Advertisement
E-Paper

যাদবপুর-ম্যাকাউট উৎকর্ষ রাখতে পারবে কি! বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রশ্ন সুকান্তের

সুকান্ত দাবি করেন, একাধিক নামী বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পাস খুলতে চাইছে। ইতিমধ্যে দু’টি ক্যাম্পাস তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। ফলে দেশের নামী সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে চলেছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৮:২০
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।

‘যাদবপুর আর যাদবপুর থাকবে কি না, আগামী দিন ঠিক করবে’, কলকাতার এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

শুক্রবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শিক্ষা সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সুকান্ত। সেখানেই ডবল ইঞ্জিন সরকার এবং তার কার্যকারিতায় রাজ্যের শিক্ষার উন্নতি প্রসঙ্গ উঠে আসে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত বলেন, “এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের শিক্ষার যে অবস্থা হয়েছিল, তা পরিবর্তন করতে হবে।”

সুকান্ত দাবি করেন, একাধিক নামী বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্পাস খুলতে চাইছে। ইতিমধ্যে দু’টি ক্যাম্পাস তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। ফলে দেশের নামী সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে চলেছে। সেই প্রতিযোগিতায় টিঁকে থাকতে হলে নিজেদের বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার সুকান্ত বলেন, “ইংল্যান্ড থেকে ইতিমধ্যে দশটি নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের ক্যাম্পাস চালু করতে চাইছে। ফলে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। যাদবপুর আর যাদবপুর থাকবে কি না, ম্যাকাউট আর ম্যাকাউট থাকবে কি না, এই প্রতিষ্ঠানগুলিই পড়ুয়াদের কাছে সেরা হিসাবে বিবেচিত হবে কি না, তা স্থির করবে ভবিষ্যৎ। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকেও বিশ্বমানের হয়ে উঠতে হবে। উন্নত মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।’’ তাঁর দাবি, শুধু যাদবপুর বা ম্যাকাউট-এর (মৌলানা আবুল কালাম আজ়াদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিও। পড়ুয়াদের সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করতেই এই নীতি কার্যকর হয়েছে।

এ দিনই পার্কস্ট্রিটের এক হোটেলের, অন্য এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত দাবি করেন, কলকাতা ও রাজ্যের অতীতের গৌরব ফেরাতে হলে সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার সব রকম ভাবে সহযোগিতা করবে।

শিক্ষামহলের দাবি, ইতিমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এমনকি সে কারণেই কলকাতার কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে ভর্তি কমছে বলেও দাবি করেছেন কোনও কোনও শিক্ষক। তাঁদের দাবি, পরিকাঠামোর অভাবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পিছিয়ে পড়ছে। সেখানে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস চালু করলে সেই প্রতিযোগিতা যে আরও বৃদ্ধি পাবে এটাই বাস্তব।

শুক্রবার সুকান্ত মজুমদার সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করে উৎকর্ষ প্রতিযোগিতার কথা বলায় শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ইনস্টিটিউট অফ এক্সেলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে ১২০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তারই মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কার্যত যাদবপুরকে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে শিক্ষামহলে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সংগঠন জুটার সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘‘ আমরাও প্রতিযোগিতা করতে প্রস্তুত। তার জন্য পরিকাঠামো ও গবেষণার যে উন্নতির প্রয়োজন তার জন্য সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন। যে টাকা দেওয়া হবে বলা হয়েছে সেটা এখনও হাতে পাওয়া যায়নি। সেই অর্থ সাহায্য পেলে যাদবপুর তার নিজের উৎকর্ষকে ধরে রাখতে পারবে। ’’

University of Jadavpur

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy