Advertisement
E-Paper

অনাবিষ্কৃত অগাধ সম্পদ! নীল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবিজ্ঞান, কোন পথে উচ্চ শিক্ষা? কাজ কোথায়?

উচ্চ শিক্ষায় সমুদ্রবিজ্ঞান কারা বেছে নিতে পারবেন, কোন পথে এগোবে পেশাগত জীবন? রইল সুলুক সন্ধান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৮:৫৯

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

পৃথিবীর তিনভাগ জল, এক ভাগ স্থল— শৈশবের ভূগোল বোধ তৈরি হয় এই তথ্যেই। প্রায় ৭১ শতাংশ জুড়ে থাকা বিশাল জলরাশিই পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশে অক্সিজেন জোগান দেয়। তা ছাড়া, সমুদ্র-মহাসমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে রয়েছে বিপুল সম্পদ। এখনও ৮০ শতাংশের রহস্য ভেদ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আধুনিক বিশ্বের অর্থনীতি এখন নজর রাখতে চাইছে এই সমুদ্রের দিকেই।

ভবিষ্যতে ব্লু-ইকোনমি অর্থাৎ সমুদ্র নির্ভর অর্থনীতির রূপরেখা তৈরি হতে পারে, এমনটাই আশা করছেন বিশেষজ্ঞেরা। তাই এই বিশেষ ক্ষেত্র নিয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারলে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকছে প্রচুর।

সমুদ্রবিজ্ঞান হল সমুদ্রের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জলে থাকা রাসায়নিক উপাদানের বিন্যাস এবং তলদেশের ভূতত্ত্ব নিয়ে চর্চার বিষয়। আর্থ সায়েন্সেস শাখার অধীনস্থ এই বিষয়টি নিয়ে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। ধাপে ধাপে সেই পর্যায় নিয়ে আলোচনা করা হবে। প্রথমে জেনে নেওয়া যাক বেশ কিছু বিষয়।

কী কী পড়ানো হয়?

সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়টিতে বায়োলজিক্যাল ওশনোগ্রাফি (সামুদ্রিক জীবজগৎ নিয়ে চর্চা), কেমিক্যাল ওশনোগ্রাফি (সমুদ্রের রাসায়নিক উপাদান সংক্রান্ত পড়াশোনা), জিয়োলজিক্যাল ওশনোগ্রাফি (তলদেশের ভূতত্ত্ব) এবং ফিজ়িক্যাল ওশনোগ্রাফি (সমুদ্রস্রোত, জোয়ার ভাটা, তাপমাত্রা সংক্রান্ত বিষয়) নিয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ রয়েছে। পড়ুয়ারা শুরুতে ওই সব বিষয়গুলিতে প্রাথমিক ধারণা স্পষ্ট করতে পারবেন। পরে স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি-র সময় যে কোনও একটি বিষয় বেছে নিতে পারবেন।

কারা পড়তে পারবেন এই বিষয়টি?

সমুদ্র নিয়ে আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন। বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা স্পষ্ট না থাকলে পরবর্তী পর্যায়ে আগ্রহ হারাতে পারেন পড়ুয়ারা। দ্বাদশের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন, এমন পড়ুয়ারা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে গণিত, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ-এর মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা মেলে।

কী কী কোর্সের সুযোগ?

ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (বিএসসি) কোর্সের মাধ্যমে পড়ুয়ারা কোচি ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রহ্মপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমুদ্রবিজ্ঞানে স্নাতক স্তরে ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। স্নাতকে ভর্তি হওয়ার জন্য কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট ফর আন্ডার গ্র্যাজুয়েট (কুয়েট ইউজি) স্কোর যাচাই করে নেওয়া হয়।

স্নাতকোত্তর স্তরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি), ভুবনেশ্বর, হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোচি ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-তে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি প্রদান করা হয়ে থাকে।

এ রাজ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে এমফিল এবং ইন্টারডিসিপ্লিনারি কিংবা মাল্টিডিসিপ্লিনারি কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধীনে ওশনোগ্রাফি নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন।

পিএইচডি-র জন্য পড়ুয়ারা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশনোগ্রাফি, ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশন রিসার্চ, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশন ইনফরমেশন সার্ভিসেস-এর মতো প্রতিষ্ঠানও বেছে নিতে পারেন।

বিশেষ দক্ষতা

সমুদ্রের তলদেশ নিয়ে গবেষণামূলক কাজ কিংবা স্রোতের তাপমাত্রার তারতম্যে নজরদারির জন্য বিভিন্ন ধরনের গণনাপদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নতমানের সফট্‌অয়্যার ব্যবহার করতে হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট হতে থাকে। তাই শুধু পুঁথিগত বিদ্যার্জনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন গণনা করতে পারার দক্ষতা।

এ ছাড়াও তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে তা বিশ্লেষণ করার জন্য বিশেষ যন্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ-ও ব্যবহার করতে হয়। তাই কৃত্রিম মেধা, মেশিন লার্নিং, কোডিং সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে নিয়মিত চর্চায় থাকা প্রয়োজন।

কাজের সুযোগ

এ বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা থাকলে কাজের সুযোগ মিলতে পারে সহজেই। এ জন্য বিজ্ঞানী পদেই চাকরি করতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বিভিন্ন সংস্থা এবং সরকারি বিভাগে বিজ্ঞানী ছাড়াও ওশনোগ্রাফার, পলিসি এক্সপার্ট, কোস্টাল ইঞ্জিনিয়ার, সার্ভেয়র, ওয়েদার রাউটিং অ্যানালিস্ট-এর মতো পদেও কাজের সুযোগ মেলে।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (ইসরো), আর্থ সায়েন্সেস মন্ত্রক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশনোগ্রাফি, ফিশারি সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র মতো কেন্দ্রে নিয়মিত ভাবে বিষয় বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন শিপিং সংস্থা, তৈল উত্তোলনকারী কেন্দ্র এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রের তলদেশে সমীক্ষা, ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো কাজের জন্যও সমুদ্রবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তির ভিত্তিতে গবেষণা প্রকল্পের কাজেও সমুদ্রবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষিতেরা চাকরির সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে যাঁরা স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে।

Career after 12th scientist jobs career prospects
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy