E-Paper

স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অস্ত্র পকসো, উদ্বেগ শীর্ষ কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ দশটিরও বেশি অপরাধের অভিযোগ নিয়ে করা মামলা খারিজ করে দিয়ে ব্যাখা হাজির করেছেন।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৯:০৮

—প্রতীকী চিত্র।

বৈবাহিক সম্পর্কের তিক্ততার মধ্যে অনেক স্ত্রী তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে ‘প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস’ বা পকসো আইনে মিথ্যে মামলা করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের মতে, এক শ্রেণির মহিলা তাঁদের নিজেদের স্বামীকেই কোণঠাসা করতে পকসো-র মিথ্যে মামলায় বাবার বিরুদ্ধে নাবালিকা কন্যা সন্তানকে টেনে আনছে। পকসো আইনের এমন অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতিরা আরও জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধ কিংবা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংঘাত, ব্যবসায়িক শত্রুতার ক্ষেত্রেও শিশু সুরক্ষার এই কঠোর আইনকে এখন অস্ত্র করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ দশটিরও বেশি অপরাধের অভিযোগ নিয়ে করা মামলা খারিজ করে দিয়ে এই ব্যাখা হাজির করেছেন। মামলায় পকসো আইনে অভিযোগ করা হয় এবং এক জন স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ধর্ষণের অভিযোগও আনা হয়েছিল। ওই মামলাটিতে স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ১৪ বছর বয়সি কন্যাকে স্বামী ও দেওর ধর্ষণ করেছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও কিশোরীটিকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেছে। তবে এমন গুরুতর অভিযোগ এনে করা মামলাটি শেষপর্যন্ত খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা বলেছেন, বৈবাহিক সম্পর্কে তিক্ততা চলে এলেই চাপ সৃষ্টি করতে গুরুতর অপরাধ জড়িত— এমন সব আইনের ব্যবহার বে়ড়ে যায়। তখন পণের জন্য হেনস্থার অভিযোগ, ৪৯৮-এ অনুযায়ী নিষ্ঠুরতার অভিযোগ কিংবা পারিবারিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়। বর্তমানে বৈবাহিক সম্পর্কের সংঘাতে পকসো আইনের অপব্যবহারের চেষ্টা হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের সংঘাতে এক শ্রেণির মহিলার তরফে পকসো আইনের অপব্যবহারকে ‘কুশ্রী প্রবণতা’ আখ্যা দিয়েছেনবিচারপতিরা। একটি নাবালিকা কন্যার নিজের বাবার বিরুদ্ধেই এমন ঘৃণিত অভিযোগ এনে মিথ্যে মামলা সাজানোকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন।

তবে শীর্ষ আদালতের মতে, পকসোয় তথ্যপ্রমাণ –সহ সত্যিকারের অভিযোগ নিয়ে করা মামলাগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দোষী যাতে সাজা পায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, বৈবাহিক সম্পর্ককে ঘিরে সংঘাত যখন আগে থেকেই তীব্র, সেই পরিস্থিতিতে ধর্ষণের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতগুলিকে সতর্ক থাকতে হবে। কেন না, তখন ধর্ষণের অভিযোগকে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা থেকে যায়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Supreme Court of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy