Advertisement
E-Paper

প্রশ্নফাঁসের ৩৭ দিনের মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যু দশের বেশি পরীক্ষার্থীর, নেপথ্যে নিট পুনঃপরীক্ষা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ?

আয়োজক সংস্থার ব্যবস্থাপনার গাফিলতি এবং পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কারণেই পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নতুন করে পরীক্ষা দিলে আশানুরূপ ফল হয়তো করতে পারবেন না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৪:৩১

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

রবিবার, ২১ জুন আয়োজিত হতে চলেছে নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল করেছিল নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। তার পর থেকে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। নড়ে বসেছে কেন্দ্র। পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে তৎপরতার শেষ নেই। কাজে লাগানো হচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা ও আধাসেনাকে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে উঠে আসছে একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও। খবর, মৃতেরা সকলেই পড়ুয়া, কেউ কেউ নিট পরীক্ষার্থী।

শোনা যাচ্ছে, ১২ মে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে ২০ জুন পুনঃপরীক্ষার আগে পর্যন্ত প্রায় ১২ তরুণ-তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই নাকি তৃতীয় বা চতুর্থ বার পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ফলে অনুমান, এ বারের পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় গ্রাস করেছিল হতাশা। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, মৃত ১২ জনের মধ্যে পাঁচ জনের কাছ থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। আবার অনেকের মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি নিট জড়িয়ে না থাকলেও তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপেই চরম পদক্ষেপ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজস্থানের প্রদীপ ও উমেশ

দিন-রাত এক করে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন রাজস্থানের প্রদীপ মাহিচ। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল ২১ বছরের ওই তরুণের। দরিদ্র পরিবারের সন্তান প্রদীপ প্রথম দু’বার সফল না হওয়ায় এই বছর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বাবাকে জানিয়েছিলেন, এ বার সফল হবেনই। কিন্তু পরীক্ষার পরেই জানা যায় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, বাতিল পরীক্ষা। ১৮ মে প্রদীপের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

ওই রাজ্যেরই বাসিন্দা ২২ বছরের উমেশ মালিকেও ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ১৫ জুন। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে তিনিও আত্মঘাতী হয়েছেন।

উত্তরপ্রদেশে উদ্ধার পরীক্ষার্থীর দেহ

পুনঃপরীক্ষার আগে ১৪ মে লখিমপুর খেরি থেকে এক ২০ বছর বয়সি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, চার বছর ধরে ওই পরীক্ষার্থী নিট-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যদিও তাঁর মৃত্যু ঠিক কী কারণে হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

১৭ জুন লখনউ থেকে এক ১৭ বছর বয়সি নিট পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতার বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, ৩ মে-র পরীক্ষা ভাল হয়েছিল। তবে, এ বারের পরীক্ষা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করছিলেন ওই পরীক্ষার্থী।

নয়া দিল্লি

নয়া দিল্লির লালবাগে ২০ বছর বয়সি এক পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার হয় ১৪ মে। পরিবার সূত্রে খবর, ওই পরীক্ষার্থী তৃতীয় বারের জন্য নিট দিয়েছিলেন। এ বারের পরীক্ষায় ভাল ফল হবে, এই আশা ছিল তাঁর বাবারও।

মহারাষ্ট্র

২৫ মে মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় ১৮ বছর বয়সি এক পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন ওই পরীক্ষার্থী।

মধ্যপ্রদেশের আকাঙ্ক্ষা

মধ্যপ্রদেশের মৌগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ১৮ বছরের আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ২০ মে। খবর, এ বারের পরীক্ষায় পাশ করে পরিবারের হাল ধরবেন বলে আশায় ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা কিসান ক্রেডিট কার্ডে তিন লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, ধার করেছিলেন আত্মীয়দের কাছেও। লক্ষ্য ছিল মেয়ের উচ্চশিক্ষা।

গোয়া থেকে উদ্ধার পরীক্ষার্থীর দেহ

১২ মে ১৭ বছর বয়সি পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার হয় গোয়াতে। তাঁর শেষ চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ। সেই চিঠিতে লেখা রয়েছে, “প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আর দিতে চাই না।”

উত্তরাখণ্ডের উদ্ধার তরুণীর দেহ

উত্তরাখণ্ডে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে ১৬ জুন দেহরাদূন থেকে ২৩ বছর বয়সি রিয়া কুমারী থাপার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। পরীক্ষার্থীর লেখা শেষ চিঠিতে তিনি বলেন, “আমি তোমাদের খুব ভালবাসি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।”

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, আগের বারের প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলিতে সফল না হওয়ায় মানসিক চাপে ছিলেন তরুণী। হতাশাতেও ভুগছিলেন। সেই কারণেই তরুণী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে মনে করছে পুলিশ।

অহমদাবাদে উদ্ধার নিট পরীক্ষার্থীর দেহ

১৮ বছর বয়সি নিট পরীক্ষার্থী বহুতল থেকে পড়ে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পরীক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তূরে উদ্ধার নিট পরীক্ষার্থীর দেহ

পরীক্ষা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে নিট পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতার নাম অনুকীর্তন। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। উদ্ধার হয়েছে সুইসাইড নোটও। তবে, তাতে কী লেখা রয়েছে, তা জানাননি তদন্তকারীরা।

সর্বভারতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাশ করার জন্য পড়ুয়ারা আলাদা করে কোচিং ক্লাসে ভর্তি হন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করে নিজেদের প্রস্তুত করেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্নফাঁস হওয়া এবং নতুন করে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য মানসিক চাপের মুখে পড়ছেন অনেকেই।

সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। সংস্থার তরফে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। এ-ও জানানো হয়েছে, পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মানসিক এবং শারীরিক ভাবে পরীক্ষার্থীদের সুস্থ থাকা প্রয়োজন। তাই যে কোনও সমস্যায় তাঁরা এনটিএ-এর দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে কথা বলে নিতে পারেন।

NEET Paper Leak Case National Testing Agency
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy