Advertisement
E-Paper

ম্যাকাউটের শিক্ষকদের অনশনের এক সপ্তাহ, উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ উপাচার্যের

উপাচার্য ঢাল হিসাবে উচ্চশিক্ষা দফতরকে ব্যবহার করে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের একাংশের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৩

নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যের একমাত্র সরকারপোষিত প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মৌলানা আবুল কালাম আজ়াদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণসসময়ের চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষকদের অনশন এক সপ্তাহে পড়ল। ৫ মার্চ চুক্তির পুনর্নবীকরণ, ৩ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি, পড়ুয়ার সংখ্যা কমে যাওয়া-সহ একাধিক দাবিতে রিলে অনশন শুরু করেছিলেন শিক্ষকদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার অস্থায়ী উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ৩ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা দফতরের সঙ্গে কথা বলার জন্য রেজিস্ট্রারকে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও এই পদক্ষেপকে নিতান্তই অজুহাত বলে দাবি অনশনরত শিক্ষকদের।

উপাচার্য জানান, ২০১৭ সালে সংশোধিত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনও পদে নিয়োগ করতে হলে উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমতি প্রয়োজন। বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। সে কারণেই রেজিস্ট্রারের কাছে পরামর্শ গিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতরের যে অর্থ বিভাগ রয়েছে সেখানেই কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য অংশের মত ভিন্ন। এক আধিকারিক বলেন, “চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে। সরকার স্বীকৃত পদ না হওয়ার কারণে সরকারের অর্থ নেওয়া হয় না। তা হলে কোন আইনের জন্য উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমতির প্রয়োজন?” কর্ম সমিতিতে যে নিয়ম পাশ হয়েছে তার পরেও অনুমতি নিতে হলে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার হস্তক্ষেপের প্রশ্ন ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ের কোর্স শুরু করা হয়েছিল। সেই অর্থ থেকেই তাঁদের বেতন হওয়ার কথা।

যদিও অস্থায়ী উপাচার্য তাপস জানান, এ রকম বহু বিভাগ রয়েছে যেখানে পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় কমেছে অনেকটাই। তাই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

এখানেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, যে বিভাগের মাধ্যমে পড়ুয়া ভর্তি নেওয়া হত, সেটিই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেলফ ফিন্যান্সিং করে কোর্স চালানোর দক্ষতাই তো কর্তৃপক্ষের নেই। অনেক বিভাগও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার ম্যাকাউট শাখার সভাপতি টোটন ঘোষ বলেন, “কিছু শিক্ষাকর্মীর ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে। সেখানে বিকাশ ভবনের অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির সময় বিকাশ ভবনের কথা বলে আসলে উচ্চশিক্ষা দফতরকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন উপাচার্য।”

উপাচার্য বলেন, “অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়োগ না করতে পারলে পড়ুয়া ভর্তি কী ভাবে বৃদ্ধি পাবে? আউটরিচ প্রোগ্রাম চালাতে হলেও অভিজ্ঞ শিক্ষকের প্রয়োজন। গত চার বছর ধরে কর্মসমিতি নেই। সে কারণে নিয়োগ করা যাচ্ছে না। তাই সরকারের অনুমোদন ছাড়া আমি কিছুই করতে পারব না।”

MAKAUT WB Teachers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy