Advertisement
E-Paper

‘জাস্টিস’ চান চিহ্নিত ‘অযোগ্য’রা! ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে চিঠি এসএসসি ও রাজ্য সরকারকে

একাংশ এ বার রাজ্য সরকারের কাছ ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন। জানা গিয়েছে, একাদশ-দ্বাদশে শ্রেণিতে শিক্ষকতার কাজ করতেন এমন ২৮৫ জন ‘দাগি’ প্রার্থী উকিলের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের দাবি করে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষা দফতর ও এসএসসিকে। তাঁরা প্রত্যেকে ১০ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৭:০৬
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সকলকেই খোয়াতে হয়েছে সেই চাকরি। ভবিষ্যতে আর কোনও সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসতে পারবেন না তাঁরা। গত কয়েক বছরে যে বেতন পেয়েছিলেন তা-ও দিতে হবে ফেরত, সুদে আসলে। এ বার ২০১৬ এসএসসি-র বাতিল হওয়া প্যানেলে ‘দাগি’ চিহ্নিত প্রার্থীরা ক্ষতিপূরণের দাবি করলেন রাজ্য সরকারের কাছেই।

এর আগেই চিহ্নিত ‘দাগি’দের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। তা তুলে পেশ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। তাঁদেরই একাংশ এ বার রাজ্য সরকারের কাছ ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন। জানা গিয়েছে, একাদশ-দ্বাদশে শ্রেণিতে শিক্ষকতার কাজ করতেন এমন ২৮৫ জন ‘দাগি’ প্রার্থী উকিলের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের দাবি করে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষা দফতর ও এসএসসিকে। তাঁরা প্রত্যেকে ১০ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এসএসসি নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ মিলিয়ে ১৮০৬ জন ‘দাগি’-র নাম প্রকাশ করেছে।এর মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির ৯৯৭ জন এবং একাদশ-দ্বাদশে ৮০৯ জন ছিলেন। সূত্রের খবর, একাদশ-দ্বাদশের মতো, নবম-দশম শ্রেণিতে শিক্ষকতা করতেন এমন প্রায় ২৫০ প্রার্থীও একই পথে হাঁটতে চলেছেন। তাঁরাও শীঘ্রই ক্ষতিপূরণ চেয়ে চিঠি দেবেন রাজ্য সরকারের কাছে।

‘দাগি’ চিহ্নিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির চাকরিহারা শিক্ষক বিপ্লব বিবার বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার দাবি করেছি। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। সরকার দোষ করল, অথচ আমাদের ‘দাগি’ চিহ্নিত করে দেওয়া হল। এটা হতে পারে না। হয় আমাদের ন্যায়বিচার দিতে হবে। না হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেককে ১০ কোটি টাকা দিতে হবে।”

ইতিমধ্যেই আদালতে হলফনামা দিয়ে স্কুল শিক্ষা দফতর ও এসএসসি জানিয়েছে, ‘দাগি’ বা চিহ্নিত ‘অযোগ্য’দের থেকে সুদ সমেত বেতন ফেরত নেওয়া হবে। আদালতে দেওয়া ওই হলফনামায় শিক্ষাসচিব জানিয়েছেন, টাকা আদায় জেলাশাসকদের নির্দেশ দে‌ওয়া হয়েছে। টাকা আদায় হবে ‘বেঙ্গল পাবলিক ডিমা‌ন্ডস রিকভারি অ্যাক্ট ১৯১৩’ অনুযায়ী। এই আইনের মাধ্যমে বেতন ফেরতকে ধরা হবে সরকারি বকেয়া হিসেবে। অর্থাৎ যেমন ভাবে ভূমি রাজস্ব, সরকারি কর, জরিমানা আদায় করা হয়, সে ভাবে বেতন খাতে দেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়া হবে।

বেতন ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই, সরকারের উপর চাপ বাড়াতে ক্ষতিপূরণের দাবি করছেন চিহ্নিত ‘দাগি’রা। এ প্রসঙ্গে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “এটা একটা অবাক করা কাণ্ড যে যাদেরকে সুপ্রিম কোর্ট টাকা ফেরত দিতে বলেছে তারাই সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইছে। সরকার এখন‌ও টাকা ফেরত নেওয়ার কোন‌ও ব্যবস্থা তো করেনি উল্টে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে টালবাহানা করছে। আসলে টাকা যাতে ফেরত না দিতে হয় তাই পাল্টা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন ‘দাগি’রা।”

শিক্ষা দফতর এ বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিতে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

WBSSC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy