বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে। অন্তত তেমনই বলছে পরিসংখ্যান। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য, প্রযুক্তির যুগে এখনও বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি সুযোগসুবিধা পেয়ে থাকেন সদ্য শেষ দশম শ্রেণির পরীক্ষা। একাদশে যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়বে ভাবছে, তারা আগামী দিনে কোন পথ বেছে নেবে, তার হিসাব কষে রাখতে হবে এখনই। দ্বাদশের পরীক্ষার পর কোন কোন ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিলতে পারে, তারই সুলুকসন্ধন রইল।
১। ইঞ্জিনিয়ারিং
উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান পড়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা ভাবেন অনেকেই। কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিক্স, মেকানিক্যাল, সিভিল, ইলেকট্রিক্যালের মতো বিষয় পড়ুয়াদের কাছে অগ্রাধিকার পায়। তবে এখন যুগোপযোগী নানা বিষয় যেমন— এআই, এমএল, রোবোটিক্স, ডেটা সায়েন্স, এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার প্রবণতা বাড়ছে পড়ুয়াদের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে বাকি বিষয়ের মতোই বিই বা বিটেক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ থাকে।
প্রবেশিকা:
এনআইটি বা আইআইআইটি থেকে বিই বা বিটেক ডিগ্রি অর্জনের জন্য দিতে হয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স মেন পরীক্ষা। আবার আইআইটি থেকে স্নাতক হওয়ার জন্য প্রয়োজন জয়েন্ট এন্ট্রান্স অ্যাডভান্সড-এ উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্জ়ামিনেশন পরীক্ষার মতো বিভিন্ন রাজ্য বা প্রতিষ্ঠানের তরফে আয়োজিত পরীক্ষার মাধ্যমেও ভর্তি হওয়া যায় স্নাতকে।
২। ফার্মাসি এবং আর্কিটেকচার
সাধারণত ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য করা এই দু’টি বিষয়কে। এ ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা বিফার্ম এবং বিআর্ক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান।
প্রবেশিকা:
বিফার্ম কোর্সের ক্ষেত্রে ডব্লিউবিজেইই-র মতো রাজ্যভিত্তিক প্রবেশিকার মাধ্যমে ভর্তি হওয়া যায় অথবা দিতে হয় কুয়েট ইউজি। অন্য দিকে, বিআর্ক পড়ার জন্য জেইই মেন-এর দ্বিতীয় পত্র বা ন্যাশনাল অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট ইন আর্কিটেকচার (নেটা) দিতে হয়।
আরও পড়ুন:
৩। মেডিক্যাল, নার্সিং, ভেটারিনারি সায়েন্স এবং অ্যালায়েড হেল্থ
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি মেডিক্যালের নানা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছে থাকে বহু পড়ুয়ার। তবে এখন প্রথাগত বিষয় ছাড়াও অ্যালায়েড হেল্থ-এ আয়ুর্বেদ, হোমিয়োপ্যাথি ফিজ়িয়োথেরাপি, মেডিক্যাল ল্যাব টেকনোলজি পড়ারও চাহিদা তৈরি হচ্ছে। নার্সিং কোর্সের চাহিদাও কোভিড অতিমারির পর ঊর্ধ্বমুখী। একই চিত্র পশুচিকিৎসা বিজ্ঞান পড়ার ক্ষেত্রেও।
প্রবেশিকা:
মেডিক্যালের নানা বিষয় এবং আয়ুর্বেদ, হোমিয়োপ্যাথি, ফিজ়িয়োথেরাপির মতো বিষয়ে স্নাতকের জন্যও প্রয়োজন নিট ইউজি। নার্সিং এবং পশুচিকিৎসাবিজ্ঞান-এর কোর্সের ক্ষেত্রে নিট, প্রতিষ্ঠান আয়োজিত প্রবেশিকা বা রাজ্যের তরফে আয়োজিত প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হতে হয়। তবে মেডিক্যাল ল্যাব টেকনোলজি-র জন্য প্রতিষ্ঠান বা রাজ্য স্তরে আয়োজিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
৪। ডিজ়াইন
বিভিন্ন প্রোডাক্ট ডিজ়াইন থেকে শুরু করে ফ্যাশন ডিজ়াইন, ইউএক্স বা ইউআই ডিজ়াইন-এর কোর্সও করতে পারেন বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়ারা।
প্রবেশিকা:
বিডিএস কোর্সের জন্য আগ্রহীদের ইউসিড, এনআইডি ডিএটি, এনআইএফটিইই দিতে হয়।
এ ছাড়াও পড়ুয়ারা কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন বা আইন-এর মতো নানা বিষয় পড়তে পারেন। বিজ্ঞানের নানা বিষয় উচ্চশিক্ষা বা গবেষণাও করতে পারেন। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা বিভাগে পড়াশোনার জন্য দিতে পারেন এনডিএ পরীক্ষা। মার্চেন্ট নেভি বা কমার্শিয়াল পাইলট হিসাবে কেরিয়ার গড়ার জন্যও দিতে পারেন উচ্চশিক্ষার পৃথক প্রবেশিকা।