সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: কিন্তু ফুটবলে?

Football

‘টানা তিন বছর টেস্টে বিশ্বের এক নম্বর বিরাটরা’ (২-৪) পড়লাম। সত্যি, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের শক্তি এখন অপ্রতিহত। শুধু টেস্টেই নয়, ভারত বর্তমানে ক্রিকেটের অন্য ফর্ম্যাটেও অপ্রতিরোধ্য।

এমনকি বেশ কিছু দিন দেখা যাচ্ছে, ভারত আর একটি খেলা— শুটিং—দুর্দান্ত খেলে চলেছে। ভারতীয় জুনিয়র ও সিনিয়র খেলোয়াড়েরা একাধিক বার বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ ও এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অসামান্য ফল করেছেন। অতি সম্প্রতি শেষ 

হওয়া এশীয় এয়ারগান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় খেলোয়াড়েরা জয় করলেন ১৬টি সোনা, ৫টি রুপো ও ৪টি ব্রোঞ্জ পদক। এই খেলায় এশিয়া তথা বিশ্বের শক্তিশালী তিনটি দেশ— চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি ভারত উঠে এল। হকিতেও ভারত এশিয়ায় ও বিশ্বে বর্তমানে বেশ শক্তিশালী। 

কিন্তু ফুটবলের চেহারাটি কী রকম? ১৯৯৩ থেকে এ বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বিশ্বে ও এশিয়ায় ভারতের খেলার যে মানটি আমরা দেখতে পাই, তা হতাশাজনক। এই সময়ের মধ্যে ভারত বিশ্ব ফুটবলে মাত্র চার বার ফিফা-মানে ১০০-র নীচে আসতে পেরেছিল: ১৯৯৩, ১৯৯৬, ২০১৭ ও ২০১৮-তে। ১৯৯৬-তে বিশ্বমানে ৯৪তম স্থানে পৌঁছতে পেরেছিল, সেটাই এখনও অবধি সেরা অবস্থান। যেখানে এশিয়ার অন্য দেশগুলির 

ফুটবলে বিশ্বমান লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ভারতের রোগটা কোথায়? নানা দেশি-বিদেশি নামী কোচ এনেও কিছু করা যাচ্ছে না কেন? 

তাপস সাহা

শেওড়াফুলি, হুগলি

 

প্রার্থী, আসন

অনেক প্রার্থী লোকসভা বা বিধানসভার ভোটে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৫১ সালের জনগণের প্রতিনিধিত্ব ধারা ৩৩(৭) (Section 33(7) of Representation of People Act) অনুযায়ী, এক জন প্রার্থী সর্বাধিক দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ১৯৯৬ সালে এই ধারা বলবৎ হয়। এর আগে এক জন প্রার্থী যে কোনও সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারতেন। 

কিন্তু আইনের এই ধারারও পরিবর্তন চেয়ে নির্বাচন কমিশন ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানায়। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি ছিল, এক প্রার্থী দু’টি কেন্দ্রে জিতলে, একটি কেন্দ্র তাঁকে ছাড়তে হয় এবং সেখানে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এর ফলে সরকারি তথা জনগণের অর্থের অপচয় ঘটে, সেই কেন্দ্রের ভোটারদের প্রতি অবিচার হয়— যাঁরা ওই প্রার্থীকে ভোটে জিতিয়েছিলেন, এবং কয়েক মাসের ভিতর তাঁদের আবার অন্য প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়।

নির্বাচন কমিশন এই কথাও বলেছিল যে, দু’টি কেন্দ্রেই জয়ী প্রার্থীকে, যে কেন্দ্রটি তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন তার উপনির্বাচনের খরচ বহন করতে হবে (লোকসভার ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা ও বিধানসভার ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকা)।

এ ছাড়া ২০১৫ সালে আইন কমিশন ২৫৫ তম রিপোর্টে (অনুছেদ ১৫.৪) আইনের ধারাটিকে পরিবর্তন করে এক জন প্রার্থীর একটি কেন্দ্রেই দাঁড়ানোর প্রস্তাব করেছিল।

২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার আর্জি জানিয়ে অশ্বিনী উপাধ্যায় যুক্তি দিয়েছিলেন যে এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক প্রার্থী ও এক নির্বাচনী কেন্দ্র হল ভারতীয় গণতন্ত্রের বাধ্যবাধকতা (Dictum)।

এ সব সত্ত্বেও অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে আজ অবধি এই আইনের কোনও পরিবর্তন হয়নি। অর্থের অপচয় রোধ এবং ভোটারদের স্বার্থে এই আইনের ধারাটির অবলুপ্তি অবশ্যই প্রয়োজন।

মলয় ভট্টাচার্য

কলকাতা-৬১ 

 

পরীক্ষা, সংরক্ষণ

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্যে ১০% সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এর আগে থেকেই এসসি, এসটি, ওবিসি-র জন্যে ৪৯.৫% সিট সংরক্ষিত ছিল। নতুন সংরক্ষণের ফলে অসংরক্ষিত সিট রইল ৪০.৫%। বিলটি পাশ হওয়ার সময় তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যথাযথ বিরোধিতাই করেছিলেন যে সাংবিধানিক ভাবে সংরক্ষণ ৫০%-এর বেশি হতে পারে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণের কথাও সংবিধানেই আছে।

এখন পরিস্থিতি হল, বিলটি পাশ হয়ে এই সংরক্ষণ কার্যকর হয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্তরে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োগও করা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গবাসী কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির পরীক্ষার্থীরা এই সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কারণ এই সংরক্ষণের জন্যে প্রয়োজনীয় ‘ইনকাম অ্যান্ড অ্যাসেটস সার্টিফিকেট’ এ রাজ্যে দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকার এসডিও অফিসে গিয়ে জানতে পেরেছেন, রাজ্যস্তর থেকে কোনও অর্ডার না আসায়, ওরা এই ধরনের কোনও সার্টিফিকেট  দিতে পারবে না।

ফলে, অন্য রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এই রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের এক অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কারণ প্রতিযোগিতার বাজারে ১০% সিট অনেকটাই, আর অন্য রাজ্যের অধিকাংশ অসংরক্ষিত পরীক্ষার্থীই এই সংরক্ষণের আওতায় আসতে সক্ষম, কারণ আমাদের দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্তেরই বার্ষিক আয় আট লাখের কম, এবং ৫ একরের বেশি জমি বা ১০০০ স্কোয়ার ফুটের ফ্ল্যাট বা ১০০ স্কোয়ার ইয়ার্ডের বাস্তুজমি বা ২০০ স্কোয়ার ইয়ার্ডের বেশি জায়গার বাড়ি নেই।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যস্তর থেকে এই সংরক্ষণ অসাংবিধানিক মনে করা হলে, রাজ্যস্তরের পরীক্ষাগুলিতে এই সংরক্ষণের সুযোগ না দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয়স্তরের পরীক্ষা, যেগুলিতে ইতিমধ্যেই এই সংরক্ষণ চালু হয়ে গিয়েছে, যেখানে অন্য রাজ্যের প্রায় সব অসংরক্ষিত প্রতিযোগীই এই সংরক্ষণের আওতায় সহজেই চলে আসছেন, সেখানে এই রাজ্যের পরীক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবেন কেন? 

বিদিশা পাল

শিবগঞ্জ, হাওড়া 

 

খটকা

আসন্ন ভোটের মুখে আনন্দবাজার পত্রিকার সৌজন্যে ‘তারকার বিষয় আশয়’ বিভাগে প্রার্থীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির কিছুটা তথ্য আমরা জানতে পারছি। কয়েক জনের ক্ষেত্রে দেখছি, তাঁদের সম্পত্তি প্রচুর, হয়তো একশো কোটি টাকারও বেশি, আবার হয়তো তাঁর স্বামীর সম্পত্তিও একশো কোটির বেশি, এ দিকে প্রার্থীর ঋণের পরিমাণ ছ’-সাত কোটি টাকা! এখানেই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মনে একটা খটকা লাগে। এত টাকার মালিক হয়েও ঋণ কেন? এঁরা কি তা হলে চার্বাকের তত্ত্ব মেনে, ঋণ করে ঘৃত খাওয়ার পন্থা অবলম্বন করেছেন?  

সূর্যকান্ত দেবনাথ

সুভাষগ্রাম

 

মিষ্টি?

‘ক্যাডবেরি-মিষ্টিতে ছোঁয়া কালজয়ী বাংলা ছবির’ (২৪-৩) সংবাদের প্রেক্ষিতে এই চিঠি। এখানে মিষ্টির সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের মিষ্টি সৃষ্টির মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। কিন্তু এই নামের তালিকায় ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ দেখে বিস্মিত হলাম। এই ছবিতে মিষ্টির ছোঁয়া কোথায়? এখানে তো নায়িকার মিষ্টি স্বপ্নগুলো পরিস্থিতি ও বিশ্বাসঘাতকতার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে চুরমার হয়েছে। নস্টালজিয়ার দোহাই দিয়ে এই ছবিতে মিষ্টি খুঁজে বেড়ানো কি যুক্তিসঙ্গত? এই ছবি ক্লাসিক। মিষ্টি ক্লাসিক কি?

হীরালাল শীল

কলকাতা-১২

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন