সংসারের প্রয়োজনে কাজে যোগ দিতে হয়েছিল দশম শ্রেণির পরই। তবে যেমন-তেমন কাজ নয়, রাজস্থানের দশরথ সিংহ যোগ দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে। সেটা ১৯৮৮ সাল। সীমান্ত রক্ষার কাজে মন দিলেও ছাড়তে পারেননি পড়াশোনার প্রতি টান। ৩৮ বছর পর তাঁর ঝুলিতে ১৩৮টি ডিগ্রি।
কোনও মূল্যেই যে শিক্ষা বিসর্জন দেওয়া যায় না, দশরথ যেন তার দৃষ্টান্ত। দেশ রক্ষার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। কিন্তু তারই ফাঁকে ফাঁকে চেষ্টা করে গিয়েছেন পড়াশোনার বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যেতে। দু’মাসের ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরলে কোথায় কী পড়াশোনা করে ফেলা যায়, তা নিয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন দশরথ।
সম্প্রতি ৫৫ বছরের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী যোগ দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাবর্তনে। ওই বৈদিক স্টাডিজ়-এ স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি। তারই শংসাপত্র গ্রহণ করেন। তবে এই প্রথম নয়। ২০২৬ পর্যন্ত দূর ও মুক্তশিক্ষা মাধ্যমে দশরথ অর্জন করেছেন প্রায় ১৩৮টি ডিগ্রি। এর মধ্যে রয়েছে, ৪৭টি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ২৩টি ডিপ্লোমা, ৭টি স্নাতক এবং ৩টি পিএইচডি। এ ছাড়াও ৫২টি সার্টিফিকেট কোর্স করেছেন তিনি। ঝুলিতে রয়েছে সামরিক বিষয় সংক্রান্ত ৭টি বিশেষ শংসাপত্র।
রাজস্থানের নওয়ালগড়ের ক্ষিরোদ গ্রামের সন্তান দশরথ প্রথমে পঞ্জাব এবং পরে জম্মু ও কাশ্মীরে নন-কমিশনড অফিসার পদে কাজ করেন ১৬ বছর। ২০০৪-এ অবসর নেন। এর পরই ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নানা বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। প্রথমে বাণিজ্য, পরে আইনের নানা ডিগ্রি লাভ করেন।
এর পর একে একে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন, এডুকেশন-এর মতো বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। শুধু পড়াশোনা করেই তিনি তৈরি করে ফেলেছেন ১১টি বিশ্বরেকর্ড। যার মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস, গোল্ডেন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস, এশিয়া বুক অফ রেকর্ডস এবং ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডস-এর মতো নাম।
আইন নিয়ে পড়াশোনা করে দশরথ এখন সেনাকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার কাজ করেন। জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনীর সপ্তশক্তি কমান্ড-এর অধীনে আইনি পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেন তিনি। দশরথ বলেন, “আমার পরিবারে কেউ কোনও দিন পড়াশোনা করেনি। আমিও গ্রামের একটি ছোট্ট স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলাম। কলেজে যাওয়াটা আমাদের কাছে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নই আমি বাস্তব করেছি।”