ভোটকর্মীরা সকলেই ভোট দিতে পারবেন। আশ্বস্ত করল নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিযোগ ওঠে, চূড়ান্ত প্রশিক্ষণের দিনে ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা পোস্টাল ব্যালট জমা দিতে পারেননি নানা কারণে। অভিযোগ উঠেছিল, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ভোটদানের অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জেলায় বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে জেলাশাসকের তরফে। কবে কোন জেলায় ভোটকর্মীরা ভোট দিতে পারবেন তা জানানো হয়েছে সেখানে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের ভোটকর্মী শাখা এবং ভোটকর্মী ও বি এল ও ঐক্য মঞ্চের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। তারা দাবি করে, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ভগৎ সিংহ মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটকর্মীরা ভোট দিতে পারেননি। অভিযোগ, ওই স্কুলে ছোট্ট একটি ঘরের মধ্যে তিনটি বিধানসভা এলাকার ভোটকর্মীদের জমায়েত করে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। অব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, অনেকেই ভোট না দিয়ে বেরিয়ে যান। পশ্চিম মেদিনীপুরের বসন্তপুর তেলিপুকুর এলাকার একটি স্কুলে আবার তালিকায় নাম না থাকায় ভোট দিতে পারেননি বহু ভোটকর্মী।
শুক্রবার অবশ্য নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায় না। যে সব ভোটকর্মী প্রশিক্ষণের শেষ দিনে ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁরা পরেও ভোট দিতে পারবেন।” কমিশনের আইনেই এ ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যদিও ১৬ এপ্রিল যাঁরা ভোট দিতে পারেননি তাঁরা ২০-২২ পর্যন্ত ফের ভোট দিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে ২২ এপ্রিল ভোট দেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করছেন ভোটকর্মীদের একাংশ। কারণ, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। আগের দিনই তাঁদের ভোটকেন্দ্রে চলে যেতে হবে।
শিক্ষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য সরকারপন্থী আধিকারিকেরা ইচ্ছাকৃত এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘কমিশনে জানিয়েছি। পরে কবে ভোটকর্মীরা ভোট দিতে পারবেন, সব জেলায় এখনও তা জানানো হয়নি। নির্বাচন কমিশন যেন ভোটকর্মীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সুনিশ্চিত করে।’’
শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের ভোটকর্মী শাখার সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘হয়তো অধিকাংশ ভোটকর্মীই শেষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, সেই অধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকর্মীদের এত ভোগান্তির শিকার কেন হতে হবে? কমিশন এটুকু ব্যবস্থা করতে পারছেন না ?’’