‘সন্তান পীড়নে শাস্তি যাবজ্জীবন’ (২২-৪) শীর্ষক প্রতিবেদন পড়ে এই চিঠি। সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, ১৩ জন সন্তানকে আটকে রেখে অমানুষিক ভাবে অত্যাচার করার অভিযোগে ডেভিড ও লুইস টারপিনকে যাবজ্জীবন শাস্তি দেওয়া হয়।

তথাকথিত স্বপ্নের দেশ আমেরিকার শিশুরা বোধ হয় খুব সুখে নেই। এ সম্পর্কে আমেরিকার বিখ্যাত চিন্তাবিদ মাইকেল পেরেন্টি-র লেখা ‘ডার্টি ট্রুথস’ থেকে কয়েকটি তথ্য তুলে ধরছি। গড়ে, একটি বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে— 

১) ১ লক্ষ ২৬ হাজার শিশু বড় রকমের জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার কারণ বাবা-মায়ের যত্নের অভাব, পুষ্টির অভাব। অথবা মায়ের মাদকাসক্তি। 

২) ২৯ লক্ষ শিশু অবহেলা, অপমান, শারীরিক নির্যাতন, এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে না খাইয়ে রাখার শিকার হয়।

৩) ৫০০০ শিশু বাবা, মা, দাদু, ঠাকুমা বা অন্য আত্মীয়ের হাতে নিহত হয়। 

৪) ৩০,০০০ অথবা তার চেয়ে বেশি শিশু এ সমস্ত নির্যাতন বা অবহেলার কারণে স্থায়ী ভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিশু নির্যাতনে প্রতি বছর যে সংখ্যক শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা ব্লাড ক্যানসার, মোটর-দুর্ঘটনা, নানা সংক্রামক রোগে মোট মৃতের চাইতেও সংখ্যায় বেশি। বেকারত্ব বাড়ছে, বেকার মা-বাবার দ্বারা এ ধরনের নির্যাতন বাড়ছে।

৫) ১০ লক্ষ শিশু বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে বেশির ভাগই বাবা-মা বা অন্য বয়স্কদের হাতে যৌন নির্যাতন-সহ বিভিন্ন অত্যাচারের শিকার। পথেঘাটে যে সমস্ত যৌন-নিপীড়িত শিশুদের পাওয়া যায়, তাদের শতকরা ৮৩ ভাগ শ্বেতাঙ্গদের পরিবার থেকে আসা।

৬) ১.৫ লক্ষ শিশু হারিয়ে যায়। এদের মধ্যে ৫০ হাজারকে আর কখনওই খুঁজে পাওয়া যায় না। এরা ১ থেকে ১৬ বছর বয়সি। 

৭) ৯ লাখ শিশু, যাদের মধ্যে অনেকে ৭ বছর বয়সি, নানা জায়গায় শিশুশ্রমে নিযুক্ত হয়। এদের নিয়োগকর্তারা শিশুশ্রম আইন লঙ্ঘন করে, খুবই কম মজুরিতে, খামারে, হোটেলের বাসন ধোয়ার কাজে এবং গৃহস্থালির কাজে এদের খাটায়, এমনকি কখনও দিনে ১০ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করে।

৮) ১০ লাখ বা তার চেয়ে বেশি শিশুকে অনাথ আশ্রম, সংশোধনাগার এবং বয়স্কদের জেলে রাখা হয়। এদের বেশির ভাগকেই গ্রেফতার করা হয় ছোটখাটো আইন ভাঙার কারণে। কখনও দেখা যায়, অনেক শিশু কোনও অপরাধই করেনি, বিধিবহির্ভূত ভাবে তাদের জেলে রাখা হয়েছে। এদের বেশির ভাগই খুব দরিদ্র পরিবারের।  

আমেরিকার এক কৃষি গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৭০ লক্ষ মার্কিন শিশু প্রতি দিন ক্ষুধার্ত অবস্থায় স্কুলে যায়। ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিছানায় শুতে যাওয়া অথবা অপ্রতুল খাদ্যগ্রহণ করা শিশুর সংখ্যা আরও বেশি। 

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হল, ১ লাখ ৩৫ হাজার শিশু স্কুলে বন্দুক নিয়ে যায়। বড়রা ব্যস্ত তাদের নিজের দুনিয়া নিয়ে, আর ছোটরা বন্ধ ঘরের একান্ত নির্জনে ভিডিয়ো গেমসে শত্রুপক্ষের ঘিলু ছিটকে দেওয়ার উৎকট আনন্দে দিশেহারা। এ ভাবেই বহু মার্কিন শিশু-কিশোরের প্রতিটি বাঁক-মোড় রক্তচিহ্নিত, হিংসাদীর্ণ হয়ে ওঠে। 

অঞ্জন সাহা

কলকাতা-৫১

প্রথম কুম্ভ

‘নেহরু চেপে যাবেন কেন’ (৫-৫) শীর্ষক নিবন্ধের প্রেক্ষিতে এই চিঠি। প্রথম পূর্ণকুম্ভের সময় আমি বছর কুড়ি-র যুবক। ‘ইন্ডিয়ান আর্মি মেড কর্পস’ (আইএএমসি)-তে ফতেগড়ে গঙ্গার ধারে মিলিটারি হাসপাতালে (এসএইচও) পোস্টেড। হঠাৎ আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স/নার্সিং/হাইজিন-এর কিছু নন-কমিশন্‌ড অফিসার (এনসিও)-দের, তক্ষুনি ইলাহাবাদ ফোর্টে রিপোর্ট করার আদেশ এল। আমরা ওই দুর্ঘটনার (ভিড়ের চাপে অনেকের মৃত্যু) দু’দিন পরেই পৌঁছে গেলাম।

স্বাধীন ভারতে প্রথম কুম্ভে অব্যবস্থার চূড়ান্ত ছিল। বালির উঁচুনিচু ঢিবিগুলি আগেই সমান করা উচিত ছিল বুলডোজ়ার দিয়ে। তা না করে আরও কিছু চর রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহিলাদের জন্য কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। এই সব জমি ঘিরে ফেলার জন্য, আর অনেকটা জমি অসমান হওয়ার জন্য, আর বহু ক্ষেত্রে আখড়াগুলি বরাদ্দ জমির চেয়ে বেশি জমি দখল করার জন্য, সন্ন্যাসীরা যখন হাতিঘোড়া সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ভিড়ে ধাক্কাধাক্কিতে অনেকেই পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হন। সেই মানুষদের মুখ-চোখ-নাক এমন ভাবে চেপ্টে গিয়েছিল যে শনাক্তকরণের কোনও উপায় ছিল না। সঙ্গীরাও শনাক্ত করতে পারেননি। আমরা যখন পৌঁছেছি, মৃতদেহগুলির পচনক্রিয়া তখনই শুরু হয়ে গিয়েছিল।

ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন মিলিটারি স্টেশন থেকে এবং ইলাহাবাদ ও বারাণসী থেকে মিউনিসিপ্যালিটির মেথর ও ধাঙড়দেরও যোগ করা হল। ঘন ঘন মিলিটারি ও পুলিশ এবং অন্য কর্তাব্যক্তিরা মিটিং করে কিছু ঠিক করতে পারছিলেন না। আমাদের বলা হল, যে মৃতদেহগুলির শনাক্তকরণ হয়নি বা হওয়া সম্ভব নয় বা সংরক্ষণও সম্ভব নয়, সেগুলিকে স্তূপ করে (এক একটি স্তূপে ৫০টি পর্যন্ত মৃতদেহ থাকতে পারে), প্রচুর পেট্রল ও কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দিতে হবে। মনে আছে, অন্তত তিন দিন ধরে, আমরা প্রতি দিন বহু মৃতদেহ পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এ ছাড়াও ডায়েরিয়া, কলেরা এবং অব্যবস্থার জন্য বহু মানুষ মারা গিয়েছিলেন।

অজিত কুমার শূর

কলকাতা-১০১

 

বাল্যবিবাহ

বাল্যবিবাহ রুখতে রাজস্থানের বুন্দি জেলার প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ বার থেকে যে কোনও পাত্রপাত্রীর বিবাহের নিমন্ত্রণপত্রে, তাদের জন্মতারিখ বাধ্যতামূলক ভাবে ছাপতে হবে। আমাদের রাজ্যেও বিভিন্ন জেলায় বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে। যদিও সে খবর কানে গেলে পুলিশ প্রশাসন তা আটকে দেয়। তবুও এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আর একটা ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করব। এই ধরনের বিয়ে সাধারণত খুব গরিব ঘরেই দেখা যায়। ফলে কার্ড ছাপিয়ে নিমন্ত্রণ করে অনুষ্ঠান করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাই কার্ডে জন্মতারিখ উল্লেখের ফরমান এ ক্ষেত্রে অবাস্তব। যদি নিয়ম করা যায়, যে ধর্মীয় প্রধানের পৌরোহিত্যে বাল্যবিবাহ হবে, তিনিও অপরাধী গণ্য হবেন, তাঁকেও গ্রেফতার করা হবে, তা হলে কাজ হতে পারে।

প্রবীর চক্রবর্তী

জয়নগর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

পুলিশকে স্যালুট

গত ১৫-৪ তারিখে, সন্ধে ৭টায় আমার মেয়ে-জামাই স্কুটারে চেপে বাড়িতে আসছিল। শোভাবাজারের কাছে হঠাৎ আমার জামাইয়ের পেটে এমন তীব্র ব্যথা শুরু হয়, সে রাস্তায় বসে পড়ে। আমার মেয়ে ট্র্যাফিক পুলিশকে ব্যাপারটা জানায়। ট্র্যাফিক পুলিশ তখন সিনিয়র অফিসারকে জানিয়ে আমার জামাইকে পুলিশের গাড়িতে করে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যান। স্কুটারটিকে এক পুলিশকর্মী চালিয়ে নিয়ে যান। পুলিশের তৎপরতায় হাসপাতালের চিকিৎসায় আমার জামাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। পুলিশের এই কর্তব্যপরায়ণতাকে স্যালুট জানাই।

পীযূষ ভট্টাচার্য

কলকাতা-২৮

 

পেট্রল পাম্প

কলকাতা বিমানবন্দর এক নম্বরে প্রায় পাশাপাশি দু’টি পেট্রল পাম্প আছে। এগুলি ছাড়াও এক নম্বর থেকে নাগেরবাজার পর্যন্ত যশোর রোডে পাঁচটি এবং মানিকতলা ইএসআই হাসপাতাল থেকে ফুলবাগান মোড় পর্যন্ত সিআইটি রোডে তিনটি পাম্প। কিন্তু এক নম্বর থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ভিআইপি রোডে কোনও পেট্রল পাম্প নেই।

কৈলাসপতি মণ্ডল

কলকাতা-২৮

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।