শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ পালন করার নির্দেশ দিয়েছে স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দফতর। সেই অনুযায়ী ২৩ জুন, শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিনে তাঁকে স্মরণ করা হল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।
মঙ্গলবার সকালে রেড রোডে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার বিটি রোড হাইস্কুলেও মঙ্গলবার শ্যামাপ্রসাদের প্রয়াণ দিবস পালন করা হয়। স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য জানান, প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসেই এ দিন শ্যামাপ্রসাদের জীবনের নানা ঘটনা পড়ুয়াদের শোনানো হয়। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ১৯৪৬ এর অস্থিরতা এবং তার আগে ও পরে শ্যামাপ্রসাদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। রাজনীতির বাইরে তাঁর যে সংস্কৃতি মনষ্কতা ছিল, তা-ও তুলে আনবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।” দমদমের নারায়ণ দাস বাঙ্গুর স্কুলেও পালিত হয় শ্যামাপ্রসাদের প্রয়াণ দিবস।
তবে, অনেক স্কুলই পক্ষ পালন করছে। আগামী ৬ জুলাই, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিকে রাজ্য সরকারি ছুটি ঘোষণা হয়েছে। তাই কোনও কোনও স্কুল ৫ জুলাই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কল্যাণীর পান্নালাল ইনস্টিটিউশনেও বৃহস্পতিবার এবং ৫ জুলাই কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি বিষয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভুমিকা নিয়ে বরাবরই সরব ছিল বিজেপি। তাঁদের অভিযোগ গত ৮০ বছরে এই ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। চলতি বছরে মে মাসে এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং সেই ঘটনায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার বিধানসভায় বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব পাশ হয়। সেই ঘটনা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা সম্পর্কে সকলকে সচেতন করতে গোটা রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দিবস পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৩ জুন শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিন থেকে শুরু করে ৬ জুলাই তাঁর জন্মদিবস পর্যন্ত ‘ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনের করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিজস্ব চিত্র।
এরই পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠে, মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর অবদান আরও বেশি গুরুত্ব পাবেন কিনা? রেড রোডের অনুষ্ঠান থেকে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন, ‘‘পাঠ্যক্রম উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। তাঁদের মতামত নিয়েই পাঠ্যক্রমের পরিমার্জন ও উন্নতিকরণ হবে।’’