বিনয়ভূষণ দাশের চিঠি (‘কাশ্মীর ও অমর্ত্য’, ১-৯)-র সুরে সুর মিলিয়ে বলি, অমর্ত্য সেনের বক্তব্য তিনি না মানতে পারেন, কিন্তু তাঁর গর্ববোধ করা নিয়ে উপদেশ দিতে পারেন না। কাশ্মীরে গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মেনে নেওয়া গেল। অন্তত, আইন মেনে সংসদে বিল পাশ করানো হয়েছে। কিন্তু, যে পদ্ধতিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, সেটা গণতান্ত্রিক? স্থানীয় নেতারা বন্দি; গত প্রায় এক মাস যাবৎ বাইরের সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ; অবাধে, শুধুমাত্র সন্দেহের বশে যে কোনও লোককে গ্রেফতার করার ঢালাও স্বাধীনতা প্রশাসনের— উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে খুব একটা তফাত বোধ হয় নেই। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার সময় কাউকে ‘উৎকণ্ঠা প্রকাশ’ করতে শোনা যায়নি— দাশবাবুর স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা করছে না তো? তর্কের খাতিরে যদি তাঁকে ঠিক বলে ধরেও নিই; তা হলে, এটা কি ‘বদলা নেওয়া’? ৩৭০ ধারাকে অবৈধ আর প্রতিশ্রুত গণভোট? না, বিনয়বাবু, ভারতীয় হিসেবে আজকের কাশ্মীরের জন্য গর্বিত হতে পারছি না।

দেবাশিস মিত্র

কলকাতা-৭০

 

আদৌ সত্য নয়
 
বিনয়ভূষণ দাশ তাঁর ‘কাশ্মীরি কারা’ (১৩-৮) শীর্ষক পত্রে ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা প্রণয়ন সম্পর্কে লিখেছেন: ‘‘...সংবিধানের প্রধান রূপকার বি আর অম্বেডকর ও অন্যদের আপত্তি সত্ত্বেও জওহরলাল নেহরু পীড়াপীড়ি করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদকে দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করিয়েছিলেন। ওই আইন দু’টির কোনও সাংবিধানিক বৈধতাও নেই।’’
বিনয়ভূষণবাবুর উপরোক্ত বক্তব্য আদৌ সত্য নয় ও বিভ্রান্তিকর। আমাদের সংবিধান প্রণয়ন করেছিল সংবিধান প্রণয়নকারী ‘গণপরিষদ’। ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ গণপরিষদের সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতার আগেই সংবিধান রচনার জন্য যখন গণপরিষদ কাজ শুরু করে (১৯৪৬, ৯ ডিসেম্বর) তখন ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটিই সৃষ্টি হয়নি। ওই সময় দেশের ‘গভর্নর জেনারেল’ মাউন্টব্যাটেন। স্বাধীনতার দশ মাস পর তিনি দেশে ফিরে গেলে জুন, ১৯৪৮-এ চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী ওই পদে নিযুক্ত হন। গণপরিষদে ৩৭০ ধারা-সহ সমগ্র ভারতীয় সংবিধান সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় ২৬ নভেম্বর, ১৯৪৯। নতুন সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৫০-এর ২৬ জানুয়ারি। গভর্নর জেনারেল পদ বিলুপ্ত হয়, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদ প্রবর্তিত হয়। ওই গণপরিষদ ‘সংসদ’-এ রূপান্তরিত হয়, সর্বসম্মতিক্রমে ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কাজেই তাঁকে নেহরুর পীড়াপীড়ি করার কথা বলা হাস্যকর। নেহরু মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী ড. অম্বেডকর ছিলেন গণপরিষদের ‘সংবিধানের খসড়া প্রস্তুত কমিটি’র সভাপতি। এই কমিটির অন্যতম সদস্য এন গোপালস্বামী আয়েঙ্গার (মন্ত্রিসভার সদস্য ও কাশ্মীর সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনা করতেন) ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাই তাঁকেই গণপরিষদে মহারাজা হরি সিংহ প্রেরিত শেখ আবদুল্লা (তখন ওই রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী) ও মির্জা আফজল বেগের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গণপরিষদে আরও ১২টি কমিটি ও সাব কমিটি ছিল। সর্দার পটেল ছিলেন ‘মৌলিক অধিকার, সংখ্যালঘু, উপজাতি ও বর্জিত এলাকা’ এবং ‘প্রাদেশিক সাংবিধানিক কমিটি’ এই দু’টির সভাপতি। তা ছাড়া তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দেশীয় রাজ্যসমূহের ভারতে অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তাই তাঁর ওপরেই জম্মু ও কাশ্মীরের সংবিধানে বিশেষ অধিকার সংক্রান্ত বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৪৯-এর ১৫ ও ১৬ মে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রথম সভাটি সর্দার পটেলের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সর্দার পটেল পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিষয়টি পরীক্ষার পর তা অনুমোদন করেন। শেখ আবদুল্লার সঙ্গে তাঁর আলোচনার ভিত্তিতে শ্রীআয়েঙ্গার শেখকে প্রেরিতব্য নেহরুর চিঠির খসড়া Note দিয়ে পটেলের কাছে পাঠান। তাতে লেখেন, 'Will you kindly let Jawharlalji know direct as to your approval of it? He will issue the letter to Sheikh Abdullah only after receiving your approval.' এর থেকেই বোঝা যায় নেহরু ও পটেলের কাজের ক্ষেত্রে সম্পর্ক কী রকম ছিল। ১৯৪৯-এর ১৭ অক্টোবর গণপরিষদের অধিবেশনে সংবিধানে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য বিশেষ অধিকার সংক্রান্ত ৩৭০ ধারা প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। আয়েঙ্গার বলেন অন্তর্ভুক্তিকরণ চুক্তিতে যা বলা নেই অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বিষয় প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বাদে অন্য বিষয়গুলি সম্পর্কে ওই রাজ্যের সংবিধান প্রণয়নের জন্য গঠিত গণপরিষদ চূড়ান্ত করবে। যুগ্ম তালিকা ও রাজ্য তালিকাও প্রণয়ন করবে। নেহরু তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকায় বিষয়গুলি নিয়ে পটেল শ্রীআয়েঙ্গারকে শেখ আবদুল্লার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেন। নেহরু দেশে ফিরলে পটেল তাঁকে লেখেন 'After a great deal of discussion, I could persuade the (Congress) party to accept.' ১৯৪৯, ২১ নভেম্বর আবারও গণপরিষদে সংবিধান গ্রহণ করবার চূড়ান্ত আলোচনার সময় ৩৭০ ধারা নিয়ে আলোচনা হয়। ড. অম্বেডকর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সকলেই গণপরিষদের ও মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তাঁরা কেউই এই ধারা প্রণয়নের বিরোধিতা করেননি। মনে রাখতে হবে ৩৭০ ধারা প্রণয়ন সংবিধান রচনাকারী গণপরিষদের সিদ্ধান্ত, নেহরু মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নয়। আমাদের গণপরিষদে ২৯৯ জন সদস্যের মধ্যে ২২৯ জন ব্রিটিশ শাসিত রাজ্যসমূহ এবং ৯৯ জন ছিলেন অন্যান্য দেশীয় রাজ্যসমূহের (Native States) প্রতিনিধি। প্রতিটি দেশীয় রাজ্যেরই নিজ নিজ গণপরিষদ গঠন করে কেন্দ্রীয় ও যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়গুলি ব্যতীত রাজ্য আইন প্রবর্তনের অধিকার ছিল। ত্রিবাঙ্কুর-কোচি, সৌরাষ্ট্র ইউনিয়ন (রাজ্যসমূহ) ও মহীশূর প্রভৃতি রাজ্যও এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজেদের গণপরিষদ গঠন করেছিল। জম্মু ও কাশ্মীর গণপরিষদ নিজ রাজ্যের জন্য ৩৫এ ধারা প্রবর্তন করে। এই দু’টি ধারা সম্পূর্ণ ভাবে সংবিধানসম্মত বলেই তা বাতিল করার জন্য এ পর্যন্ত ওই রাজ্যের হাইকোর্ট ও ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যতগুলি মামলা করা হয়েছে সবই খারিজ হয়ে গিয়েছে।
শান্তনু দত্ত চৌধুরী
কলকাতা-২৭
 
স্তম্ভিত
সাধ্বী প্রজ্ঞা বিজেপির প্রথম সারির কয়েক জন নেতানেত্রীর মৃত্যুর জন্য বিরোধীদের মারকশক্তি তথা তুকতাককেই দায়ী করেছেন। এক জন সাংসদের মুখে এই অপবিজ্ঞানমূলক কথাবার্তা শুনে মানুষ স্তম্ভিত। মানব সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী থাকাকালীন স্মৃতি ইরানিকেও আমরা দেখেছি জ্যোতিষের দ্বারস্থ হতে। এই সাংসদ-মন্ত্রীরা মনন ও মানসিকতায় স্থবির। দেশ এগোচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জয়যাত্রা অব্যাহত। কিন্তু রক্ষণশীলতা ও কুসংস্কারের নিগড় থেকে দেশের প্রথম শ্রেণির জনপ্রতিনিধিরা বেরোতে ব্যর্থ।
সুভাষ ঘোষ হাজরা
পাঁচথুপী, মুর্শিদাবাদ
 
অন্য দিকগুলো
গাড়ি-শিল্পের মন্দা কী ভাবে শ্রমিক কর্মীদের বিপন্ন করে তুলছে, তা নিয়ে নিয়মিত খবর হচ্ছে। মন্দার অন্য দিকগুলো নিয়েও প্রতিবেদন হোক। যেমন, গাড়ি-শিল্পে মন্দা বা গাড়ির বিক্রি কমে যাওয়া কি পরিবেশে প্রভাব ফেলছে? বায়ুদূষণ কি এর ফলে কমার সম্ভাবনা? কোনও পরিবেশবিদের মতামত জানতে পারলে ভাল লাগবে।
ভাস্কর রায়
কলকাতা-৭৭