Advertisement
E-Paper

কেন্দ্রীয় নির্দেশ মেনে তৈরি হবে নয়া স্কুল পরিচালন সমিতি! ভোটের পর রাজ্যের স্কুলশিক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

শিক্ষা যৌথ তালিকাভুক্ত। ফলে কোনও রাজ্য চাইলে কেন্দ্রীয় নির্দেশ না-ও মানতে পারে। কিন্তু এ বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। স্কুলশিক্ষকদের একাংশও চাইছেন সরকার গঠনের পরই পুরনো পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হোক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ১৫:২৮

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

গত ১৫ বছরে স্কুল পরিচালন সমিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বার বার। অভিযোগ উঠেছে, সমিতির সভাপতি পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বসিয়ে তৃণমূল কর্তৃত্ব করতে চেয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতির পদ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। সকলেই দাঁড়িয়েছিলেন ভোটে। সে খবর প্রকাশিত হয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম-এ।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আগামী দিনে কী হবে স্কুল পরিচালন ব্যবস্থার? এরই মধ্যে বুধবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক ‘বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির নির্দেশাবলি’ প্রকাশ করেছেন। ফলে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা যৌথ তালিকাভুক্ত। ফলে কোনও রাজ্য চাইলে কেন্দ্রীয় নির্দেশ না মানতেও পারে। কিন্তু এ বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে কেন্দ্রীয় নীতি মেনে চলবে সেটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। স্কুলশিক্ষকদের একাংশও চাইছেন সরকার গঠনের পরই পুরনো পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হোক।

বুধবার প্রকাশিত নির্দেশিকায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সমিতিতে অভিভাবক বিশেষ করে মহিলাদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা। নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যার উপরে ভিত্তি করে সমিতির সদস্য সংখ্যার নির্ধারণ হবে। ৭৫ শতাংশই হবেন অভিভাবকেরা। ৫০ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধি থাকবেন।

এর বাইরেও একগুচ্ছ পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে সমিতির সচিব হিসেবে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতি দু’বছর অন্তর সমিতি ভেঙে দেওয়া হবে।

একজন সদস্য দুই বা ততোধিক বার মনোনীত হতে পারেন। কিন্তু সচিব ছাড়া কেউই একটানা দু’টি মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না।

নির্বাচন তো বটেই প্রয়োজনে ব্যালটের মাধ্যমেও নির্বাচন করানোর কথা বলা হয়েছে। শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই যেন এই সমিতি তৈরি হয় সে দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। পাশাপাশি মাসে অন্তত একবার সমিতির বৈঠক বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।

সমিতির গঠনের পরে দু’টি উপসমিতি গঠন করার কথাও বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়— ‘বিদ্যালয় ভবন সমিতি’ ও ‘শিক্ষা বিষয়ক সমিতি।’

প্রথমটি বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরেরটি শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করবে। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির উপরে নজর রাখার কথা বলা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। এ বারে কি নজরদারির আওতায় শিক্ষকেরাও? প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা মহলেই।

স্কুলছুটের সমস্যাকে প্রতিহত করার পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, কমিউনিটি রেডিও এবং অভিভাবকদের কাউন্সেলিং করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পিএম পোষণ ঠিক মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না সেটাও দেখা সমিতির কাজ। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উন্নতি কল্পে ৫টি পর্যায়কে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।

যদিও বর্তমানে যে সমিতিগুলি রয়েছে ইতিমধ্যে সেগুলি ভেঙে দেওয়ার জন্য স্কুলশিক্ষা দফতরে আবেদন জানিয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘দ্রুত সব স্কুলের পরিচালন সমিতিগুলি ভেঙে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি। ত়ৃণমূল যে ভাবে শিক্ষাকে রাজনীতির কুক্ষিগত করে রেখেছিল তার অবসান সবার আগে করা প্রয়োজন। সে কারণে দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবকে এই আবেদন করা হয়েছে।’’

management
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy