তৃণমূলের কার্যকলাপে বিরক্ত ও এই শাসনের বদলের প্রত্যাশী, তাঁরা চরম হতাশ হয়ে পড়লেন, কারণ তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে ভোট দেওয়ার উপযোগী অন্য দল রইল না। ঠিক এই জায়গাতেই বাম-কংগ্রেস জোটের ঘুরে দাঁড়ানোর মস্ত সুয়োগ। হয়তো এখনও অনেকেই তপন-সুকুর, লক্ষ্মণ শেঠ বা অনুজ পাণ্ডেদের কুকীর্তির স্মৃতি ভুলতে পারেননি, এখনও হয়তো অনেকেরই বাম আমলে কংগ্রেসের কিছু নেতার তরমুজ-ভূমিকা মনে পড়ে, তবু বাম-কংগ্রেস জোট এই মুহূর্তে শিক্ষিত সংস্কৃতিসম্পন্ন শান্তিপ্রিয় বাঙালির কাছে একটা বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। কেউ ভাবতে পারেন, মাত্র দশ-বারো শতাংশ নিয়ে কী করে এই স্বপ্নপূরণ সম্ভব? স্মর্তব্য, বিজেপিও ২ থেকে ৮৬ হয়েছিল, তৃণমূলও ৩০ থেকে ২১১ হয়েছিল। কাজেই বর্তমান ভোট শতাংশে নয়, মানুষের চেতনার উপর আস্থা রাখতে হবে। বর্তমান শাসনে আস্থা হারানো নাগরিকদের যে-অংশটা সম্প্রতি তৃণমূলনেত্রীর এনআরসি বা সিএএ বিরোধী অগ্নিবর্ষী বক্তব্য বা পদযাত্রার জেহাদে আকৃষ্ট হচ্ছিলেন, তাঁরাও প্রতিবাদের অন্তঃসারশূন্যতাটা ধরে ফেলেছেন। এখন বাম-কংগ্রেস জোট কতটা মসৃণ ভাবে জোটপর্ব সমাধা করতে পারবে, কতটা আগে থেকে মানুষের প্রত্যাশাগুলোকে যৌথ ইস্তাহারে সাজিয়ে নিয়ে পথে নামতে, বাড়িতে বাড়িতে যেতে পারবে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। আর অবশ্যই, ঝুঁকি নিয়ে, এখনই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করে দিতে হবে। বহু মানুষ ওঁদের পথে নামার প্রতীক্ষায়।

তরুণ বর্মন

ডাবগ্রাম, শিলিগুড়ি

 

সুনন্দা

2 সঙ্গীতশিল্পী সুনন্দা পট্টনায়ক মারা গেলেন, কিন্তু আনন্দবাজারের পাঠকেরা তাঁর প্রয়াণের পরের দিন সেই সংবাদপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হলেন। গ্বালিয়র ঘরানার শিল্পী সুনন্দা পট্টনায়ক ওড়িশাতে জন্মগ্রহণ করলেও জীবনের বেশির ভাগটাই কেটেছে কলকাতাতেই। ১৯৩৪ সালে কটকে জন্ম। বাবা ছিলেন প্রখ্যাত ওড়িয়া কবি বৈকুণ্ঠনাথ পট্টনায়ক। সুনন্দা প্রথম গান করেন অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো কটকে ১৯৪৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে। অকৃতদার এই শিল্পী চিরকাল সাধিকার জীবন যাপন করেছেন। সাদা থান পরতেন। সঙ্গীত জগতে তাঁর পরিচিতি ছিল ‘গুরুমা’ নামে। তারানা গানের জন্যেও তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। তাঁর প্রয়াণ ঘটল ১৯ জানুয়ারি সকলের চোখের আড়ালে নিঃশব্দে।

গৌতম মুখোপাধ্যায়

খড়দহ

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন