‘স্মার্ট’ হচ্ছে সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলি। পড়াশোনার প্রথাগত ধীরে ধীরে ডিজিটাল হয়ে উঠছে। একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে ইংরেজি ও অঙ্কের পাঠ দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করতে চাইছে স্কুল শিক্ষা দফতর।
সূত্রের খবর, অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ইংরেজি ব্যাকরণের খুঁটিনাটি থেকে গণিতের জটিল সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চলছে। একটি লিঙ্কে ক্লিক করলেই স্কুলপাঠ্য বিষয় দৃশ্য-শ্রাব্য মাধ্যমে সরল ভাবে পড়ুয়াদের সামনে ফুটে উঠবে মোবাইলের বা কম্পিউটারের পর্দায়। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, ‘স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ (এস সি ই আর টি)-এর তরফ থেকে এই বিষয়টি প্রস্তুত করা হচ্ছে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য।
কী থাকবে ওই লিঙ্কে?
স্কুল শিক্ষা দফতরের বাংলার শিক্ষা পোর্টালে এই বিষয়ে একটি লিঙ্ক দেওয়া থাকবে। এসসিইআরটি-র এক কর্তা জানান, গণিতের নামতা, বিভিন্ন ভগ্নাংশের সমাধান, দূরত্ব, গতি ও সময়ের নানা সমস্যার সমাধান, মানসাঙ্ক ইংরেজি ব্যাকরণের উক্তি পরিবর্তন, বাচ্য পরিবর্তন-সহ সমস্ত বিষয়ে পড়ুয়ারা শিখতে পারবে।
আবার সেখানে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে। মূল্যায়ন করে নম্বর দিয়ে দেবে যন্ত্রই। কোনও উত্তর ভুল হলে সেটা সঠিক করে দেখিয়েও দেওয়া হবে। ফলে নিজেদের নিয়মিত যাচাই করবার সুযোগও থাকছে। মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে যে কেউ যখন খুশি নিজে থেকেই পড়াশোনা চালাতে পারে।
— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
স্কুল শিক্ষা দফতরের এক কর্তার বক্তব্য, ইতিমধ্যে ইংরেজি বিষয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। গণিতের কাজ চলছে। কর্তাদের দাবি, ফলে স্কুল শিক্ষকদের পড়ানোর পর বাড়ি ফিরে ওই লিঙ্ক থেকে পড়াশোনা করতে পারবে পড়ুয়ারা। গণিতের অনেক জটিল বিষয় সহজ করে সেখানে অ্যানিমেশনের সাহায্যে বোঝানো হয়েছে। পরিমিতি বা জ্যামিতির মতো বিষয়ও অ্যানিমেশনের সাহায্যে পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরার তাদের বুঝতে অনেক সুবিধা হবে বলেই মত ওই কর্তার।
অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে গৃহশিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই পড়ুয়ারা বাড়ির পড়াশোনা সেরে ফেলতে পারবে। বিষয়টি তাদের কাছে আনন্দের এবং আকর্ষণীয় হবে। তবে প্রাথমিক স্তরে অভিভাবকের সহায়তা লাগবেই।
আর সেখানেই প্রশ্ন উঠছে প্রাথমিক স্তরে এই প্রকল্প কতটা সফল হবে। প্রথমত, বহু পড়ুয়াই প্রথম প্রজন্মের। দ্বিতীয়ত, সারা রাজ্যে কি সব পড়ুয়া মোবাইল বা ট্যাবের ব্যবহার করতে পারে?
এ প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য বেশ আশাবাদী উত্তর দিয়েছেন ওই কর্তা। তাঁর দাবি, “বর্তমানে কমবেশি সকলের কাছেই এক-আধটা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের থাকে। তার ব্যবহারও সকলেই জানেন। ফলে প্রাথমিক পড়ুয়াদেরও খুব অসুবিধা হবে না। তবে সত্যিই যাদের সমস্যা হবে, তাদের যাতে স্কুল শিক্ষকেরা সহায়তা করেন, সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”