সাত বৎসর বয়স্ক দুষ্ট ছেলেকে শিক্ষা দিবার জন্য, বাবা-মা তাহাকে গাড়ি হইতে নামাইয়া দিলেন একটি পাহাড়ি জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী রাস্তায়, তাহার পর গাড়ি চালাইয়া কিছু দূর চলিয়া গেলেন। ছেলে কেমন ভয়ে ও অনুতাপে আড়ষ্ট হইয়া হাউহাউ রোদন করিতেছে, তাহা কল্পনা করিতে করিতে পাঁচ মিনিট পর ফিরিয়া আসিয়া দেখেন, ছেলে নাই। জাপানে এই ঘটনাটি ঘটিবার পর হইতে সমগ্র দেশ তোলপাড় হইতেছিল। অনেকে নিষ্ঠুর ও অদূরদর্শী অভিভাবকদের কঠোর শাস্তি দাবি করিতেছিলেন। কেহ বলিতেছিলেন, পিতামাতার দিকটিও দেখিতে হইবে, সন্তান পালনের চাপ কম নহে, ছেলেটি তো বেড়াইতে গিয়া লোকজন ও গাড়ির দিকে ক্রমাগত পাথর ছুড়িতেছিল, হাজার নিষেধ সত্ত্বেও থামে নাই। আর, পিতামাতা তো সন্তানকে সত্যই নির্বাসন দেন নাই বা পরিত্যাগ করেন নাই, তাঁহারা ভয় দেখাইতেছিলেন মাত্র। এই কথাও উঠিল: জাপানে সন্তানদের ব্যক্তি হিসাবে না দেখিয়া পিতামাতার সম্পত্তি হিসাবে দেখা হয়, এই দেশে শিশু নিগ্রহ পাশ্চাত্যের তুলনায় সমধিক। ছেলেটিকে খুঁজিতে বহু পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সেই ভল্লুক-অধ্যুষিত অরণ্য ছানিয়া ফেলিলেন, সাত দিন পর তাহাকে পাওয়া যাইল এক পরিত্যক্ত সামরিক কুটিরে, তাহার পার্শ্বে একটি কল হইতে কেবল জল খাইয়া ছেলেটি এত দিন রহিয়াছে। উদ্ধারকারীদের দেখামাত্র ছেলেটি কাঁদে নাই, চিৎকার করে নাই, খাদ্য চাহিয়াছে। ডাক্তার ছেলেটিকে পরীক্ষা করিয়া বলিয়াছেন, সে সম্পূর্ণ সুস্থ, সামান্য কিছু কাটিয়া যাওয়া ব্যতীত কোনও ক্ষতিই হয় নাই। সে খুবই নিরুদ্বিগ্ন ও শান্ত ছিল, তাহার মধ্যে ভীতির চিহ্নই দেখা যায় নাই। জাপান স্বস্তির শ্বাস ফেলিয়াছে, সঙ্গে ইহাও ভাবিতেছে, এই ছেলে কি শৈশবে ‘গুংগা’ বলিয়া ডাকিয়াছিল?
ইহার পূর্বে ব্রতকথা ও রূপকথার উমনো-ঝুমনো বা হানসেল-গ্রেটেল’কে অরণ্যে পরিত্যাগ করা হইয়াছে, কিন্তু তাহারা বাস্তবের এই ইয়ামাতো তানুকা-র (সঙ্গের ছবিতে) ন্যায় সাহস ও স্থৈর্যের পরিচয় দিতে পারে নাই। ছেলেটি বেশ কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করিয়া, এমনকী কিছু ক্ষণ পাহাড়ের চড়াই বাহিয়া, কুটিরটি আবিষ্কার করিয়াছে। কেবল জল খাইয়া এত দিন থাকিয়াছে। কবে তাহাকে উদ্ধার করা হইবে, আদৌ কখনও করা হইবে কি না, ইহা ভাবিয়া দুশ্চিন্তায় অর্ধেক হইয়া ছুটাছুটি করে নাই, বরং কুটিরে কয়েকটি গদি রাখা ছিল, তাহাতে ঘুমাইয়াছে। শীতার্ত ও নিকষ অন্ধকার রাত্রিগুলি তাহার নিকট কী প্রবল ভয়াবহ ও নিঃসঙ্গ মনে হইত! শিশুরা বাড়ির মধ্যে অন্ধকার ঘরে রাখিলেই কী কাতর হইয়া পড়ে! আর এই ছেলেটিকে দুঃসহ একাকিত্ব ও অচেনা অরণ্য-আবহও কাবু করিতে পারে নাই! ছেলেটির স্বাস্থ্যই কেবল অসামান্য নহে, মানসিক গঠনও আশ্চর্য। প্রথমত, কোনও সাধারণ ছেলেকে জঙ্গলের কিনারায় নামাইয়া দিলে, সে স্থাণু হইয়া সেই স্থানেই দাঁড়াইয়া থাকিবে, জঙ্গলের অভ্যন্তরে যাইবে না। কিন্তু ইহার প্রাণে ভয়ডর নাই। সঙ্গে রহিয়াছে এই বোধ যে কুটিরটি পরিত্যাগ করিয়া যাওয়া চলিবে না, কারণ এই স্থানে আশ্রয় ও জল মিলিতেছে। এবং অবশ্যই রহিয়াছে এমন নিঃশঙ্ক মানসিকতা যে সাত দিন পরে মানুষ দেখিয়া কোল জাপটাইয়া হাউমাউ করিয়া ‘বাড়ি লইয়া চলো’ বলিয়া কাঁদে নাই। তাৎক্ষণিক জৈবিক প্রয়োজনটি মিটাইবার জন্য খাদ্য চাহিয়াছে। অবশ্য এমনও হইতে পারে, সে আদৌ পরিস্থিতিটির গুরুত্ব বা বিপদ বুঝে নাই। হয়তো সে ভাবিতেছিল, ইহা দুরন্ত অ্যাডভেঞ্চার, যেমনটি সে কার্টুন চ্যানেলে দেখিয়া থাকে। যাহাই তাহাকে বাঁচাইয়া থাকুক, এই মুহূর্তে সে তারকা। বাংলায় জন্মাইলে, পূজা উদ্বোধন করিয়া লক্ষাধিক টাকা কামাইত। কিন্তু ওই দেশেও, একটি সুবিধা সে পাইবেই: জীবনে বাবা-মা আর বকিবেন না। শিশুর নিকট ইহা অপেক্ষা শুভবার্তা আর কী হইতে পারে!
য ত্ কি ঞ্চি ত্
লিবিয়া থেকে আইএস জঙ্গি তাড়াতে ব্রিটিশ স্পেশাল ফোর্স ব্যবহার করছে আশ্চর্য অস্ত্র: হিন্দি সিনেমার গান! দুটো গাড়ি থেকে সারা দিন তারস্বরে এই গান বাজছে, উগ্রপন্থীদের যোগাযোগ-ব্যবস্থার মধ্যেও চোরাগোপ্তা ঢুকে, গান চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংগীতকে আইএস প্রবল ইসলাম-বিরোধী মনে করে, তাই তারা নাকি অস্থির হয়ে উঠছে, ভেঙে পড়ছে! কিন্তু পেল্লায় পাশ্চাত্য লারেলাপ্পা থাকতে বলিউড-সং কেন? এর বশে আইএস বন্দুক ছেড়ে অল্প নেচে উঠতেও পারে বলে?