Advertisement
E-Paper

গ্যাসের আকাল, হিন্দু হস্টেলে বন্ধ রান্না! জেলায় জেলায় মিড-ডে মিল পরিস্থিতি কোন দিকে?

ইডেন হিন্দু হস্টেলে প্রায় ১৩০জন আবাসিক রয়েছেন। প্রতি মাসে ১৫-১৬টি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। আবাসিকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সিলিন্ডার না পেয়ে তাঁরা বাজারে খোঁজ করেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত মূল্য দিতে বলে জানানো হয় তাঁদের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৭:০৬
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

তিন দিন হাঁড়ি চড়েনি হিন্দু হস্টেলে। আবাসিক ছাত্রদের খাবার কিনে খেতে হচ্ছে বাইরে থেকে। আবার জেলার কিছু স্কুল বৃহস্পতিবার পেয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ‘বুঝে-শুনে’ গ্যাস খরচ করার কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ। তাই রান্না হয়েছে খিচুড়ি।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রেরা থাকেন এই ছাত্রাবাসে। মূলত কলকাতার বাইরে বিভিন্ন জেলা বা ভিন রাজ্য থেকে পড়তে এসে এখানেই থাকেন ছাত্রেরা। অভিযোগ, সোমবার রাতে শেষ হয়ে গিয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার। মঙ্গলবার থেকে আর গ্যাসের বুকিং করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রান্না করা যায়নি হস্টেলের রান্নাঘরে। ফলে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।

স্নাতকোত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মহম্মদ আশিক রহমান বলেন, “গত তিন রান্না হচ্ছে না। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার গ্যাস সিলিন্ডার আসার কথা কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তা এসে পৌঁছায়নি।” হিসাব বলছে, ইডেন হিন্দু হস্টেলে প্রায় ১৩০জন আবাসিক রয়েছেন। প্রতি মাসে ১৫-১৬টি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়।

আবাসিকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সিলিন্ডার না পেয়ে তাঁরা বাজারে খোঁজ করেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত মূল্য দিতে বলে জানানো হয় তাঁদের। এক ছাত্র বলেন, “অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।”

এ দিকে কলকাতায় বিভিন্ন স্কুলে কমিউনিটি কিচেন ক্যান্টিনগুলি থেকে বুধবার শুধুমাত্র ডিম সিদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। এ কথা জানতে পেরেই সরকারি তরফে পদক্ষেপ করা হয়। বৃহস্পতিবার প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছে, খিচুড়ি রান্না করে দেওয়া হয়েছে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের।

রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশ অনুযায়ী চলতি মাসে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত ডিম দেওয়ার কথা। কলকাতার স্কুলগুলিতে শুক্রবার সেই ডিম দেওয়ার কথা। সে জন্য গ্যাসের অপচয় না করে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

বিকাশ ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, জেলা স্তরে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশ মতো জেলাশাসকের দফতরে মিড-ডে মিল বিভাগ দফায় দফায় এ দিন বৈঠক করেছে বলে খবর। বিকাশ ভবনের এক কর্তা বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোনও স্কুলে মিড-ডে মিল বন্ধ রয়েছে বলে খবর নেই। তবে সমস্যা খানিকটা তো হচ্ছেই। সমাধানের চেষ্টাও করা হচ্ছে।” সব জেলাশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার। সর্বস্তরে যোগাযোগ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক চন্দন মাইতি বলেন, “বৃহস্পতিবার সিলিন্ডার পেয়েছি। তাই খানিকটা গ্যাসে, খানিকটা কাঠের জ্বালানিতে রান্না হয়েছে।” তাঁর দাবি, গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কম হলেও সিলিন্ডার পাওয়া যাবে। বড়জাগুলি গোপাল অ্যাকাডেমির ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজকুমার হাজরা জানান, তাঁরা গ্যাসের বুকিং করতে পেরেছেন। ফলে আগামীকাল সিলিন্ডার পাওয়া যাবে।

Domestic LPG presidency
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy