Advertisement
E-Paper

জোড়া মামলায় বিদ্ধ সিবিএসই! দ্বাদশের ফল নিয়ে শুনানি দিল্লি হাই কোর্টের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেও

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইকে নিয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চের সামনে সিবিএসই-এর আইনজীবী আবেদন জানিয়েছেন, বোর্ড নানা সমস্যায় জর্জরিত, তাই আরও একটু সময় দেওয়া হোক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১৭:৩৯

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং ফলাফল নিয়ে একের পর এক জটিলতা। বার বার প্রশ্নের মুখে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন। এক দিকে বোর্ডের নতুন ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। অন্য দিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা বাতিলের পর প্রবাসী ছাত্রের ফলাফল আটকে রাখার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে সিবিএসই।

পশ্চিম এশিয়ায় (বাহরাইন, ইরান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি) যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার কারণে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির বেশ কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল করেছিল গত মার্চে। সৌদি আরবের আল জুবাইল শহরের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান স্কুল’ থেকে প্রাংশু জিগরকুমার প্যাটেল নামের এক প্রবাসী ছাত্র চলতি বছর ‘প্রাইভেট ক্যান্ডিডেট’ হিসাবে দ্বাদশের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গত বছর পাশ করার পর এ বার পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্স-এ ‘ইম্প্রুভমেন্ট’ পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি কেবল পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন পরীক্ষা দিতে পারেন, বাকি তিনটি পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়।

গত ১৩ মে ফলপ্রকাশ করলেও বোর্ডের তরফে প্রাংশুর ফলাফল পরে জানানো হবে বলে লিখে দেওয়া হয়। বোর্ড প্রবাসীদের জন্য একটি ‘বিশেষ মূল্যায়ন নীতি’ তৈরি করে জানিয়েছিল, স্কুলের ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও প্রি-বোর্ড পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত নম্বর দেওয়া হবে। কিন্তু প্রাংশুর অভিযোগ ছিল, যে হেতু তিনি একজন ‘প্রাইভেট ক্যান্ডিডেট’, তাই বোর্ড তাঁর রেজাল্ট আটকে রেখেছে।

প্রায় এক মাস পরও ফলাফল জানতে পারেননি প্রাংশু। এই দিকে ধীরুভাই অম্বানি ইউনিভার্সিটিতে তাঁর বিটেক (কম্পিউটার সায়েন্স ও এআই) কোর্সে ভর্তির শেষ সময়সীমাও পেরিয়ে যাচ্ছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাংশু। সোমবার, শীর্ষ আদালতের তরফে প্রাংশুর মামলার প্রেক্ষিতে সিবিএসই-কে নোটিস জারি করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইকে নিয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চের সামনে সিবিএসই-এর আইনজীবী আবেদন জানিয়েছেন, বোর্ড নানা সমস্যায় জর্জরিত, তাই আরও একটু সময় দেওয়া হোক। প্রত্যুত্তরে বিচারপতি মনমোহন নির্দেশ দেন, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত। প্রয়োজনে মাঝরাত পর্যন্ত জেগে কাজ শেষ করতে হবে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে এ বিষয়ে সিবিএসই-কে চূড়ান্ত জবাবদিহি করতে হবে।

অন্য একটি মামলায় দিল্লি হাই কোর্টে সিবিএসই-র নতুন চালু করা ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) বা ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ত্রুটির অভিযোগ এনেছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (এনএসইউআই)।

এনএসইউআই-এর সভাপতি বিনোদ জাখরের মাধ্যমে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক ওএসএম পদ্ধতি নিয়ে ক্ষুব্ধ। বোর্ডের পোর্টালে আপলোড করা উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি অত্যন্ত ঝাপসা, বহু খাতার গুরুত্বপূর্ণ পাতা অমিল, খাতার সঙ্গে হাতের লেখার সাযুজ্য নেই এবং বহু মেধাবী পড়ুয়াকে অপ্রত্যাশিত ভাবে অত্যন্ত কম নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আর তাতে শিক্ষার্থীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এই মামলায় সিবিএসই-র এমএ নিয়াজি রাজনীতিকে দূরে রাখার দাবি করেন দিল্লি হাই কোর্টে। মামলাকারী যে হেতু এনএসইউআই-র সদস্য এই বক্তব্য তিনি রেখেছেন। এ দিকে এনএসইউআই-এর দাবি, এই জালিয়াতি রুখতে পোর্টালটি আরও এক মাস খোলা থাক, খাতাগুলি হাতেকলমে ফের মূল্যায়ন করা হোক। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে।

এনএসইউআই-এর দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণা এবং বিচারপতি মধু জৈনের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার ও সিবিএসই-র কাছে জবাব তলব করে আগামী ১২ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

CBSE CBSE 2026
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy