ট্রাক পেরোনোর সময় বিপজ্জনক ভাবে ভেঙে পড়ল ডাম্পার। ট্রাকটি-সহ সেতু আছড়ে পড়ল শতদ্রু নদীতে। অল্পের জন্য রক্ষা পেল ঠিক পিছনের গাড়ি। রোমহর্ষক সেই ঘটনাটি ঘটেছে হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলায়। বেইলি সেতু ভেঙে পড়ার সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার। ৫ নম্বর জাতীয় সড়কের (পুরোনো হিন্দুস্তান-তিব্বত রোড) উপর রেকং পিও এবং তাপরির মধ্যবর্তী উরনি ধাঙ্ক এলাকায়। সেতুটি কিন্নর জেলার সঙ্গে লাহুল এবং স্পিতি জেলার সংযোগকারী সড়কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বেইলি সেতুই ভেঙে পড়েছে। সেতুটি ধসে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কর্তৃপক্ষকে বিকল্প পথে যানবাহন ঘুরিয়ে দিতে হয় বলে খবর। যখন সেতুটি ভেঙে পড়ে, সে সময় বালিবোঝাই ১০ চাকার একটি ডাম্পার সেই সেতু পার হচ্ছিল। অভিযোগ, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মাল ছিল সেই ডাম্পারে। ডাম্পারটি সেতুর অপর প্রান্তে পৌঁছোনোর ঠিক মুখে হঠাৎই ধসে পড়ে সেতুটি। ফলে ডাম্পার এবং বেলি সেতু— উভয়ই নীচে বয়ে চলা শতদ্রু নদীতে আছড়ে পড়ে। সেতুটি নদীতে তলিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের পেছনে থাকা একটি গাড়িকে সেতুর প্রবেশপথের কাছেই থেমে যেতে দেখা যায়। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
কর্তৃপক্ষের মতে, ট্রাকটিতে যে পরিমাণ মালপত্র ছিল তা সম্ভবত সেতুর নির্ধারিত ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)’-এর রামপুর বিভাগের এক্জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কেএল সুমন জানিয়েছেন, বেলি সেতুটির ভারবহন ক্ষমতা ছিল ২৮ টন। দুর্ঘটনার সময় পার হওয়া ডাম্পারটিতে সম্ভবত এর চেয়ে বেশি ওজনের মালপত্র ছিল। সংবাদমাধ্যমে সুমন বলেন, ‘‘তদন্ত শেষ হলেই সেতুটি ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।” সেতুটির নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, এসপি সুশীল শর্মা জানিয়েছেন, সেতুটি ধসে পড়ার খবর পেয়েই তাপরি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। ট্রাকচালককে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সামান্য আঘাত পেয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘র্যাপিড রিপোর্ট’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। লাইক এবং কমেন্টের বন্যাও বয়ে গিয়েছে। সেতু ধসে পড়ার ঘটনায় নেটাগরিকদের অনেকেই বিস্ময় ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এ ধরনের সেতু পার হওয়া সব সময়ই উদ্বেগের বিষয়। এই দৃশ্য দেখার পর, পরবর্তী যাত্রার সময় উদ্বেগ আরও বেড়ে যাবে।’’ অন্য এক জন মন্তব্য করেছেন, ‘‘গাড়ির চালক আক্ষরিক অর্থেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে গেছেন।’’