Advertisement
E-Paper

চাষের আশা

ব ঙ্গদেশের কৃষকের বিধিলিপি কি অবশেষে বদলাইবে? রাজ্য সরকার আশার আলো দেখাইয়াছে। চাষিদের সংস্থার সহিত বেসরকারি বিপণন সংস্থার গাঁটছড়া বাঁধিবার পরিকল্পনা লইয়াছে। ইহাতে উন্নত প্রযুক্তি এবং উপযুক্ত দাম চাষি পাইতে পারে।

শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০০:০০

ব ঙ্গদেশের কৃষকের বিধিলিপি কি অবশেষে বদলাইবে? রাজ্য সরকার আশার আলো দেখাইয়াছে। চাষিদের সংস্থার সহিত বেসরকারি বিপণন সংস্থার গাঁটছড়া বাঁধিবার পরিকল্পনা লইয়াছে। ইহাতে উন্নত প্রযুক্তি এবং উপযুক্ত দাম চাষি পাইতে পারে। কৃষি উৎপাদকদের কোম্পানি তৈরি করিবার মূল পরিকল্পনাটি অবশ্য কেন্দ্রের। কিন্তু তাহা এ রাজ্যে উপেক্ষিত হইতে পারিত। রাজ্য সরকার যে বাস্তবিকই তাহা করিতে উদ্যোগ নিয়াছে, ইহার জন্য সাধুবাদ প্রাপ্য। এত দিনে চাষের মূল সমস্যাটি লইয়া নেতাদের বোধোদয় হইয়াছে। অনুন্নত প্রযুক্তিতে, অতিরিক্ত পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন করিয়া সামান্য দামে তাহা বিক্রয়, অনাদিকাল এই অভিশাপ বহন করিয়াছে চাষি। উন্নত চাষের মূলধন বা প্রশিক্ষণ তাহার কোনও দিনই ছিল না। অন্যান্য প্রদেশে বড় জমির মালিক বৃহৎ চাষিরা তবুও আধুনিক চাষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করিতে পারে। এ রাজ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিই অধিক, তাহারা সে সুযোগ পায় নাই। তাহাদের চাষ শ্রমনির্ভর। সেই শ্রমের কোনও মূল্য কিন্তু তাহারা ধার্য করে না। ফসল ফলাইতে যে ব্যয়, তাহার তুলনায় কিঞ্চিৎ অধিক টাকা হাতে আসিলেই চাষি তাহা ‘লাভ’ বলিয়া গণ্য করে। সরকারের সহায়তা বলিতে সহজ শর্তে ঋণ এবং ন্যূনতম দামে কিছু ফসল ক্রয়। অধিকাংশ চাষিই সরকারি সহায়তা হইতে বঞ্চিত। জমির স্বত্ব লইয়া বিবাদ, আবেদনের জটিল শর্ত, সরকারি দফতর এবং ব্যাঙ্ক কর্তাদের অভদ্র ব্যবহার, এগুলি চাষিকে সরকারি সুবিধা হইতে দূরে রাখিয়াছে। ফড়ে-নির্ভর, বাজার-বিচ্ছিন্ন চাষি বহু প্রজন্ম চাষ করিয়াও গরিব, ঋণ-জর্জরিত।

বেসরকারি কৃষিপণ্য বিপণন সংস্থাগুলির সহিত চুক্তি করিলে যে চাষির দুই দিক হইতেই লাভ, তাহা অবিদিত নহে। ওই সংস্থাগুলি উন্নত বীজ, নূতন পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ দিয়া থাকে। নির্দিষ্ট দামে ফসল কিনিয়া লয়। কিন্তু তেমন চুক্তির বিরোধিতা করিয়াছে সব দল। নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের স্মৃতি উসকাইয়া নেতারা বলিয়াছেন, চাষিরা কার্যত দাস-শ্রমিকে পরিণত হইবে। তাহাদের জমিতে কী চাষ হইবে, কী শর্তে চাষ হইবে, সিদ্ধান্ত লইবার ক্ষমতা হারাইবে। ভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তি চলে না। কিন্তু বাস্তব যে অন্য প্রকার, তাহা প্রমাণিত। এ রাজ্যের যে সকল আলু চাষি বহুজাতিক কোম্পানির সহিত চুক্তি করিয়া চাষ করিয়াছে, লোকসানের বছরেও তাহাদের লাভ হইয়াছে। এই পদ্ধতিতে ফল ও সব্জি উৎপাদনও লাভজনক হইয়াছে। অপর দিকে, সার-কীটনাশক, জল-বিদ্যুতের দাম বাড়িতে থাকায় সাবেকি চাষ আরও ঝুঁকিপূর্ণ, অলাভজনক হইয়া উঠিতেছে। রাজ্যবাসীর এক বৃহৎ অংশ আজ আর্থিক বিপন্নতায় ভুগিতেছে।

এই পরিস্থিতিতে চাষিদের সংস্থা তৈরি করিয়া, সরকারের মধ্যস্থতার দ্বারা বেসরকারি সংস্থার সহিত চুক্তি নিঃসন্দেহে একটি জরুরি পদক্ষেপ। ইহার পথ ধরিয়া ব্যক্তিগত চুক্তিচাষের পথও সুগম হইবার আশা রহিয়াছে। কিন্তু আশঙ্কাও কম নাই। চাষিদের কোম্পানি যে কাজটি করিবে, কৃষি সমবায় বহু পূর্বেই তাহা করিতে পারিত। বাধা ছিল না। পারে নাই, কারণ সমবায়ের কর্তারা চাষিদের পক্ষ না লইয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের পক্ষই লইয়াছেন। তদুপরি দলীয় রাজনীতি ও তদনুসারী দুর্নীতি সমবায়ের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করিয়াছে। চাষিদের কোম্পানিরও সেই হাল হইবে কি? নেতা যদি ব্যবসায়ীকে পথ ছাড়িয়া দিতে পারে, তবেই চাষির কপাল ফিরিবে। নচেৎ নহে।

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy