Advertisement
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
National news

ভিতরটিকে যত্ন করে সাজানো দরকার

জাতীয়তাবাদের সশব্দ ঘোষণাই যেখানে মূল লক্ষ্য, এবং সেই আবেগের সূত্রে অচ্ছে দিনের ক্রমাগত ক্ষীণ হতে-থাকা সম্ভাবনায় ক্ষুব্ধ ভারতবাসীকে যদি গ্রথিত রাখা যায়, তা হলে শাসকের লাভ বিলক্ষণ।

নবীনকুমার সিংহ। —ফাইল চিত্র।

নবীনকুমার সিংহ। —ফাইল চিত্র।

অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০১৭ ০০:২৫
Share: Save:

ভিতরের সারবস্তুতে নজর না দিয়ে যদি ন্যাপনচোপনেই যত্ন থাকে, তবে কী হতে পারে, সেটা করে দেখালেন বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র নবীনকুমার সিংহ। টিভি চ্যানেলের স্টুডিওয় বসে বন্দে মাতরম গাইতে গিয়ে স্বকপোলকল্পিত যে শব্দমালা রচনা করলেন এই নেতা, প্রায় দেড়শো বছর আগে এর ন্যূনতম সম্ভাবনার আন্দাজ পেলে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই লেখাটি আদৌ লিখতেন কি না, সন্দেহ আছে। ঘটনাটা নিতান্তই প্রতীকী। কিন্তু বাগাড়ম্বরসর্বস্ব একটা সময়ের আত্মপ্রচারনিনাদমুখী একটা সংস্কৃতির নিপাট প্রতীক, তাতে বোধ হয় সংশয় নেই।

Advertisement

আরও পড়ুন: ‘বন্দে মাতরম’ গেয়ে লোক হাসালেন বিজেপি নেতা

বন্দে মাতরম গানটি কণ্ঠস্থ থাকবে এমনটা না হতেই পারে, তত্সম শব্দবহুল একটি গানের শব্দে ভ্রম এবং ভ্রান্তিও খুব বিরাট অপরাধ, এমনটাও নয়। কিন্তু যে গানটিকে আত্মার পরমাত্মীয় হিসাবে তুলে ধরব, এবং গানটির পরের পর্যায়ে দুর্গাবন্দনার কথা মাথায় রেখে মুসলিম সমাজের একটি অংশের মধ্যে পূর্ণ গানটির ব্যাপারে কিছু আপত্তির প্রেক্ষিতে দেশপ্রেমের অ্যাসিড টেস্ট হিসাবে ‘বন্দে মাতরম’-কেই তুলে ধরব, অথচ তার কথাগুলি জানব না, এর মধ্যে একটা দ্বিচারিতা আছে। হম্বি এবং তম্বি থাকবে, অথচ সারবস্তুটি নেই, ঘটমান সময় কি বারংবার সে কথাই সামনে এনে দিচ্ছে না?

বস্তুত, জাতীয়তাবাদের সশব্দ ঘোষণাই যেখানে মূল লক্ষ্য, এবং সেই আবেগের সূত্রে অচ্ছে দিনের ক্রমাগত ক্ষীণ হতে-থাকা সম্ভাবনায় ক্ষুব্ধ ভারতবাসীকে যদি গ্রথিত রাখা যায়, তা হলে শাসকের লাভ বিলক্ষণ। অতএব, গোমাতা হোক বা বন্দে মাতরম, কোনও একটা উপলক্ষ দরকার হয় শাসকের। নিহিত থাকে অন্য উদ্দেশ্য। সমাজের একটা বড় অংশকে বিচ্ছিন্ন করার সামাজিক-মানসিক প্রয়াস চলে জাতি ও রাষ্ট্রের নামে। চলেই যদি, তা হলে বন্দে মাতরম বস্তুটি কী, সে সম্পর্কেও সম্যক ধারণা থাকা দরকার। বিজেপি-র মুখপাত্রের অজ্ঞতা আসলে সারগর্ভহীনতারই পরিচয় দেয়।

Advertisement

ভিতরে খড়ের গোঁজার চরিত্র বদলে যায় না, উপরে ন্যাপনচোপন যতই হোক না কেন। প্রতীকী এই ঘটনা কিন্তু চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, ভিতরটিকে যত্ন করে সাজানোর দরকার আছে। অন্তরাত্মার দিকে তাকাচ্ছেন কি কেউ?

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.