Advertisement
E-Paper

প্রশিক্ষণ ছাড়াই বুথের দায়িত্বে বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষিকা! তিনি কী ভাবে ভোটারদের সাহায্য করবেন, উঠছে প্রশ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। সেখানে স্কুল শিক্ষকদের একাংশকে কাজ করতে হবে বিএলও হিসাবে। ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ বা ভ্যাব-এ কাজ করতে হবে তাঁদের। অনেক শিক্ষকই নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ পাননি বলে অভিযোগ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১২

— প্রতীকী চিত্র।

প্রশিক্ষণ পাননি। তবু নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে শিক্ষিকাকে। কী ভাবে নির্ভুল ভাবে কাজ করবেন তিনি? এ প্রশ্নের উত্তর নেই কোনও পক্ষে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। সেখানে স্কুল শিক্ষকদের একাংশকে কাজ করতে হবে বিএলও হিসাবে। ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ বা ভ্যাব-এ কাজ করতে হবে তাঁদের। অনেক শিক্ষকই নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ পাননি বলে অভিযোগ। অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন তাঁরা শারীরিক কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়েও পাননি। এমনকি ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালট জমা দেওয়ার সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ফলে এ বার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করাও হবে না।

বাঁকুড়ার এক শিক্ষিকা এমনই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ৫৫ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তাঁর। সে কারণে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। তা মঞ্জুর হয়নি। তিনি প্রশিক্ষণে যোগ না দিলেও তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়নি। অথচ, জানানো হয়েছে ২৩ এপ্রিল নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতেই হবে। কিন্তু কী ভাবে এই কাজ করবেন তিনি?

Advertisement

ওই শিক্ষিকা বলেন, “২০০৭-এ স্কুলে যোগ দিয়েছি। বাম হাত ও ডান হাঁটুতে সমস্যা রয়েছে, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। এ জন্যই কোনও দিন নির্বাচনী দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বার প্রশাসনের কাছে বার বার আবেদন করেও লাভ হয়নি। জানি না কী ভাবে ভোটারদের সাহায্য করব!”

আবার ডেবরার ভোটার গোপীবল্লভপুরের এক স্কুলশিক্ষিকা বিএলও হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোপীবল্লভপুরে। তিনিও কোনও প্রশিক্ষণ নেননি বলে আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন। ফলে কী ভাবে কাজ করবেন, বুঝতে পারছেন না ওই শিক্ষিকা। পাশপাশি তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়েও। পোস্টাল ব্যালট জমা দেননি তিনি।

শিক্ষিকা বলেন, “রবিবার সন্ধ্যায় আমার কাছে ফোন আসে, বলা হয় ২৩ এপ্রিল সকাল ৬টার মধ্যে ভোটকেন্দ্রে চলে যেতে। প্রশিক্ষণ নিইনি, কী ভাবে ভোটারদের সাহায্য করব?” তাঁর আক্ষেপ এ বার নিজের ভোটই দিতে পারবেন না।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের ভোটশাখার সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন, কমিশন নির্দেশ দিয়েছে সব ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথে একজন বিএলও-র সঙ্গে আর একজন (একজন পুরুষ, একজন মহিলা) থাকবেন। সে কারণেই এমন ফোন করে দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, “এত জন সরকারি কর্মী তো নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কী ভাবছে?”

নির্বাচন কমিশনের এক কর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কার্যত এড়িয়ে যান। দাবি করে, কেন্দ্রীয় ভাবে এ বিষয়ে তাঁর পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়। নির্বাচনী দায়িত্ব যা দেওয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট জেলা থেকেই। তারাই বলতে পারবে।

Training BLO
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy