কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেস মুখ বদল করার পরে এ বার বিজেপিও রাজ্য নেতৃত্বে বদল আনতে পারে। নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা ও বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের সময় তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বলে সূত্রের খবর। ২০২৮-এর কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কংগ্রেস সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে ডি কে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে। তার মোকাবিলায় বিজেপি কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বিধানসভা নির্বাচনে দলের মুখ হিসেবে মাঠে নামাতে পারে।
হিংসাবিধ্বস্ত মণিপুরের ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে রাজ্যের মানুষের আস্থা কুড়োতে উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যের কোনও সাংসদকেও এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। মণিপুর রাজপরিবারের সদস্য লেইশেম্বা সানাজাওবা এখন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ। আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে তাঁকে ফের রাজ্যসভায় জিতিয়ে এনে মন্ত্রী করা হবে, না কি মন্ত্রিসভার জন্য অন্য কাউকে মণিপুর থেকে জিতিয়ে আনা হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের খবর, বিজেপির নতুন জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ইতিমধ্যেই দিল্লি, পঞ্জাব-সহ চার রাজ্যে নতুন সভাপতি নিয়োগ করে সাংগঠনিক রদবদলের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। সোমবার তিনি দলের সব রাজ্য সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে যোগ দিতে দিল্লি আসছেন বাংলার শমীক ভট্টাচার্যও। এর পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হবে। জুনের শেষে মন্ত্রিসভার রদবদল হতে পারে। রেল, অর্থ, কয়লা, বস্ত্র, কর্পোরেট, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, গ্রামোন্নয়ন, সার ও রসায়ন, জল শক্তি, পরিবেশ, আইনের মতো বেশ কিছু মন্ত্রকে পূর্ণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। যে সব মন্ত্রীর হাতে একাধিক মন্ত্রক রয়েছে, তাঁদের দায়িত্ব কমিয়ে নতুন কাউকে আনা হতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে এ বার দলীয় সংগঠনে দায়িত্ব দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মলহোত্রকে দিল্লির বিজেপি সভাপতি করা হয়েছে। তার আগে অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরিকে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি করা হয়েছিল। ফলে মন্ত্রিসভার রদবদলের সময়ে তাঁদের মন্ত্রিত্ব যেতে পারে। কর্নাটকের এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাজ্যে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কর্নাটকের বিজেপি সভাপতি এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পার ছেলে বি ওয়াই বিজয়েন্দ্র। কিন্তু গত তিন বছরে তাঁর আমলে দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে। কর্নাটক থেকে বিজেপির চার জন সাংসদ এখন কেন্দ্রে মন্ত্রী রয়েছেন। প্রহ্লাদ জোশী পূর্ণমন্ত্রী। শোভা করন্দলাজে এবং ভি সোমানা প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আদতে তামিলনাড়ুর নেত্রী হলেও তাঁকে কর্নাটক থেকে রাজ্যসভায় জিতিয়ে আনা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, এখন হিন্দু ক্যালেন্ডারে ‘অধিক মাস’ চলছে। ইংরেজি সৌর ক্যালেন্ডারের সঙ্গে হিন্দু চান্দ্র ক্যালেন্ডারের ভারসাম্য রাখতে তিন বছর অন্তর হিন্দু ক্যালেন্ডারে একটি অতিরিক্ত মাস যোগ হয়। একেই ‘অধিক মাস’ বলে। এই সময়ে কোনও শুভকাজ হয় না। ১৫ জুন অধিক মাস শেষ হচ্ছে। ১৮ জুন ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসনে রাজ্যসভার নির্বাচন রয়েছে। তার পরেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)