আদিত্য ঘোষের ‘বন্দিদেরও ভোটাধিকার থাকুক’ (১৫-১২) প্রবন্ধে বন্দিদের ভোটাধিকারের দাবি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু অতীতের কিছু ঘটনা আমাদের একাধিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় যে, যদি বন্দিদের ভোটাধিকার আইন চালু হয় তা হলে তাঁরা এর থেকে কতটুকু উপকৃত হবেন?
এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে রঞ্জিত শূরের ‘প্রাপ্যটুকু কবে পাবেন বন্দিরা’ (১৯-৩-২০২০) প্রবন্ধের কথা। দাঁতের মাজন, ব্রাশ, চিরুনি, আয়না ইত্যাদি সাধারণ জিনিস তো সভ্য সমাজের প্রতিটি মানুষেরই প্রাপ্য। কিন্তু রাজনৈতিক এবং প্রথম শ্রেণির বন্দি ছাড়া বাকি বন্দিরা কি সেগুলি পান? ২০১২ সালে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে কলকাতা হাই কোর্টের মহামান্য বিচারপতি কনওয়ালজিৎ সিংহ অহলুওয়ালিয়া নির্দেশ দেন, হয় সমস্ত শ্রেণির বন্দিদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হোক, নয়তো রাজবন্দি বা ডিভিশন বন্দির মর্যাদা দেওয়ার ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হোক। আশ্চর্যের বিষয় হল, তখন রাজ্য সরকার সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পরিবর্তে রাজনৈতিক বন্দি আইনটাই পাল্টে দিল, যাতে সহজে কেউ রাজনৈতিক বন্দির স্বীকৃতি না পান। এর পাশাপাশি আরও উল্লেখ করতে হয় যে, জেলবন্দিদের প্রাপ্য তথা অধিকারের এক সুদীর্ঘ তালিকা আছে। সেই তালিকা অনুযায়ী সব কিছু কি তাঁরা পান?
এই সংবাদপত্রে প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিচারও কি শেষ হবে না! ১০ বছর হল’ (১৩-৯-২১) প্রতিবেদনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি এলাকার কুমিরকাটা গ্রামের ধৃতিরঞ্জন মাহাতোর যে কাহিনি তুলে ধরা হয়েছিল, তা মর্মান্তিক। ২০১০ সালের মার্চ মাসে পুলিশ ধৃতিরঞ্জনকে গ্রেফতার করে। মাহাতো পরিবারের দাবি ছিল, গ্রেফতারের ১৮ দিন পরে পুলিশ তাঁকে শিলদা মামলায় যুক্ত করে দেয়। ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু হয়। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় ধৃতিরঞ্জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারের এগারো বছর পর ২০২১ সালে এই ঘটনা যখন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তখনও ধৃতি জেলে এবং এত বছর পরেও বিচারাধীন। স্ত্রী বুল্টি তখন অবসাদের শিকার, তাঁর চিকিৎসা চলছে। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে এগুলো কি কোনও মানুষের প্রাপ্য?
এই রকম আরও অনেক অবাঞ্ছিত এবং দুঃখজনক ঘটনা রয়েছে, যার তালিকা বিশাল। শাসন যন্ত্রের মসনদে এক সরকার যায়, আবার জনগণের ভোটে আর এক সরকার আসে। কিন্তু বন্দিদের অবস্থার কতটুকু পরিবর্তন হয়? গণতন্ত্রের বৃহত্তম উৎসব নির্বাচনে বন্দিদের অংশগ্রহণ অবশ্যই কাম্য। কিন্তু তার আগে এই সব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিগুলোরও পরিবর্তন করা প্রয়োজন?
সোনা বন্দ্যোপাধ্যায়, খড়দহ, উত্তর ২৪ পরগনা
নামবদল
‘নাম ও চরিত্র’ (১৯-১২) শীর্ষক সম্পাদকীয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে এবং গ্রামের গরিব পরিবারে বছরে একশো দিনের কাজ নিশ্চিত করতে কংগ্রেস আমলে ২০০৫ সালে দেশে চালু হয়েছিল— ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা যোজনা’। নরেন্দ্র মোদী সরকার সম্প্রতি সেই নাম পরিবর্তন করে খোলনলচে বদলে ‘ভিবি-জিরামজি’ বা বিকশিত ভারত— গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) নাম দিয়ে সংসদে বিল পাশ করিয়ে নিলেন। বিলের মধ্যে ‘রাম’ শব্দটিকে নিয়ে আসার জন্যই যে এই পরিবর্তন— সেটা বুঝতে দেশবাসীর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সনাতনী হিন্দু ধর্ম প্রতিষ্ঠার বার্তা দিতে একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠান, রেল স্টেশন, দর্শনীয় স্থান, ঐতিহাসিক স্থাপত্য, বিমানবন্দর, সংগ্রহশালা প্রভৃতির নাম বদল করে চলেছে। কিন্তু গত ১১ বছরের শাসনকালে তাঁরাও মহাত্মা গান্ধীর নাম প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সাহস দেখায়নি। এ বার সেটাও সম্ভব হল। এর পরে কোনও দিন হয়তো আমরা দেখব ভারতীয় টাকা থেকে গান্ধীর ছবি মুছে দিয়ে সাভারকর বা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ছবি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রতন চক্রবর্তী, উত্তর হাবড়া, উত্তর ২৪ পরগনা
গুরুত্বহীন
পশ্চিমবঙ্গে বহুল চর্চিত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কাজ চলার বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত। এত দিন ধরে রাজ্যের বেশির ভাগ বা প্রায় সমস্ত সরকারপোষিত স্কুলের বেশ কিছু স্থায়ী শিক্ষককে শিক্ষকতার কাজ ফেলে বুথ লেভেল আধিকারিকের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। আমাদের রাজ্যে পুজোর লম্বা ছুটির পর স্কুল খোলার দিন কয়েকের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় বার্ষিক পরীক্ষা। বার্ষিক পরীক্ষার শেষে খাতা দেখা ও ছাত্রছাত্রীদের হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড দেওয়ার নতুন নিয়ম শুরু হয়েছে, যা একমাত্র শ্রেণিশিক্ষকের পক্ষেই দেওয়া সম্ভব। ভোটার তালিকার কাজে লক্ষণীয় সংখ্যক শিক্ষক দীর্ঘ দিন ব্যস্ত থাকায় এই সমস্ত কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, দৈনন্দিন পড়াশোনারও ক্ষতি হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি স্কুলগুলির অবস্থা এমনিতেই শোচনীয়। কিছু ক্ষেত্রে পড়ুয়ার অভাব, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকের, আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত সমস্যা, ফলস্বরূপ শিক্ষাব্যবস্থার ভগ্নপ্রায় দশা। উপরন্তু কমিশনের কাজের কারণে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির ধাক্কা যার কোনও বিকল্প পরিকল্পনা অবধি দেখা গেল না। সরকারের উচিত ছিল এই সময়ের জন্য কিছু অস্থায়ী শিক্ষকদের বিএলও-দের জায়গায় নিয়োগ করা যাতে এই সময়টা তাঁরা সামলে দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, সরকারি স্কুল বা তার পড়ুয়াদের নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নয় কেন্দ্র বা রাজ্য— কেউই। স্কুলগুলি এক কথায় তাদের বোঝা হিসেবে রয়েছে, তাই যে কোনও সরকারি প্রক্রিয়ায়, যেমন— ভোটগ্রহণ কেন্দ্র, পরীক্ষা কেন্দ্র, এ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থানীয় শিবির হিসেবেও প্রথমেই স্কুলগুলিকে বেছে নেওয়া হয়। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলিতে এখন পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ছে উত্তরোত্তর, স্কুল কর্তৃপক্ষের দিক থেকে প্রভূত লাভ। অপর দিকে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির খেলায় সরকারি স্কুলগুলি ধুঁকছে। অর্থনৈতিক লাভের পরিমাণ কি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েদের মৌলিক অধিকারের এই অন্যতম এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় স্তম্ভটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে?
জয়ী চৌধুরী, কলকাতা-১১০
তিলের খাজা
বাংলা জুড়ে শীত জাঁকিয়ে বসেছে। শীতের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে বাঙালিদের হরেক খাবারের স্বাদ গ্রহণ। অনেক বাড়িতেই নলেন গুড় পাক করে মুড়কি, মোয়া, নাড়ু, তিলের খাজা, কাঠিগজা একাধিক কিছু বানানো হয়। মোয়া ছাড়াও এই সময় গ্রামের দিকে বানানো হয় তিলের খাজা। মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি জাতীয় খাবারগুলির মধ্যে অন্যতম হল লালগোলার তিলের খাজা। সাধারণত শীতের মরসুমেই এর দেখা মেলে। খাজা শিল্পীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেরাই ট্রেনে, বাসে করে খাজা বিক্রি করেন।
খাজা তৈরি করতে একটা পাত্রে প্রথমে চিনি, জল, দুধ ইত্যাদি কড়াইয়ে দিয়ে দশ থেকে বারো মিনিট ফোটাতে হবে। এর পর এই উত্তপ্ত মিশ্রণ বা স্বচ্ছ চিনির লাইকে ঠান্ডা হওয়ার জন্য রাখতে হবে। ঠান্ডা হয়ে গেলে আঠালো চিনির ওই মিশ্রণ বা লাই উঠিয়ে একটি আংটায় বেঁধে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এ বার ওই মিশ্রণটি এমন ভাবে টানতে হবে যাতে আকারটা লম্বা হয়। আর ভিতরের দিকটা হবে ফাঁকা। কিছু ক্ষণ ঠান্ডা হতে দিয়ে, টুকরো করে কেটে নিলেই তৈরি তিলের খাজা। এখনও খাজা এ ভাবেই তৈরি হয়ে আসছে। তবে উৎপাদন আগের থেকে অনেকটা কমেছে। লভ্যাংশ কমে যাওয়াতে কারিগররা অন্য পেশায় নিযুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন।
পাভেল আমান, হরিহরপাড়া, মুর্শিদাবাদ
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)