রীতিমতো দুর্গের চেহারা নিয়েছে নির্বাচন সদন তথা নয়াদিল্লির মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অফিস। কারণ তৃণমূলের সাংসদদের আন্দোলন। এর আগে কমিশনের এই অফিসের সামনে বিভিন্ন সময় কেন্দ্র-বিরোধী ধর্না আন্দোলন স্লোগান দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। টেনে-হিঁচড়ে পুলিশের বাসে তোলাও হয়েছে তাঁদের। সাংবাদিকরাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে অপেক্ষা করতেন সাংসদরা বাইরে এসে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য পেশ করবেন বলে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তা অসম্ভব। চার ধারে ব্যারিকেড লাগানো হয়েছে তো বটেই, বছরের শেষ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দশ জন তৃণমূল নেতা বিধায়ক মন্ত্রী যখন কমিশনে গেলেন, দেখা গেল নির্বাচন কমিশনের সামনে র্যাফও মোতায়েন হয়েছে! মাত্র দশ জন বঙ্গসন্তানের জন্য র্যাফ মোতায়েন করার বিষয়টি একটু বাড়াবাড়িই— মনে করছেন অনেকে!
উত্তাপ: সতর্ক প্রহরায় জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। —নিজস্ব চিত্র।
সিঁড়ির স্মৃতি
কলেজের স্মৃতি ভোলার নয়। কার যে কখন কোন কথা মনে পড়ে যায়! মোদী সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে এখন অশ্বিনী বৈষ্ণবের রমরমা চলছে। রেল, ইলেকট্রনিক্স ও যোগাযোগ, তথ্য সম্প্রচার— এক সঙ্গে একাধিক মন্ত্রক সামলাচ্ছেন তিনি। ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন এঞ্জিনিয়ারিং-এ বি টেক করে আইআইটি কানপুর থেকে এম টেক পাশ করেছিলেন। তার পর আইএএস হন। এখন রাজনীতিতে। বিগত বছরের শেষ দিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন তিনি, দিল্লির ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারের অডিটোরিয়ামে। এক সাংবাদিক মাঝপথে ঢুকে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়িতেই বসে পড়েছিলেন। অশ্বিনী তাঁকে দেখে হাসতে হাসতে বলেন, আমাদের আইআইটি কানপুরের অনেক সিনিয়রকে দেখতাম, তাঁরা কিছুতেই চেয়ারে বসতেন না। অডিটোরিয়ামের সিঁড়িতে বসে প্রফেসরদের লেকচার শোনাই তাঁদের বেশি প্রিয় ছিল।
বানান ভুল
নিজের নামটি সকলেরই বড় প্রিয়। নামের বানান কেউ ভুল লিখলে তাতে সকলেরই বিরক্তি হয়। মন্ত্রী-সান্ত্রিরাও ব্যতিক্রম নন। বছরের শেষে দিল্লিতে এসেছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করার ফাঁকেই নিজের দল জেডি(ইউ)-এর দিল্লির নেতা, কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তি কিছু সমস্যা নিয়ে নীতীশের হাতে চিঠি তুলে দেন। নীতীশ চিঠি এক ঝলক দেখেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বলেন, আগে আমার নামটি ঠিক করে লিখুন। কেন? হিন্দিতে টাইপ করা সেই চিঠিতে নীতীশ কুমারের বদলে ‘নিতিশ’ কুমার লেখা ছিল। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিজের নামের ভুল দেখে তা মেনে নিতে পারেননি।
নিঃশব্দে জুড়ে থাকা
হায়দরাবাদে আত্মঘাতী দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার মা রাধিকা রাহুলের সঙ্গে ভারত জোড়ো যাত্রায় পা মিলিয়েছিলেন। কিছু দিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের হাসপাতালে ভর্তি শুনে রাহুল সেখানকার কংগ্রেস নেতাদের নির্দেশ দেন তাঁর দেখাশোনার। রাধিকা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। কয়েক লক্ষ টাকার বিল নিঃশব্দে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বন্ধু তোমায়
কংগ্রেসে রাহুল গান্ধীর পুরনো বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই বিজেপিতে চলে গিয়েছেন। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া থেকে জিতিন প্রসাদ হয়ে রভনীত সিংহ বিট্টু। তালিকা দীর্ঘ। এক বার যেতে যেতেও যাননি সচিন পাইলট। রাহুল তো বটেই, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। সম্প্রতি কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর সচিনকে দেখা গেল কিছুটা নিষ্প্রভ। রাহুল জানতে চাইলেন, কী সমস্যা? সচিন জানালেন, শরীর বিশেষ ভাল নেই। পিঠের একটা ব্যথা বেশ কিছু দিন ধরেই ভোগাচ্ছে। রাহুল সঙ্গে সঙ্গে নিজের ডাক্তারকে ফোন করেন। সচিনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। বেশ কিছু পরামর্শও দিয়ে দেন ব্যথা সামলানোর।
পাশাপাশি: সনিয়া এবং রাহুল-প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে সচিন পাইলট —ফাইল ছবি।
শাহি খানা
সংসদের সদ্যসমাপ্ত শীতকালীন অধিবেশনে এক দুপুরে সংসদ ভবনের ক্যান্টিনে হঠাৎ হাজির অমিত শাহ। সঙ্গে বিজেপির সাংসদ অনিল বালুনি ও দুই মন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই ও কিরেন রিজিজু। অর্ডার করা হল পুরি ও আলুর তরকারি। অমিত শাহ দলের নেতাদের নিয়ে জমিয়ে খেলেন। আড্ডাও দিলেন। বিজেপির নেতারা জানালেন, জ্বরে ভুগছিলেন অমিত শাহ। তাই একটু মুখরোচক খাবারে স্বাদ বদলালেন।
,
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)