উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র থেকে শুরু করে চাকরির বাজারে প্রভাব ফেলেছে কৃত্রিম মেধা (এআই)। ইতিমধ্যেই এআই-এর সুবিধার জেরে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা। আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারের (আইএমএফ) সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা বিশ্বের ৪০ শতাংশ চাকরি কেড়ে নিতে পারে এআই প্রযুক্তি। তবে, ওই প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এই দেশে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা কোয়াকোয়ারেল্লি সাইমন্ডস (কিউএস) ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স অনুযায়ী, এ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এআই। ওই তালিকায় ‘এআই ইকোনমিক রেডিনেস’ বিভাগে ১৩ নম্বর স্থান অর্জন করেছে ভারত। উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে চাকরির বাজারে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি— এই সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে ভারত।
সূত্রের খবর, বর্তমানে এ দেশে মোট ৫৮ লক্ষ কর্মী তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত, যা সারা বিশ্বের নিরিখে সর্বাধিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ক্ষেত্রে কাজের বাজারে এগিয়ে থাকার জন্য কৃত্রিম মেধা নিয়ে পড়াশোনাই যথেষ্ট নয়। সঠিক কাজের জন্য যথাযথ দক্ষতা অর্জন করাও সমান ভাবে জরুরি।
আরও পড়ুন:
কিউএস সভাপতি নানসিও কোয়াকোয়ারেল্লি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্তরে কৃত্রিম মেধাকে আয়ত্তে এনে তার সাহায্যে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে ভারত। অন্যান্য দেশের তুলনায় এ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি ওই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কাজ করে চলেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের অর্থনীতিতেও।
রিপোর্ট অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করার পর থেকে কৃত্রিম মেধা নিয়ে চর্চার সুযোগ পেয়েছেন পড়ুয়ারা। কিউএস সভাপতির দাবি, এই সুযোগ পরবর্তী প্রজন্মের বিশেষজ্ঞ তৈরি করার পথ সুগম করে তুলছে। তাতে প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে শুরু জ্ঞান অর্জনই নয়, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পর কাজের ক্ষেত্রে আরও সুযোগ পাবেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, মোট ৮৯টি দেশের তথ্য নিয়ে এই বিশেষ ইনডেক্স রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। রিপোর্টের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ দেশের আর্থিক সঙ্গতি বৃদ্ধির নেপথ্য অন্যতম অনুঘটক হয়ে উঠেছ কৃত্রিম মেধা। পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ওই প্রযুক্তির সংযোজন ভবিষ্যতের কাজের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পড়ুয়াদের আরও দক্ষ করে তুলতে সাহায্য করবে। সংশ্লিষ্ট তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে আমেরিকা। এর পর অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, চিন-সহ ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাম রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, দক্ষতার সামঞ্জস্য (স্কিলস অ্যালাইনমেন্ট), শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যয়নের জন্য প্রস্তুতি (অ্যাকাডেমিক রেডিনেস), ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ (ফিউচার অফ ওয়ার্ক), অর্থনৈতিক পরিবর্তন (ইকোনমিক ট্রান্সফর্মেশন)— এই চারটি সূচকের উপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক তালিকায় প্রথম ১৫টি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ভারত।