Advertisement
E-Paper

গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে গিয়েছিলেন সিএবির বার্ষিক সভায়

জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, প্রভাব খাটিয়ে সিএবির বার্ষিক সভায় গিয়েছিলেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ২৩:১৪
cricket

ইডেন গার্ডেন্স। —ফাইল চিত্র।

আরও বিপাকে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে ক্রীড়াক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বাংলার ক্রিকেট সংস্থা বা সিএবির বার্ষিক সভায় গিয়েছিলেন তিনি।

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের পাশাপাশি আরও একটি পরিচয় রয়েছে সুজয়ের। তিনি সিএবির ডিস্ট্রিক্ট কোচিং সাব কমিটির চেয়ারম্যান। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করেছেন সঞ্জিত তরই। তিনি মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব। সঞ্জিতের অভিযোগ, গত বছর সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে প্রভাব খাটিয়েছিলেন সুজয়।

সঞ্জিতের অভিযোগ, মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল তাঁর। তিনি বলেন, “গত বছর সিএবির বার্ষিক সভায় ঠিক হয়েছিল, মেদিনীপুর জেলা থেকে আমি প্রতিনিধিত্ব করব। সেই মতো ফর্মও জমা দিতে গিয়েছিলাম। সেই সময় সিএবির অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিশ্বপতি সেন আমার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম দেখে বলেন, ফর্মে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। এই ফর্ম গ্রহণ করা যাবে না।”

সঞ্জিত জানিয়েছেন, এই কথা শুনে তিনি জেলায় ফিরে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানান যে, ফর্মে কিছু সমস্যা রয়েছে। সঞ্জিত বলেন, “তখন হঠাৎ সুজয় এসে বলে, ‘আমাকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বার্ষিক সভায় যেতে।’ এই নিয়ে আবার বৈঠক হয়। সেখানে প্রভাব খাটিয়ে সুজয় নিজের নাম পাশ করিয়ে নেয়। মাথা নিচু করে বাধ্য হয়ে আমিও ওর নামে সই করি।”

রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ খুলেছেন সঞ্জিত। প্রশ্ন উঠছে সিএবির অন্দরেও। বিশ্বপতি একজন অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট হয়ে কী ভাবে স্ক্রুটিনি করলেন? এটা কি করা যায়? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সিএবির বিভিন্ন মহলে।

কয়েক দিন আগে বালি মাফিয়াদের যোগসাজশের অভিযোগে কেশিয়াড়ির তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শিটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, সেই সময় কল্পনা জানিয়েছেন সুজয়-সহ জেলার বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের বাদ রেখে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল। কাকতালীয় ভাবে সুজয়কে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সন্ধ্যায় তাঁর গ্রেফতারির খবর মেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। শুক্রবার শালবনি থানায় একটি জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য শালবনি থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল অভিযুক্তকে। তদন্ত চলছে। এখনই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’’

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। গত বুধবার তৃণমূল থেকে জেলা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিতে হেরেছে তৃণমূল। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন সুজয়ও। প্রায় ৩৮ হাজার ভোটে পরাস্ত হন তিনি।

CAB bengal cricket
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy