Advertisement
E-Paper

ভবিষ্যতের ক্যাম্পাস তৈরি হচ্ছে এখনই! ১৬৬৮ কোটি টাকা দিয়ে কী বানাচ্ছে দিল্লির এক বিশ্ববিদ্যালয়?

দিল্লির ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিমধ্যই একাধিক ক্যাম্পাস রয়েছে। তবে নতুন ক্যাম্পাসটি তৈরি হচ্ছে ধীরপুরে। যা আদতে উত্তর দিল্লি জেলার অন্তর্গত একটি গ্রামীণ অঞ্চল। সেখানেই বিস্তৃত এলাকা জুড়ে তৈরি হবে ক্যাম্পাস।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৭
কী কী থাকছে ‘ফিউচারিস্টিক’ বিশ্ববিদ্যালয়ে?

কী কী থাকছে ‘ফিউচারিস্টিক’ বিশ্ববিদ্যালয়ে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস তৈরি হচ্ছে ১৬৬৮ কোটি টাকা দিয়ে। খাস দিল্লির সরকারের তহবিল থেকেই বরাদ্দ হয়েছে সেই অর্থ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, এক ‘ফিউচারিস্টিক’ অর্থাৎ ভবিষ্যৎদর্শী এবং ‘অত্যাধুনিক’ ক্যাম্পাস তৈরির কাজে ব্রতী হয়েছে তারা। কিন্তু কী এমন থাকতে চলেছে সেই ক্যাম্পাসে?

দিল্লির ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ডক্টর বিআর অম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনু সিংহ লেথার জানিয়েছেন, নতুন ওই ক্যাম্পাস তৈরির পরিকল্পনা তাঁরা করেছিলেন দীর্ঘ দিন ধরেই। কিন্তু সে কাজ স্থান এবং পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে এগোয়নি। নতুন জায়গা এবং রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়ায় পুরোদমে শুরু হবে কাজ।

রাজ্যস্তরের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিমধ্যই একাধিক ক্যাম্পাস রয়েছে। তবে নতুন ক্যাম্পাসটি তৈরি হচ্ছে ধীরপুরে। যা আদতে উত্তর দিল্লি জেলার অন্তর্গত একটি গ্রামীণ অঞ্চল। সেখানেই বিস্তৃত এলাকা জুড়ে তৈরি হবে ক্যাম্পাস।

কেন এত খরচ?

প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন উপাচার্যই। তিনি জানিয়েছেন নতুন ওই ক্যাম্পাসের মূল মন্ত্র হল— ছাত্র কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা। অর্থাৎ শিক্ষক ক্লাসে এলেন আর বক্তৃতা করে বেরিয়ে গেলেন, এমন হবে না। জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে পড়াশোনার পরিবেশটিই বদলে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে প্রকৃতির সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধনও ঘটাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। যাতে দু’তরফেই লাভ হয়। লেথার বলেছেন, ‘‘আগে এই ক্যাম্পাস তৈরি করার জন্য ১১৯৯ কোটি টাকার একটি ব্যয়বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে সবকিছু দেখে শুনে সম্ভাবনা বিচার করে সম্ভাব্য খরচের মাত্রা অনেকটাই বেড়েছে।’’

কী কী সুবিধা থাকছে?

১। নেট জ়িরো ক্যাম্পাস: এমন ভাবে ক্যাম্পাস তৈরি করা হবে, যা পরিবেশের কোনও ক্ষতি করবে না। কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

২। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মৌলিক ব্যবস্থা: ক্যাম্পাসে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক শক্তি আসবে সৌর বিদ্যুৎ থেকে। এ ছাড়া অন্যান্য ‘রিনিউয়েবল এনার্জি’ বা বিকল্প শক্তি থেকেও নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে।

৩। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ক্যাম্পাসে ব্যবহৃত জল এবং আবর্জনা বাইরে ফেলা হবে না। ক্যাম্পাসের ভিতরেই প্রযুক্তির সাহায্যে তা পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হবে।

৪। স্মার্ট ক্লাসরুম: কৃত্রিম মেধার সাহায্য নিয়ে শেখার এবং শেখানোর প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যেই আইআইটি খড়্গপুর এবং নেতাজি সুভাষ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ়ের সাহায্য নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

৫। ওপেন ডিসকাশন জ়োন: চার দেওয়ালে বন্দি ক্লাসরুম নয়। প্রকৃতির মাঝে, খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং বিতর্কে যোগ দেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে থাকবে ওপেন ডিসকাশন জ়োন বা আলোচনার মুক্তাঙ্গন।

৬। কো লার্নিং এবং কোলাবরেটিভ স্পেস: ক্যাম্পাসে এমন কিছু কিছু জায়গাও থাকবে যেখানে বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা ‘গ্রুপ স্টাডি’ বা একত্রে কোনও একটি বিষয়ে শিখতে পারবে। প্রজেক্টের কাজ করতে পারবে। পরষ্পরকে নতুন কিছু উদ্ভাবনে সাহায্য করতে পারবে।

৭। ইন্টারনেট অব থিংস: ক্যাম্পাসের সব আলো-পাখা-এসি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলবে সেন্সরের মাধ্যমে। অর্থাৎ ঘরে কেউ না থাকলে আলো-পাখা নিজে থেকেই নিভে যাবে। তাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও হবে।

৮। ডেটা নেটওয়ার্ক: পুরো ক্যাম্পাসে থাকবে দ্রুতগতিসম্পন্ন ওয়াইফাই সংযোগ। যাতে হঠাৎ কিছু মাথায় এলে বা কিছু জানতে ইচ্ছে করলে সেই ভাবনার প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা না আসে।

Dr. B. R. Ambedkar University Delhi Futuristic Education NEP National Education Policy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy