Advertisement
E-Paper

প্রথম দফা ভোটের আগেও আসেনি নবান্নের সবুজ সঙ্কেত! মহার্ঘ ভাতা নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষকদের একাংশের

শিক্ষকদের একাংশের মত, চলতি সপ্তাহে অর্থ দফতর থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গেলেও মহার্ঘ ভাতার কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব। এই টালবাহানা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩৯

— প্রতীকী চিত্র।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্তও নবান্নে নড়েনি মহার্ঘ ভাতার ফাইল! বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, অর্থ দফতরের তরফে কোনও নির্দেশিকা পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষকেরা একপ্রকার নিশ্চিত, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা নির্বাচনের আগে কোনও ভাবেই মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি। গত কয়েক মাসে এ নিয়ে টালবাহানা চলছেই। সংশয় তৈরি হওয়ায় গত ১৩ মার্চ ধর্মঘটে সামিল হন শিক্ষকদের একাংশ। তার পরই বিকাশ ভবন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ দফতর জানিয়েছিল কোন পদ্ধতিতে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে, তা স্থির করবে সংশ্লিষ্ট দফতর। গত ১ এপ্রিল নবান্নে একটি বৈঠক হয়। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, গত ১০ এপ্রিল ফের রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতরে মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়। কী পদ্ধতিতে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে (এসওপি), তা ১৩ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে বলা হয়। নির্দেশিকা মেনে সে রিপোর্ট পাঠিয়েছে স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতর। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নবান্ন থেকে কোনও সবুজ সঙ্কেত আসেনি বলেই জানান এক কর্তা।

Advertisement

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে নবান্নের তরফে সুপ্রিম কোর্টে ৬২ পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ পেশ করা হয়। জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রায় ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার কর্মচারীকে ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ ৪ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর পরই ওঠে বৈষম্যের অভিযোগ। অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই তুলেছিলেন, ‘রাজ্য সরকার ৬২ পাতার যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তার মধ্যে সুকৌশলে ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর কথা বাদ দিয়েছে।

তা হলে আদৌ ২৯ এপ্রিলের আগে অর্থাৎ দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে আর মহার্ঘ ভাতা মিলবে না? বিকাশ ভবনের এক কর্তার কথায়, “প্রশাসনে কাছে অসম্ভব বলে কিছুই হয় না। অর্থ দফতর থেকে কোনও বার্তা এলে তখন যা করার, তা করা হবে।”

তবে শিক্ষকদের একাংশের মত, চলতি সপ্তাহে অর্থ দফতর থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গেলেও মহার্ঘ ভাতার কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব। এই টালবাহানা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘এ সব চাপান উতর করে ভোটের বৈতরণী পার করার চেষ্টা চলছে। হাতে গোনা কিছু সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দিয়ে সরকার দেখাতে চাইছে যে তারা কথা রেখেছে। কিন্তু আদতে বাদ পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী-সহ ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর কর্মচারীরা।’’

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সরকারের ইচ্ছাকৃত টালবাহানার জন্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হল। প্রথম থেকেই সরকারের সদিচ্ছার অভাব ছিল। তবে এর প্রভাব যে নির্বাচনের উপরে পড়বে সরকার সেটা ভাল ভাবেই বুঝতে পারবে।’’

DA Nabanna Bikash Bhavan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy