অন্ধকার গাঢ় হওয়ার নানা ইঙ্গিতের মাঝে এক রুপোলি রেখা। হানাহানি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন, হিংসার খবরে বিচলিত হতে হয় যখন রোজ, তখন মন জুড়িয়ে দিলেন দেশের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির স্ত্রী সালমা আনসারি। তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মন্দির এবং মসজিদ একসঙ্গে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সালমা।

উত্তরপ্রদেশে আলিগড়ে একটি মাদ্রাসা চালান সালমা আনসারি। সেই মাদ্রাসার অন্দরেই মসজিদ এবং মন্দির তৈরি করা হবে বলে সালমা ঘোষণা করেছেন। প্রার্থনার জন্য পড়ুয়াদের যাতে বাইরে যেতে না হয়, প্রথমত তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত, জানিয়েছেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির স্ত্রী। দ্বিতীয়ত, সম্প্রীতির উজ্জ্বল নমুনা হয়ে ওঠাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

আবার বলছি, সালমা আনসারি সত্যিই মন জুড়িয়ে দিলেন। মাদ্রাসা যে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তা আমাদের কারও অজানা নয়। মাদ্রাসার অন্দরে প্রার্থনার জন্য যদি শুধুমাত্র মসজিদ তৈরি হত, তা হলেও কারও কিছু বলার ছিল না। কিন্তু দেশের সাম্প্রতিক বাতাবরণের কথা মাথায় রেখে সালমা আনসারি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মন্দির এবং মসজিদ শতকের পর শতক যে পাশাপাশি থেকেছে, মন্দর-মসজিদের সহাবস্থানেই যে এ দেশের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সে কথা আরও এক বার উজ্জ্বল ভাবে মনে করিয়ে দেওযার ব্যবস্থা করলেন তিনি।

ম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

মন্দির ও মসজিদ এ দেশে আর সহাবস্থান করছে না, এমন কিন্তু নয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে হানাহানি, সাম্প্রদায়িক হিংসা, বিভাজন ঘটানোর চেষ্টারও খবর আসছে ঠিকই। কিন্তু তা সত্ত্বেও বহুলাংশেই এখনও মন্দির দাঁড়াচ্ছে মসজিদের পাশে বা মসজিদ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে মন্দিরের দিকে। তেমনটা ঘটছে বলেই আমাদের পরম্পরাগুলো আজও মোটের উপর অবিকৃত থাকতে পারছে। তবু সালমা আনসারির প্রয়াসটা বিশেষ ভাবে প্রশংসনীয়। কারণ সময়টা যেরকম প্রতিকূল, তাতে শুধু সহাবস্থান থাকলে চলে না, সহাবস্থানকে উজ্জ্বল ভাবে প্রতিভাতও হতে হয়। সালমা আনসারিদের প্রয়াসের মধ্যে দিয়ে সেটাই হতে চলেছে, শতকের পর শতক ধরে আমাদের সহাবস্থান মূর্ত হয়ে উঠতে চলেছে।

আরও পড়ুন: আলিগড়ে মাদ্রাসার মধ্যেই গড়ে উঠবে মন্দির-মসজিদ, ঘোষণা প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির স্ত্রীর