উচ্চ মাধ্যমিকের ইতিহাস পরীক্ষা আগামী বৃহস্পতিবার। হাতে সময় রয়েছে আর দু’দিন। এর মধ্যে প্রস্তুতিও প্রায় সারা। কিন্তু তবুও সেমেস্টার পদ্ধতিতে এই প্রথম পরীক্ষা, তাই উদ্বেগ রয়েছে পরীক্ষার্থীর মধ্যে।
তৃতীয় সেমেস্টার ওএমআর শিট-এ হলেও চূড়ান্ত তথা চতুর্থ সেমেস্টার ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে হবে। ইতিহাসের মতো বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর কেমন হলে মিলবে পূর্ণ নম্বর, অথবা কী কী পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে ভাল ফল করতে, তা বিস্তারে জানিয়েছেন যোধপুর পার্ক বয়েজ় হাই স্কুলের বিষয় শিক্ষক সুজিতকুমার সাহু।
সুজিত বলেছেন, “শেষ মুহূর্তে বিস্তারিত আলোচনার থেকে জরুরি ছোট ছোট বিষয়গুলি সম্পর্কে সতর্ক থাকা।” তিনি জানান, চতুর্থ সেমেস্টারে থাকবে মোট ৪০ নম্বর। প্রশ্ন থাকবে দু’ধরনের— সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক এবং বর্ণনামূলক। সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে রয়েছে আবার দু’টি ভাগ। উত্তরের প্রকারভেদের ভিত্তিতে একটিকে টাইপ-১ এবং অন্যটিকে টাইপ-২ বলে উল্লেখ করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। প্রতি ক্ষেত্রে প্রশ্নের মান হবে আলাদা।
আরও পড়ুন:
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের টাইপ ১-এ থাকবে ৩ নম্বর এবং টাইপ ২-তে থাকবে ৪ নম্বর। অন্য দিকে, বর্ণামূলক প্রশ্নে ৮ নম্বর বরাদ্দ করা হবে।
সুজিত জানিয়েছেন, বর্ণনামূলক প্রশ্নের জন্য বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা ভাল করে মনে রাখতে হবে। উত্তর লেখার সময় একটি ভূমিকা, ঘটনার বিশ্লেষণ এবং শেষে নিজের মতামত লিখতে হবে। মনে রাখতে হবে নির্দিষ্ট দিন ক্ষণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে হেতু অনেক পড়ুয়াই সমস্যার সম্মুখীন হন, তাই বাড়িতে বারবার অনুশীলন করার উপর জোর দিয়েছেন সুজিত। বলেছেন, “প্রয়োজনে ঘুম থেকে উঠে বা ঘুমতে যাওয়ার আগেই এক বার চোখ বুলিয়ে যেতে পারে। সে জন্য তৈরি করে নিতে হবে একটি তালিকা। বাড়িতে বাবা-মাও মুখে মুখে প্রশ্ন করে পরীক্ষার্থীদের সাল তারিখ মনে করিয়ে দিতে পারেন।”
পরীক্ষার উত্তর লেখার ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে বলে মনে করে সুজিত। তিনি বলেছেন, “প্রশ্নের উপর নির্ভর করে উত্তর লিখতে হবে। কোনও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে উত্থাপন করা বা মনগড়া গল্প লেখা যাবে না। যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই লিখে আসতে হবে।” এ ক্ষেত্রে বাড়িতে সময় ধরে অনুশীলন করলে পরীক্ষার সময় কম সমস্যা হবে বলে তাঁর মত।
তিনি আরও জানিয়েছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সহজ এবং চেনা প্রশ্নের উত্তর আগে করলে ভাল। উত্তর লেখার সময় খাতায় মার্জিন দিতে হবে। প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় দাগ নম্বর উল্লেখ না করলে চলবে না। পাশাপাশি, হাতের লেখাও হতে হবে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন।